গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের কর্মসূচি ও তাদের দাবিদাওয়া নিয়ে পোস্ট দেওয়ায় এক পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করে সদর দফতরে সংযুক্ত করা হয়েছে।
ওই কর্মকর্তার নাম খন্দকার জালাল উদ্দীন মাহমুদ। তিনি জিএমপি কমিশনারের স্টাফ অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
এ বিষয়ে জিএমপি কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার সাংবাদিকদের জানান, পোস্টটি কর্তৃপক্ষের অজান্তেই আপলোড করা হয়েছিল। তিনি পেজটির অ্যাডমিন হলেও বিষয়টি প্রকাশ করার আগে অনুমোদন নেওয়া দরকার ছিল।
তিনি বলেন, আমাদের উপপুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) এবং কমিশনারের কার্যালয় রয়েছে। অনুমোদন না নেওয়ার কারণে আপাতত তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চ উপলক্ষে গাজীপুর মহানগরীর ভোগড়া বাইপাস মোড়ে একটি পথসভার আয়োজন করা হয়। সেখানে বিরোধী দলের নেতা শফিকুর রহমান বক্তব্য রাখেন।
এই পথসভা শেষ হওয়ার পর জিএমপির অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে লংমার্চ নিয়ে একটি পোস্ট দেওয়া হয়। ওই পোস্টে লংমার্চের গন্তব্য ও জোটের আট দফা দাবি তুলে ধরা হয়।
পোস্টটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের একটি অংশ পোস্টটির বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তোলেন।
পরে জিএমপির অফিসিয়াল পেজ থেকে পোস্টটি প্রথমে সংশোধন এবং পরবর্তীতে সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপরই খন্দকার জালাল উদ্দীন মাহমুদকে প্রত্যাহার ও শোকজ করা হয়।
জিএমপির ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ তাহেরুল হক চৌহান বলেন, ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হওয়ায় ভারপ্রাপ্ত স্টাফ অফিসারকে প্রত্যাহার করে হেডকোয়ার্টারে সংযুক্ত করা হয়েছে।
তিনি জানান, জিএমপির মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অফিসিয়াল যোগাযোগের ক্ষেত্রে প্রতিটি বক্তব্য ও তথ্য প্রকাশের আগে যথাযথ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় থাকা জরুরি।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা পোস্ট দেওয়ার আগে অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিষয়টি আলোচনা করেননি। এ কারণে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে প্রাথমিকভাবে তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।








