বন্ধ শিল্প ও সেবাখাতে ২০ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কিম চালু

05 November, 2026

প্রকাশের সময়: 08:02 pm, 5th Nov, 2026

সর্বশেষ আপডেট: 08:03 pm, 5th Nov, 2026

বাংলাদেশ ব্যাংক

বন্ধ শিল্প ও সেবাখাত পুনরুজ্জীবিত করতে ২০ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কিমে পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।এ স্কিমের আওতায় ঋণ বিতরণে গতি আনতে এ নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

একই সঙ্গে অর্থপাচার, জালিয়াতি, তহবিলের অপব্যবহার ও ঋণের অর্থ অন্য খাতে সরিয়ে নেওয়ার সঙ্গে জড়িত গ্রাহকদের ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞার শর্ত যুক্ত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বাংলাদেশে কার্যরত সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জারি করা এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে।

নতুন নির্দেশনায় আগের ‘বন্ধ শিল্প ও সেবাখাত সহায়ক প্রাক-অর্থায়ন স্কিম’ নাম পরিবর্তন করে ‘বন্ধ শিল্প ও সেবাখাত সহায়ক পুনঃঅর্থায়ন স্কিম’ করা হয়েছে। ইংরেজিতে এর নাম দেওয়া হয়েছে- ‘Closed Industry and Service Sector Facilitation Re-finance Scheme’।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, এর আগে ২০২৬ সালের ৪ জুন বিআরপিডি-১ সার্কুলার নং-১৩-এর মাধ্যমে ২০ হাজার কোটি টাকার এ স্কিম গঠন করা হয়।

পরে ৭ জুলাই ও ১৭ সেপ্টেম্বর জারি করা দুটি সার্কুলার লেটারের মাধ্যমে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দেওয়া হয়। এবার স্কিমটির কার্যক্রমে গতিশীলতা আনতে কয়েকটি ধারায় সংশোধনী আনা হয়েছে।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এ স্কিমের আওতায় ঋণ নিতে আগ্রহী গ্রাহককে অর্থপাচার, জাল-জালিয়াতি, তহবিল অন্য খাতে সরিয়ে নেওয়া কিংবা ঋণের অর্থ অপব্যবহারের সঙ্গে আগে জড়িত ছিলেন না, এ মর্মে ব্যাংকের কাছে ঘোষণাপত্র দিতে হবে। ঋণ দেওয়ার আগে ব্যাংককে গ্রাহকের কাছ থেকে এ ঘোষণা সংগ্রহ করতে হবে।

ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রেও অগ্রাধিকারের বিষয়টি স্পষ্ট করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

কোনো গ্রাহক যে ব্যাংক থেকে প্রকল্প ঋণ নিয়েছেন, সেই ব্যাংক থেকেই পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন।

এ ছাড়া স্কিমের আওতায় দেওয়া ঋণ বা বিনিয়োগের সব লেনদেন গ্রাহকের এসক্রো অ্যাকাউন্ট অথবা রেভিনিউ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে। প্রকল্প ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে প্রকল্পের আয় হিসাব খোলার বিষয়ে ২০২৪ সালের ১৮ জানুয়ারি জারি করা বিআরপিডি সার্কুলার নং-০১-এর নির্দেশনাও যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে।

পুনঃঅর্থায়নের আবেদন প্রক্রিয়াতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন নিয়মে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ অথবা পর্ষদের অর্পিত ক্ষমতাবলে নির্বাহী কমিটির অনুমোদন নিয়ে ঋণ মঞ্জুর করতে হবে।

ঋণ বিতরণের পরবর্তী সপ্তাহের মধ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজপত্রসহ নির্ধারিত ছকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-৩-এর পরিচালকের কাছে পুনঃঅর্থায়নের আবেদন করতে হবে।

তবে কোনো কারণে নির্ধারিত এক সপ্তাহের মধ্যে আবেদন করা সম্ভব না হলে উপযুক্ত কারণ উল্লেখ করে পরবর্তী আরো ১৫ দিনের মধ্যে আবেদন জমা দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া আগের নির্দেশনায় বিভিন্ন স্থানে ব্যবহৃত ‘প্রাক-অর্থায়ন স্কিম’ শব্দগুচ্ছের পরিবর্তে ‘পুনঃঅর্থায়ন স্কিম’ শব্দগুচ্ছ ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংশোধিত নাম ও নির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ব্যাংকগুলোর সঙ্গে সম্পাদিত অংশগ্রহণকারী চুক্তিসহ সংশ্লিষ্ট সার্কুলার ও সার্কুলার লেটারের অন্যান্য নির্দেশনাও সংশোধিত বলে গণ্য হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এ উদ্যোগের লক্ষ্য- বন্ধ শিল্প ও সেবাখাতে অর্থায়ন কার্যক্রমকে আরো গতিশীল ও ঋণের অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা।

শেয়ার করুন!