এমপিওভুক্তির দাবিতে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করছেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা।
বাংলাদেশ নন-এমপিও (বেতন-বিহীন) শিক্ষক-কর্মচারী পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) সকাল ৯টা থেকে শহীদ মিনার এলাকায় জড়ো হয়ে তারা কর্মসূচি শুরু করেন।
পরে সকাল ১১টা ২০ মিনিটে ৪ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল পুলিশের সহায়তায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যান।
এ প্রতিনিধি দলে রয়েছেন- সংগঠনের সদস্যসচিব মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, আহ্বায়ক সামিয়া জাহান পান্না, পটুয়াখালীর বরোদিয়া ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. আব্দুল লতিফ এবং সিলেটের গোলকপুর হাজী আব্দুল হাফিজ স্কুল অ্যান্ড কলেজের মো. কবির উদ্দিন।
ননএমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির দাবিতে সোমবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে অবস্থান ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালনের অনুমতি দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
রোববার (২৩ আগস্ট) সংগঠনের পক্ষ থেকে করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শর্তসাপেক্ষে এ অনুমতি দেওয়া হয়।
ডিএমপির অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (অপারেশনস) মো. মাহবুব হোসেন কামালের সই করা অনুমতিপত্রে নির্ধারিত সময় ও স্থানে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়। কর্মসূচি পালনে পুলিশ মোট ২১টি শর্ত দিয়েছে।
শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে- অনুমোদিত স্থানের বাইরে কোথাও কর্মসূচি পালন করা যাবে না এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কর্মসূচি শেষ করতে হবে।
এ ছাড়া ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে এমন বক্তব্য বা প্রচার, উস্কানিমূলক বক্তব্য এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে, এমন কোনো কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
কর্মসূচিতে কোনো ধরনের মাদকদ্রব্য ব্যবহার না করা, আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়, এমন কর্মকাণ্ড না করা এবং পুলিশের নির্দেশনা মেনে চলার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
মানববন্ধন চলাকালে সংগঠনের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে।
অনুমতিপত্রে আরো বলা হয়েছে, কর্মসূচির কারণে জনসাধারণের চলাচলে কোনো ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি করা যাবে না। অনুমোদিত স্থানের বাইরে কাউকে মানববন্ধন করতে দেওয়া যাবে না। কোনো বিশৃঙ্খলা বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে এর দায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে।
কর্মসূচীর বিষয়ে ননএমপিও শিক্ষক-কর্মচারী পরিষদের সদস্যসচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বছরের পর বছর ননএমপিও শিক্ষক-কর্মচারীরা বেতন-ভাতা ছাড়াই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করছেন।
আমাদের একটাই দাবি, সেটি হচ্ছে- যোগ্য ননএমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে এমপিওভুক্ত করে শিক্ষক-কর্মচারীদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা।
তিনি বলেন, দাবি আদায় না-হওয়া পর্যন্ত আমরা ধারাবাহিকভাবে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চালিয়ে যাবো।








