বাংলাদেশ থেকে ভারতে ইলিশ রফতানির ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়ে ভারতীয় মাছ আমদানিকারকদের একটি সংগঠন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে মন্ত্রণালয়। গত ১২ আগস্ট বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের কাছে এ বিষয়ে আবেদন করেন ভারতের ফিশ ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সচিব সৈয়দ আনোয়ার মাকসুদ। এছাড়া ২৭ আগস্ট কলকাতায় বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার বরাবরও এই আবেদন জানানো হয়েছে।
চিঠিতে মাকসুদ উল্লেখ করেন, ১৯৯৬ সাল থেকে বেনাপোল ও আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ থেকে ইলিশ আমদানি করে আসছেন তারা। তবে ২০১২ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশ সরকার ইলিশ রফতানি নিষিদ্ধ করে। এরপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য বাংলাদেশ সরকারের কাছে বিভিন্ন সময়ে আবেদন করা হলেও তা কার্যকর হয়নি।
চিঠির বিষয়ে জানতে চাইলে গতকাল ফিশ ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সচিব সৈয়দ আনোয়ার মাকসুদ বণিক বার্তাকে বলেন, `আমরা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রসচিব, ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন এবং ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিকেও চিঠি দিয়েছি।‘
চিঠিতে বলা হয়, ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে দুর্গাপূজা উপলক্ষে বাংলাদেশ সরকার বিশেষ অনুমতির মাধ্যমে সীমিত সময়ের জন্য ভারতে ইলিশ রফতানির সুযোগ দিয়ে আসছে। তবে এক মাসের এই রফতানি ব্যবস্থা তাদের জন্য পর্যাপ্ত নয় বলে উল্লেখ করা হয়।
ভারতীয় আমদানিকারকদের দেয়া তথ্যে দেখা যায়, গত সাত বছরে দুর্গাপূজা উপলক্ষে বাংলাদেশ মোট ১৭ হাজার ৪২০ টন ইলিশ রফতানির অনুমতি দিয়েছে। এর বিপরীতে প্রকৃত রফতানি হয়েছে ৬ হাজার ১৬৪ টন।
এর মধ্যে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ১ হাজার ২০০ টন ইলিশ রফতানির অনুমতি দেয়া হলেও বাস্তবে রফতানি হয়েছে মাত্র ১৫০ টন। ২০২৪ সালে ২ হাজার ৪২০ টনের অনুমতির বিপরীতে রফতানি হয়েছে ৫৭৭ টন। ২০২৩ সালে ৩ হাজার ৯৫০ টনের অনুমতির বিপরীতে রফতানি হয় ৫৮৭ টন।
এছাড়া ২০২২ সালে ২ হাজার ৯০০ টনের মধ্যে ১ হাজার ৩০০, ২০২১ সালে ৪ হাজার ৬০০ টনের মধ্যে ১ হাজার ২০০ এবং ২০২০ সালে অনুমোদিত ১ হাজার ৮৫০ টনই রফতানি হয়েছিল। ২০১৯ সালে অনুমোদিত ৫০০ টন ইলিশের পুরো পরিমাণই রফতানি করা হয়।
চিঠিতে বাংলাদেশ ও ভারতীয় রাজ্য পশ্চিমবঙ্গের ভাষা, খাবার ও সংস্কৃতির মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বলা হয়, পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও ত্রিপুরার মানুষের মধ্যে বাংলাদেশের ইলিশের বিশেষ চাহিদা রয়েছে। এ অবস্থায় ইলিশ রফতানির ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়েছে সংগঠনটি।
চিঠির অনুলিপি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খানের কাছেও পাঠানো হয়েছে।









