দিল্লিতে পুলিশি বাধায় আওয়ামী লীগ নেতাদের সেমিনার ভণ্ডুল

30 August, 2026

প্রকাশের সময়: 07:47 pm, 30th Aug, 2026

সর্বশেষ আপডেট: 07:47 pm, 30th Aug, 2026

দিল্লিতে পুলিশি বাধায় আওয়ামী লীগ নেতাদের সেমিনার ভণ্ডুল

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবে (এফসিসি) বাংলাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা একটি সেমিনারের আয়োজন সেখানকার পুলিশি বাধায় ভণ্ডুল হয়ে গেছে।

এফসিসি’র বিবৃতির বরাত দিয়ে রোববার (৩০ আগস্ট) বিবিসি এ খবর জানায়।

এ বিষয়ে বিবিসি জানিয়েছে, শনিবার সন্ধ্যায় এফসিসি এক বিবৃতিতে জানায়, দিল্লি পুলিশ শেষ মুহূর্তে অনুষ্ঠানটির অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণেই সেমিনারটি বাতিল করতে হয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতারা।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সেমিনার আয়োজনের বিষয়টি নিয়ে এফএফসিসি’র পক্ষ থেকে আগেই তাদের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করা হয়েছিল। সেখানে বিষয়বস্তু ও কারা বক্তব্য দেবেন, সে বিষয়গুলোও লিফলেট উল্লেখ ছিল।

এই সেমিনারে অন্যান্য বক্তাদের মধ্যে উপস্থিত থাকার কথা ছিল বাংলাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক সেলিম মাহমুদের।

এছাড়া, মানবাধিকারকর্মী, গবেষক এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের সাবেক হাইকমিশনার বীণা সিক্রিসহ আরো বেশ কয়েকজনের এই সেমিনারে বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল।

ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ নন্দ জানিয়েছেন, তারা শুধু আমাদের বলেছেন, এই অনুষ্ঠান করার অনুমতি নেই। তবে ঠিক কী কারণে অনুমতি নেই বা কারা বন্ধ করেছে, তারা সেটি জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

তবে এ নিয়ে দিল্লি পুলিশের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

দিল্লি পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন, অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কা থাকলে পুলিশ যেকোনো সময়ে যেকোনো অনুষ্ঠান বাতিল করার অধিকার রাখে।

এ নিয়ে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এর আগে ৫ আগস্ট এফসিসি দিল্লিতে একটি সেমিনারের আয়োজন করেছিল। সেসময় বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সে অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি বক্তব্যও দিয়েছিলেন।

তার ওই বক্তব্যের পর এ নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিল ঢাকা। এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে সে সময় টানাপোড়েনের সৃষ্টি হয়।

তবে বিবিসি বাংলার দিল্লি সংবাদদাতা শুভজ্যোতি ঘোষ জানিয়েছেন, ৫ আগস্টের অভিজ্ঞতার পর হয়ত দিল্লি আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রকাশ্যে কোনো অনুষ্ঠান করতে দিতে চাইছে না বলেই মনে করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের সাবেক কূটনীতিকরা তার এ বক্তব্যকেই সমর্থন করেছেন। তারা মনে করছেন, শেখ হাসিনার ওই বক্তব্যের পর দিল্লি ও ঢাকার সম্পর্ক আরো তিক্ত আকার ধারণ করে। সে কারণে প্রায় একই রকম আরেকটি অনুষ্ঠান হোক, সেটি দিল্লি চায়নি।

সেমিনারের বিষয়বস্তু

দিল্লিতে শনিবার যে সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছিল, সেটির বিষয় ছিল ‘ইউরোপ অ্যান্ড এশিয়া: ফ্রম ডায়লগ টু এ পার্টনারশিপ।

‘ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়া (এফসিসি) মূলত দিল্লিতে বিদেশি সংবাদমাধ্যমের সংবাদকর্মীদের একটি সংগঠন।

২৭ আগস্ট ফরেন করসপনডেন্ট ক্লাবের এক্স হ্যান্ডেলে (সাবেক টুইটার) একটি পোস্টে জানানো হয়, এফসিসি’র পাশাপাশি এই সেমিনারটির যৌথ আয়োজক হিসেবে রয়েছে, বেলজিয়ামভিত্তিক ‘হ্যান্ড-ইন-হ্যান্ড ফাউন্ডেশন’ নামে একটি সংগঠন।

এফসিসি’র ঘোষণা অনুযায়ী, শনিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত নয়াদিল্লির ‘স্যার মার্ক টালি অডিটোরিয়াম’-এ এ সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।

সেমিনারের জন্য এফসিসি যে অনলাইন প্রচারপত্র তৈরি করে এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করা হয়েছিল, সেখানে প্যানেল বক্তাদের তালিকায় ছিলেন- বাংলাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সেলিম মাহমুদ, বাংলাদেশি-মার্কিনি বিজ্ঞানী ও মানবাধিকার কর্মী নূরান নবী, রোহিঙ্গা অধিকার কর্মী ও রোহিঙ্গা ইউনাইটেড ইয়ুথ নেটওয়ার্ক’-এর সভাপতি রবি আলম, ইউনাইটেড ডিপ্লোম্যাটিক কাউন্সিলের সভাপতি আসিফ ইকবাল।

এছাড়া, এই সেমিনারের আলোচক হিসেবে নাম ছিল, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের সাবেক হাইকমিশনার বীণা সিক্রি, ঢাকায় নিযুক্ত জার্মানির সাবেক রাষ্ট্রদূত পিটার ফারেনহোল্টজ, চেক রাজনীতিবিদ ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ওন্দ্রেজ দোস্তাল ও এফসিসি-আইএপিসি গ্লোবাল ফোরামের চেয়ারম্যান ভেঙ্কট নারায়ণ।

এই সেমিনারের আলোচক ও আওয়ামী লীগের নেতা সেলিম মাহমুদের সঙ্গে চেষ্টা করেও বিবিসি যোগাযোগ করতে পারেনি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করো হয়েছে।

শেয়ার করুন!