নিখোঁজ ২ শিশু উদ্ধার: পরিবারে পৌঁছে দিলেন ছাত্রদল নেতা

17 August, 2026

প্রকাশের সময়: 06:13 pm, 17th Aug, 2026

সর্বশেষ আপডেট: 07:24 pm, 17th Aug, 2026

নিখোঁজ ২ শিশু উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিয়ে প্রশংসায় তারিক

খুলনার তেরখাদা উপজেলা থেকে নিখোঁজ হওয়া ২ শিশুকে উদ্ধার করে তাদের পরিবারের সদস্যদের হাতে নিরাপদে পৌঁছে দিয়েছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতা মো. তারিকুল ইসলাম তারিক।

১২ আগস্ট (বুধবার) খুলনার তেরখাদার নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় শিশু দুই ভাই রায়হান (১২) ও রাফি (৮)।

এরপর রাজধানী ঢাকার পশ্চিম আগারগাঁওয়ের জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে শিশু দুটির সন্ধান পাওয়া যায়।

সেখান থেকে শিশু দুটির উদ্ধারের পর পরিবারের সদস্যদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্মসাধারণ সম্পাদক মো. তরিকুল ইসলাম তারিক।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম শিপন প্রথমে জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে দেখতে পান রায়হান ও রাফিকে।

অসহায় ও ভয়ার্ত শিশু দুটির কাছ থেকে সব জানার পর তিনি ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্মসাধারণ সম্পাদক মো. তরিকুল ইসলাম তারিকের কাছে বিষয়টি তুলে ধরেন।

এরপর মো. তারিকুল দ্রুত তেরখাদা থানার সঙ্গে যোগাযোগ করে শিশুদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের ব্যবস্থা নেন। পরে শিশু দুটির বাবাকে ঢাকায় এনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তার জিম্মায় রায়হান ও রাফিকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

এদিকে, শিশু দুটির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পরিবারের সদস্যদের অতিরিক্ত বকাঝকা ও গালাগালির ফলে অভিমান করে তারা বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হল ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক তারিক শুধু তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার মধ্যেই দায়িত্ব সীমাবদ্ধ রাখেননি, তিনি শিশু দুটির মা নিরুপা বেগম ও বাবা বুলু মিয়ার সঙ্গে ঘটনার নেতিবাচক দিক নিয়ে আলোচনাও করেন।

তিনি তাদের অতিরিক্ত শাসন, বকাঝকা ও কঠোর আচরণের নেতিবাচক প্রভাব কী হতে পারে, তা তাদের সন্তানদের উদাহরণ দিয়ে দেখিয়ে দেন এবং  সেইসঙ্গে সন্তানদের সঙ্গে আরো সহনশীল, বন্ধুত্বপূর্ণ ও আন্তরিকতা দেখানোর আহ্বান জানান।

এরপর তারিক রায়হান ও রাফিসহ তাদের বাবাকে দুপুরের খাবার খাওয়ান। পাশাপাশি শিশুদের নিরাপদে খুলনায় নিজ বাড়িতে ফেরার জন্য যাতায়াতের খরচও তাদের বাবার হাতে তুলে দেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রদল নেতা তারিক বলেন, দুই শিশুকে নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে পেরে আমি স্বস্তি ও আনন্দবোধ করছি! একজন মানুষ হিসেবে বিপদে পড়া মানুষদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব; বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরো সংবেদনশীল।

সে কারণে শিশু দুটিকে উদ্ধারের পরিবারের কাছে শুধু পৌঁছে দেওয়াই নয়, তারা কেন বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল, সেটিও বোঝার চেষ্টা করেছি।

তিনি বলেন, শিশু দুটির সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি, অতিরিক্ত বকাঝকা ও কঠোর আচরণে অভিমান করেই তারা বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল।

এ সময় তিনি ‘দৈনিক সওদা’কে বলেন, সন্তানকে শাসন করার প্রয়োজন আছে, তবে সেই শাসন যেন কখনো ভালোবাসা ও নিরাপত্তাবোধকে পেছনে ফেলে না দেয়।

বাবা-মায়ের প্রতি আমার অনুরোধ- সন্তানদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ, সহনশীল ও আন্তরিকতার সম্পর্ক গড়ে তুলুন। তারা যেন কোনোভাবেই মানসিক কষ্ট না পায়। মানসিক কষ্ট পেলেও তারা যেন অভিমান করে বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার পরিবর্তে বাবা-মায়ের কাছেই নিজেদের কথা মনখুলে বলতে পারে, সে সুযোগটা পরিবারকেই দিতে হবে।

তারিক নিজের মানসিক সন্তুষ্টির কথা উল্লেখ করে বলেন, শিশু দুটির নিরাপদে নিজের পরিবারে ফিরিয়ে দেওয়াই ছিল আমাদের মূল লক্ষ্য।

তারা এখন পরিবারের কাছে ফিরেছে, এটাই সবচেয়ে বড় স্বস্তির বিষয়! ভবিষ্যতেও সামর্থ্য অনুযায়ী বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করবো এবং অন্যদেরও সেই একই পরামর্শ দেবো।

‘মানুষের জন্য কাজ করার মধ্যেই প্রকৃত মানবিকতার পরিচয়’- বলেন তারিক।

এদিকে, সন্তানদের ফিরে পেয়ে স্বস্তি ফিরেছে পরিবারটিতে। সন্তান হারানোর আতঙ্ক থেকে তাদের ফিরে পাওয়ার আনন্দ, পুরো ঘটনায় মানবিক সহায়তার একটি দৃষ্টান্ত তৈরি হয়েছে বলে সবাই মনে করছেন।

রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠেও যে বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো যায়, তার জলজ্যান্ত উদাহরণ ছাত্রদল নেতা মো. তারিকুল ইসলাম তারিক।  

সেইসঙ্গে শিশুদের নিরাপত্তা ও পারিবারিক পরিবেশে ভালোবাসা, সহনশীলতা ও বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণের গুরুত্ব উঠে আসায় ঘটনাটি মানবিক দায়িত্ববোধের একটি ইতিবাচক উদাহরণ হয়ে উঠেছে খুলনার তেরখাদা এলাকার সবার কাছে।

শেয়ার করুন!