দেশে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের জন্য পর্যাপ্ত প্রাতিষ্ঠানিক কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে না। ফলে চাকরির অপেক্ষায় না থেকে বিকল্প আয়ের পথ খুঁজছেন অনেকেই। ফ্রিল্যান্সিং, রাইডশেয়ারিং, খাবার ও পণ্য সরবরাহ, অনলাইন কনটেন্ট তৈরি এবং ই-কমার্সের মতো কাজে যুক্ত হচ্ছেন শিক্ষিত ও বেকার তরুণরা। প্রযুক্তিনির্ভর এসব কাজ পরিচিতি পেয়েছে ‘গিগ জব’ হিসেবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মোহাম্মদ শামীম ২০২২ সালে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। তখনই বুঝতে পারেন, প্রাতিষ্ঠানিক চাকরি পাওয়া সহজ হবে না এবং এর জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতে পারে। তাই নিজেকে কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে গড়ে তোলেন তিনি। কয়েক বছরের ব্যবধানে এ কাজ থেকে তাঁর মাসিক আয় এখন চাকরিজীবী অনেক সহপাঠীর আয়ের সমপর্যায়ে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, চট্টগ্রামের একটি কলেজের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী মিরাজ হাসান পরিবারের আর্থিক দায়িত্ব সামলাতে যুক্ত হয়েছেন মোটরসাইকেল রাইডশেয়ারিংয়ে।
নির্দিষ্ট কাজ, প্রকল্প, অর্ডার কিংবা সেবার ভিত্তিতে পারিশ্রমিক পাওয়ার ব্যবস্থা হলো গিগ জব। এসব কাজে সাধারণত স্থায়ী নিয়োগের প্রয়োজন হয় না। প্রযুক্তিনির্ভর প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে কর্মী ও গ্রাহকের মধ্যে যোগাযোগ তৈরি হওয়ায় এ ধরনের কাজের সুযোগ বাড়ছে। তবে আয়ের অনিশ্চয়তা, সামাজিক সুরক্ষার অভাব এবং শ্রমিকের অধিকার নিশ্চিত করা নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, গত এক দশকে দেশের শ্রমবাজারে প্রবেশ করেছেন প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ তরুণ। তাঁদের মধ্যে কর্মসংস্থান হয়েছে ৮৭ লাখের। বাকিদের একটি অংশ রাইডশেয়ারিং, ফ্রিল্যান্সিং ও খাবার সরবরাহের মতো কাজে যুক্ত হয়ে নিজেদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করছেন। উচ্চ বেকারত্ব, সীমিত চাকরির সুযোগ এবং বাড়তি আয়ের প্রয়োজন তরুণদের এ খাতের প্রতি আগ্রহী করে তুলছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, সদ্য স্নাতক, চাকরিপ্রত্যাশী এবং বাড়তি আয়ে আগ্রহীদের বড় একটি অংশ গিগ অর্থনীতিতে যুক্ত হচ্ছেন। ফ্রিল্যান্সিংয়ে গ্রাফিক ডিজাইন, সফটওয়্যার উন্নয়ন, ডিজিটাল মার্কেটিং, অনুবাদ, কনটেন্ট রাইটিং ও ডেটা এন্ট্রির মতো কাজ করছেন তাঁরা। অন্যদিকে রাইডশেয়ারিং, খাবার ও পণ্য সরবরাহের মাধ্যমেও আয় করছেন অনেকে। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের বিস্তারে ফ্রিল্যান্সিংয়ের কিছু কাজ ভবিষ্যতে ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
দেশে গিগ জবে মোট কত মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে, তার নির্ভরযোগ্য কোনো সরকারি পরিসংখ্যান নেই। তবে বিভিন্ন ই-কমার্স, রাইডশেয়ারিং প্রতিষ্ঠান ও অনলাইন মার্কেটপ্লেসের তথ্য অনুযায়ী, এ খাতে কর্মসংস্থানের সংখ্যা প্রায় ৩৫ থেকে সাড়ে ৩৭ লাখ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্সেস বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মঈনুল ইসলাম বলেন, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিপুলসংখ্যক শিক্ষিত তরুণ চাকরির বাজারে প্রবেশ করলেও তাঁদের জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান নেই। এ পরিস্থিতিতে গিগ অর্থনীতি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হয়ে উঠছে। তবে এসব কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিরা সাধারণত চুক্তিভিত্তিক হওয়ায় তাঁদের অধিকার ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়েছে। এ জন্য প্রয়োজন নির্দিষ্ট আইনগত ও নিয়ন্ত্রণমূলক কাঠামো।
রাইডশেয়ারিংয়ে বড় কর্মসংস্থান
দেশের শীর্ষস্থানীয় রাইডশেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম উবারের ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ২০২৪ সালে বাংলাদেশে তাদের প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ২১ লাখ ৪০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, বিকল্প কর্মসংস্থানের তুলনায় উবারের কর্মীরা ৪২ শতাংশ বেশি আয় করেন। তবে এ সংখ্যার মধ্যে কতজন শুধু উবারের ওপর নির্ভরশীল, তার সুনির্দিষ্ট হিসাব পাওয়া যায়নি। মাঠপর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, অন্য পেশায় যুক্ত ব্যক্তিরাও অতিরিক্ত আয়ের জন্য উবারে নিবন্ধন করে নিজেদের কিংবা অন্যের গাড়ি চালান।
দেশের আরেকটি বড় রাইডশেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম পাঠাও। প্রতিষ্ঠানটির অ্যাপের মাধ্যমে বাইক, কার ও সিএনজি অটোরিকশা সেবার পাশাপাশি খাবার সরবরাহ, কুরিয়ার, পার্সেল এবং পেমেন্ট সেবা দেওয়া হয়। পাঠাওয়ের তথ্য অনুযায়ী, এসব সেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মীর সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ৪০ হাজার।
ফ্রিল্যান্সিংয়ে সাড়ে ছয় লাখ সক্রিয় কর্মী
দেশে গ্রাফিক ডিজাইন, সফটওয়্যার উন্নয়ন, ডিজিটাল মার্কেটিং, অনুবাদ, কনটেন্ট রাইটিং ও ডেটা এন্ট্রির মতো কাজে যুক্ত ফ্রিল্যান্সারের সংখ্যা প্রায় ১১ লাখ ৫০ হাজার। তাঁদের মধ্যে সক্রিয় ফ্রিল্যান্সার প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) এক প্রতিবেদনেও বাংলাদেশে অনলাইন ফ্রিল্যান্সারের সংখ্যা ৬ লাখ ৫০ হাজারের কিছু বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ খাতের কর্মীদের বড় একটি অংশ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে স্নাতক কিংবা সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে কাজ শুরু করেছেন। অনলাইন ফ্রিল্যান্সিং থেকে বার্ষিক আয়ের হিসাবে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। বিশ্বব্যাংক ও অক্সফোর্ড ইন্টারনেট ইনস্টিটিউটের যৌথ গবেষণা অনুযায়ী, বৈশ্বিক ফ্রিল্যান্সিং বাজারের ১৬ শতাংশ কর্মী বাংলাদেশের। এ ক্ষেত্রে শীর্ষে রয়েছে ভারত।
বিডিজবস ডটকমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা একেএম ফাহিম মাশরুর বলেন, গিগ কর্মসংস্থান দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে। রাইডশেয়ারিং, ডেলিভারি ও ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে অনেকে নিজেদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করছেন। এতে বেকারত্ব কিছুটা কমার পাশাপাশি অর্থনীতিতেও অবদান রাখছেন তাঁরা। তবে এ খাতে কত মানুষ কাজ করছেন, তার সঠিক পরিসংখ্যান নেই। গত ১৫ থেকে ২০ বছর ধরে মানুষ বিভিন্ন গিগভিত্তিক কাজে যুক্ত হলেও এআইয়ের বিস্তার ফ্রিল্যান্সারদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
খাদ্য সরবরাহ খাতেও বাড়ছে কর্মসংস্থান
দেশের অনলাইন খাবার, গ্রোসারি ও পার্সেল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ফুডপান্ডায় নিবন্ধিত রাইডারের সংখ্যা দেড় লাখ। তাঁরা ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করছেন। তবে দেশে খাবার সরবরাহ খাতে এর বাইরেও বিপুলসংখ্যক কর্মী যুক্ত রয়েছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ফুডপান্ডা বাংলাদেশ-এর হেড অব পাবলিক অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস জাহেদুল ইসলাম বলেন, খাবার সরবরাহের প্ল্যাটফর্মগুলো গিগ অর্থনীতির বিকাশ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখছে। এসব প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে রাইডাররা নিজেদের সুবিধামতো কাজ করে আয় করতে পারছেন। একই সঙ্গে রেস্টুরেন্ট, ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠান এবং নারী উদ্যোক্তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণেও সহায়তা করছে এ খাত।
তিনি জানান, রাইডারদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে ফুডপান্ডার ‘প্যান্ডাহার্টস’ কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ব্যক্তিগত দুর্ঘটনাবিমা, স্বাস্থ্যসেবা এবং আর্থিক ও ডিজিটাল সহায়তা। সপ্তাহে অন্তত একটি ডেলিভারি সম্পন্ন করলেই সক্রিয় রাইডাররা দুর্ঘটনাবিমার আওতায় আসেন। এ সুবিধার পুরো ব্যয় বহন করে প্রতিষ্ঠানটি। এ ছাড়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে রাইডাররা ছাড়ে চিকিৎসাসেবা, বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও টেলিমেডিসিন সুবিধা পাচ্ছেন।
বাজারের আকার দেড় বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত
দেশে গিগ অর্থনীতির বাজারের আকার নিয়েও নির্ভরযোগ্য কোনো পরিসংখ্যান নেই। তবে বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এ খাতের বার্ষিক বাজারের আকার ১ থেকে দেড় বিলিয়ন ডলার। মুম্বাইভিত্তিক বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ট্র্যাক্সন টেকনোলজিস লিমিটেডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশের গিগ অর্থনীতিতে ২৯২টি কোম্পানি রয়েছে। এর মধ্যে ২৭টি প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন পর্যায়ে বিনিয়োগ পেয়েছে। এসব কোম্পানি সম্মিলিতভাবে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ও প্রাইভেট ইকুইটি থেকে ৮ কোটি ৫৭ লাখ ডলার সংগ্রহ করেছে।
পাঠাও, চালডাল, সহজ, ট্রাক লাগবে ও রমণী এ খাতের উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠান। ২০১৭ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত এ খাতে মোট ৮৫ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ আসে ২০২১ সালে, যার পরিমাণ ছিল ২৫ দশমিক ৯ মিলিয়ন ডলার।
দক্ষতা ও নীতিমালার ওপর গুরুত্ব
গিগ অর্থনীতির সম্ভাবনা কাজে লাগাতে দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণ এবং ডিজিটাল উদ্যোক্তা তৈরির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা বলেন, ডিজিটাল অর্থনীতির বিকাশের সঙ্গে গিগ অর্থনীতি তরুণদের কর্মসংস্থান ও আয়ের নতুন সুযোগ তৈরি করছে। এ সম্ভাবনাকে টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে দক্ষতা উন্নয়ন, স্টার্টআপ এবং প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে ফ্রিল্যান্সার ও প্ল্যাটফর্মভিত্তিক কর্মীদের আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়ানো সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) তথ্য অনুযায়ী, দেশে তরুণদের সামগ্রিক বেকারত্বের হার ১২ থেকে ১৩ শতাংশের মধ্যে। উচ্চশিক্ষিতদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। শিক্ষার সঙ্গে শ্রমবাজারের চাহিদার অসামঞ্জস্য এবং দক্ষতার ঘাটতির কারণে অনেক শিক্ষিত তরুণ দীর্ঘ সময় উপযুক্ত চাকরি পাচ্ছেন না। ফলে তাঁদের একটি অংশ গিগ জবের দিকে ঝুঁকছেন।
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, প্রচলিত অনানুষ্ঠানিক খাতের তুলনায় গিগ অর্থনীতির সঙ্গে আধুনিক অর্থনীতির সম্পৃক্ততা বেশি। কৃষিকাজ, রিকশা চালানো কিংবা ছোট ব্যবসার তুলনায় এ খাতে আয়ের সুযোগও তুলনামূলক বেশি। যদিও আয়ের অনিশ্চয়তা রয়েছে, তবু একে নেতিবাচকভাবে দেখার সুযোগ নেই। উচ্চশিক্ষিত কোনো তরুণ চাকরি না পেয়ে রাইডশেয়ারিং কিংবা খাবার সরবরাহের কাজে যুক্ত হলে সেটিও কর্মসংস্থানের একটি নতুন সুযোগ। তবে গিগ অর্থনীতির বাজার বড় হলেই যে ব্যাপক কর্মসংস্থান তৈরি হবে, তা নিশ্চিত নয়।
এদিকে গিগ কর্মীদের একটি কাঠামোর আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার বলেন, গিগ বা প্ল্যাটফর্ম অর্থনীতি বাংলাদেশের জন্য তুলনামূলক নতুন বিষয়। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলনেও এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ইউরোপের দেশগুলোও এখনো এ খাতের জন্য পুরোপুরি কার্যকর কাঠামো গড়ে তুলতে পারেনি। বাংলাদেশও বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে।
তিনি বলেন, দেশে রাইডশেয়ারিং, খাবার সরবরাহ ও আউটসোর্সিংয়ের মতো প্ল্যাটফর্মভিত্তিক কাজের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। এসব কাজে নিয়োজিত অনেকেরই সরাসরি কোনো নিয়োগকর্তা নেই। যেমন, বাংলাদেশে বসেই কেউ যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রতিষ্ঠানের হয়ে আউটসোর্সিংয়ের কাজ করতে পারেন। তাই এসব কর্মীর কর্মসংস্থান, অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে উপযুক্ত নীতিমালা প্রণয়নের প্রয়োজন রয়েছে।
সব মিলিয়ে গিগ অর্থনীতি তরুণদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান ও আয়ের সুযোগ তৈরি করলেও এ খাতের দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব নির্ভর করছে দক্ষতা উন্নয়ন, ন্যায্য পারিশ্রমিক, সামাজিক সুরক্ষা এবং কার্যকর নীতিমালা প্রণয়নের ওপর।








