হজযাত্রায় কমছে বিমানভাড়া : কোটা বাড়াতে সৌদিকে চিঠি

01 November, 2026

প্রকাশের সময়: 09:26 pm, 1st Nov, 2026

সর্বশেষ আপডেট: 09:26 pm, 1st Nov, 2026

আগামী বছরের হজযাত্রা আরও সাশ্রয়ী ও সহজ করতে বিমানভাড়া কমানো, আবাসন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং হজের কোটা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ২০২৭ সালের হজে বিমানভাড়া ২৪ হাজার ৮৩০ টাকা কমিয়ে এক লাখ ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশের জন্য অতিরিক্ত হজ কোটা বরাদ্দের অনুরোধ জানিয়ে সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

রোববার বেলা ১১টায় ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)। এ সময় ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার উপস্থিত ছিলেন।

ধর্মমন্ত্রী জানান, ২০২৭ সালের হজের বিমানভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। ২০২৬ সালের তুলনায় এই ভাড়া ২৪ হাজার ৮৩০ টাকা কম। এর আগে ২০২৩ সালে হজের বিমানভাড়া ছিল ১ লাখ ৯৭ হাজার ৭৯৭ টাকা।
হজযাত্রায় কমছে বিমানভাড়া, কোটা বাড়াতে সৌদিকে চিঠি
মন্ত্রী-উপদেষ্টাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক শেষে পোশাক কারখানা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা

তিনি বলেছেন, আগামী হজে সরকারি ব্যবস্থাপনায় যাওয়া হজযাত্রীদের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্মত আবাসন নিশ্চিত করতে ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত প্রতিনিধি দল কাজ করেছে। এ উদ্যোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

আসন্ন হজে বাংলাদেশের জন্য অতিরিক্ত কোটা বরাদ্দের আবেদন জানানো হয়েছে উল্লেখ করে ধর্মমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রীর কাছে ইতোমধ্যে চিঠি পাঠানো হয়েছে। কোটা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ ও প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ২০২৬ সালের হজ ব্যবস্থাপনায় আর্থিক সাশ্রয়ের বিষয়েও তথ্য তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি জানান, ওই মৌসুমে উদ্বৃত্ত অর্থ হিসেবে ৪ হাজার ৩৪১ জন হজযাত্রীর মোট ৪ কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার ১৪ টাকা তাঁদের নিজ নিজ ব্যাংক হিসাবে ফেরত দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া ২০২৬ সালের হজ মৌসুমে ৩৪০ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর ইন্স্যুরেন্স কাভারেজের বাইরে চিকিৎসা ব্যয়ের জন্য সৌদি কর্তৃপক্ষের কেটে রাখা ৩০ লাখ ৯১ হাজার ২৪৩ সৌদি রিয়াল ফেরত পাওয়া গেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১০ কোটি ২৩ লাখ টাকা।

ধর্মমন্ত্রী বলেন, বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যাওয়া ৩১০ জনের জন্য কেটে রাখা ২৯ লাখ ৭৬ হাজার ১৫১ সৌদি রিয়াল এবং সরকারি ব্যবস্থাপনায় যাওয়া ৩০ জনের জন্য কেটে রাখা ১ লাখ ১৫ হাজার ৯২ সৌদি রিয়াল ফেরত এসেছে। গত ২৯ অক্টোবর অর্থটি বাংলাদেশ হজ অফিস, জেদ্দার নুসুক (Nusuk) সিস্টেমে জমা হয়েছে।

তিনি জানান, বিষয়টি জানার পর ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বাংলাদেশ হজ অফিস, জেদ্দা সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিক দফায় যোগাযোগ, তথ্য যাচাই ও আলোচনা করা হয়। অর্থ ফেরতের অনুরোধও অব্যাহত রাখা হয়েছিল।

ধর্মমন্ত্রী বলেন, ‘হজযাত্রীদের আর্থিক স্বার্থ রক্ষা এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের ক্ষেত্রে অর্থ ফেরত পাওয়ার এ উদ্যোগ জনাব তারেক রহমান সরকারের একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য।’

অর্থ ফেরতের উদ্যোগে সহযোগিতার জন্য সৌদি আরবের রাজকীয় সরকার, দেশটির হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। একই সঙ্গে দুই দেশের বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

হজযাত্রীদের স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করে ধর্মমন্ত্রী বলেন, ক্যানসার, কিডনি জটিলতা, মানসিক ভারসাম্যহীনতা এবং অন্তঃসত্ত্বা নারীদের হজে পাঠানোর বিষয়ে সৌদি প্রশাসনের কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ অসুস্থ ব্যক্তিদের হজে পাঠানো হয়, যার ফলে নানা জটিলতা তৈরি হয়। তাই এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে এবং ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের হজে না পাঠাতে সব হজ এজেন্সিকে আহ্বান জানান তিনি।

মন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনায় সরকার হজ ব্যবস্থাপনাকে সহজ, স্বচ্ছ ও সেবামুখী করতে কাজ করছে। হজ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত সব প্রতিষ্ঠানকে হজযাত্রীদের কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

হজযাত্রীদের আর্থিক অধিকার সুরক্ষা, সেবার মানোন্নয়ন, নিরাপত্তা এবং ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সরকারের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলেও জানান ধর্মমন্ত্রী।

উল্লেখ্য, সংবাদ সম্মেলনে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন!