বদলে যাচ্ছে ‘বাংলাদেশ জেল’-এর নাম

18 August, 2026

প্রকাশের সময়: 05:15 pm, 18th Aug, 2026

সর্বশেষ আপডেট: 05:15 pm, 18th Aug, 2026

বদলে যাচ্ছে ‘বাংলাদেশ জেল’-এর নাম

বদলে যাচ্ছে ‘বাংলাদেশ জেল’-এর নাম। এর পরিবর্তে এর নামকরণ করা হচ্ছে- ‘কাস্টোডিয়াল অ্যান্ড কারেকশন সার্ভিস বাংলাদেশ’।

এর কারণ হিসেবে জানানো হয়েছে, কারাগারকে শুধুমাত্র বন্দিদের আটক রাখার স্থানই নয়, বরং নিরাপত্তা, সংশোধন, মানবিকতা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং পুনর্বাসনের একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ হিসেবে এ নামকরণ করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) কারা অধিদপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে  কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

সংবাদ সম্মেলনে কারাগারের নাম পরিবর্তনের এই উদ্যোগের পাশাপাশি বিগত ২ বছরে বন্দি ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্য ও খাদ্যসেবা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কল্যাণ, প্রশিক্ষণ ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় গৃহীত বিভিন্ন সংস্কারমূলক কার্যক্রমের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।

কারা মহাপরিদর্শক জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন বলেন, বর্তমান সময়ের প্রয়োজন ও আধুনিক কারা ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কারা বিভাগের আইন ও বিধিবিধানকে যুগোপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারকে ‘ক্যাশলেস’ বা নগদ লেনদেনমুক্ত কারাগার হিসেবে কার্যক্রম চালু করা হয়েছে, যা কারা ব্যবস্থাপনায় আরো স্বচ্ছতা নিশ্চিত করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো জানান, অনেকদিন ধরে চলা জনবল সংকট দূর করতে ইতোমধ্যে ১ হাজার ৮শ ৯৯টি নতুন পদ অনুমোদন করা হয়েছে এবং আরো ১ হাজার ৫শটি পদের চাহিদা পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি পদোন্নতির  জটিলতা ও স্থবিরতাও নিরসন করা হয়েছে।

অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের বিষয়ে কারা মহাপরিদর্শক  উল্লেখ করেন, ইতোমধ্যে দুটি কেন্দ্রীয় কারাগার ও ৪টি জেলা কারাগার চালু করা হয়েছে এবং প্রশাসনিক সমন্বয় বৃদ্ধির কারণে ঢাকা বিভাগকে পুনর্বিন্যাস করে দুটি বিভাগে বিভক্ত করা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, দেশে বর্তমানে মোট ৭৫টি কারাগার রয়েছে। এর মধ্যে ২১টি কারাগারের সংস্কার প্রয়োজন।

ঢাকা জেলে রুটি তৈরির কার্যক্রম আধুনিক ও সুশৃঙ্খল করতে ‘রুটি মেকার’ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া কারাগারগুলোকে পরিবেশবান্ধব করতে বর্জ্য সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের পাশাপাশি সিলেট-১, কিশোরগঞ্জ-১ ও খুলনা নতুন কারাগারে প্রায় ১৮ হাজার গাছ রোপন করা হয়েছে।

ডিজিটালাইজেশন ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে দেশব্যাপী কারাগারগুলোকে নিজস্ব ফাইবার নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হয়েছে।

বন্দিদের টেলিফোন কল, সাক্ষাৎ এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে ভিডিও কলের মাধ্যমে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলার ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।

এছাড়া এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) প্রযুক্তির মাধ্যমে এসব কার্যক্রমে নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন বলেন, স্বাস্থ্যসেবা ও পুনর্বাসনের অংশ হিসেবে কেরানীগঞ্জে কেন্দ্রীয় কারা হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং ৫৫ জন ডিপ্লোমা নার্স পদায়নের অপেক্ষায় রয়েছেন।

এছাড়া কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২-এ সাবান উৎপাদনসহ বন্দিদের জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও উৎপাদনমুখী কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়ের প্রসঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ওই সময় দেশের বিভিন্ন কারাগার থেকে ২ হাজার ২শ ৪৭ জন কারাবন্দি পালালেও এর মধ্যে ১ হাজার ১শ ৫৭ জনকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে।

তবে নরসিংদী কারাগার থেকে পালানো বন্দিসহ এখনো ৬শ ৯০ জন পলাতক রয়েছেন। তাদেরও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

কারা মহাপরিদর্শক আশা প্রকাশ করে জানান, বর্তমান সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এই সংস্কার ও নাম পরিবর্তনের মাধ্যমে কারাগারগুলো প্রকৃত অর্থেই সংশোধনাগারে পরিণত হবে এবং দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

শেয়ার করুন!