আধুনিক সীমান্তব্যবস্থাপনা প্রবৃদ্ধি-নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

05 November, 2026

প্রকাশের সময়: 06:20 pm, 5th Nov, 2026

সর্বশেষ আপডেট: 08:19 pm, 5th Nov, 2026

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

আধুনিক সীমান্তব্যবস্থাপনা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

সেইসঙ্গে তিনি আরো বলেন, আধুনিক, সমন্বিত ও প্রযুক্তিভিত্তিক নিরাপদ সীমান্তব্যবস্থাপনা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা সুসংহত করতে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকায় হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও-এর মেঘনা হলে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) আয়োজিত ‘আইওএম স্ট্র্যাটেজিক ফ্রেমওয়ার্ক ফর ইমিগ্রেশন অ্যান্ড বর্ডার গভর্ন্যান্স ইন বাংলাদেশ (২০২৭-২০৩১) শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ব্ক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ সব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আজ বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বহির্বিশ্বের সঙ্গে যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি সংযুক্ত। এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক যাতায়াত ও বাণিজ্য সহজতর করার পাশাপাশি সীমান্ত অতিক্রমকারী ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রযুক্তিনির্ভর ও আন্তর্জাতিকমানের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে।

তিনি বলেন, সেইসঙ্গে সীমান্ত পরিচালনায় জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বৈধ ভ্রমণ ও বাণিজ্যকেও গতিশীল করতে হবে।

সরকার গৃহীত ‘ন্যাশনাল ইন্টিগ্রেটেড বর্ডার ম্যানেজমেন্ট স্ট্যাট্রেজি ২০২৬-২০৩’১ এবং ‘ফাইভ ইয়ার স্ট্র্যাটেজিক ফ্রেমওয়ার্ক ফর রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’-এর ওপর আলোকপাত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ডিজিটাল রূপান্তর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দায়িত্বশীল ব্যবহার, কাগজবিহীন প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং সরকারি সেবাগুলোর মধ্যে আন্তঃকার্যক্ষমতা বৃদ্ধিই বর্তমান সরকারের মূল অগ্রাধিকার।

এছাড়াও ইমিগ্রেশন ব্যবস্থায় বাংলাদেশ পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, নীতি ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে আমাদের বিমানবন্দর, স্থলবন্দর ও ইমিগ্রেশন চেকপোস্টগুলোর কার্যক্রমগত সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি করতে হবে। সেইসঙ্গে সীমান্ত ব্যবস্থাপনাকে কেবল প্রযুক্তিনির্ভর না করে মানবিক অধিকার ও সুরক্ষার প্রতি সংবেদনশীল এবং পেশাদার মানদণ্ডে উন্নীত করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

বহুজাতিক অপরাধ, মানবপাচার ও অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের ওপর জোর দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কোনো একক সংস্থার দায়িত্ব নয়; এ জন্য সব সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, দফতর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ উদ্যোগ প্রয়োজন। 

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইওএম-এর প্রস্তাবিত ২০২৭-২০৩১ মেয়াদের কৌশলগত রূপরেখাকে স্বাগত জানান এবং বাংলাদেশে আন্তর্জাতিকমানের সীমান্ত কাঠামো গঠনে তাদের সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

একইসঙ্গে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোকে প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সহযোগিতা বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ কেবল বাংলাদেশের সীমান্তকেই সুরক্ষিত করবে না, বরং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপদ বিশ্বায়নেও অনেক অবদান রাখবে।

আইওএম বাংলাদেশ মিশনের প্রধান ডা. লরা টম বনডে বলেন, অভিবাসন ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বাড়াতে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। সেইসঙ্গে ভ্রমণের ধরন ও কার্যক্রমের প্রয়োজনীয়তা পরিবর্তিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর ব্যবস্থা, দক্ষ জনবল এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে আরো ভালো সমন্বয়ের প্রয়োজন বাড়বে। কারিগরি দক্ষতা ও অংশীদারত্বের মাধ্যমে সরকারের অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে আইওএম সহযোগিতা করতে আগ্রহী।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক ও বহিরাগমন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান, পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. কামরুল আহসান এবং উপপুলিশ মহাপরিদর্শক মো. মোয়াজ্জেম হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং এবং ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রোসহ বিভিন্ন অংশীদার সংস্থার প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

আলোচনায় বৈধ যাতায়াত ও বাণিজ্য সহজ করার পাশাপাশি মানবপাচার, আন্তঃসীমান্ত অপরাধ এবং পরিচয় জালিয়াতির মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার উপায় নিয়ে মতবিনিময় করা হয়।

উল্লেখ্য, কৌশলগত রূপরেখাতে সম্ভাব্য সহযোগিতার ৪টি ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হয়। এগুলো হচ্ছে- সমন্বিত সীমান্তব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল ব্যবস্থা ও তথ্য আদান-প্রদান, প্রাতিষ্ঠানিক ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নির্বাচিত সীমান্ত পয়েন্টে অবকাঠামো ও সেবার উন্নয়ন।

এ কাঠামো বা রূপরেখা প্রণয়নে সরকারের ৫ বছর মেয়াদী কৌশলগত সংস্কার ও উন্নয়ন রূপরেখা (জুলাই ২০২৬-জুন ২০৩১)ও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

শেয়ার করুন!