রাজধানী ঢাকার ইসিবি চত্বর এলাকার নিউ গিনি প্রপার্টিজে হামলার ঘটনায় অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরী গ্রেফতার হয়েছেন।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটে রমনা থানার সেগুনবাগিচার একটি বাসা থেকে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) তাকে গ্রেফতার করে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম গ্রেফতারের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, ডিবি গুলশান বিভাগের একটি দল অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরী করে। গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরী ক্যান্টনমেন্ট থানায় করা মামলাটির ৪ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি।
নিউ গিনি প্রপার্টিজে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও গোলাগুলির ঘটনায় এর আগে আরো ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে ক্যান্টনমেন্ট থানা-পুলিশ ও ডিবি।
ইসিবি চত্বর এলাকার নিউ গিনি প্রপার্টিজে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউনফিশ’ স্টুডিও ছাড়াও আবাসন প্রকল্পের কার্যালয় ও আশপাশের স্থাপনায় হামলা হয়।
এ ঘটনায় পুলিশ জানায়, জমি নিয়ে একজন আবাসন নির্মাতা এবং এক অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তার বিরোধের জেরে এ হামলা হয়ে থাকতে পারে।
এ ঘটনায় ২৭ সেপ্টেম্বর নিউ গিনি প্রোপার্টিজের পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া অজ্ঞাতপরিচয় ১শ ৫০ থেকে ২শ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। দণ্ডবিধির ১৪৩, ১৪৭, ১৪৮, ১৪৯, ৪৪৭, ৪৪৮, ৩২৩, ৩২৪, ৩২৫, ৩২৬, ৩০৭, ৩৭৯, ৩৮০, ৪২৭, ১১৪ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।
বাদীর অভিযোগ, জমি দখল ও পূর্বশত্রুতার জেরে আসামিরা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে প্রকল্পে ঢুকে গুলি চালিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন এবং প্রকৌশলী ও নিরাপত্তাকর্মীদের মারধর করেন।
মামলায় এজাহারে বলা হয়, ২৬ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১১টা ২০ মিনিটে বাদী প্রকল্প এলাকায় অবস্থান করছিলেন।
এ সময় ১ নম্বর আসামি শাহরিয়ার মাহমুদের ইন্ধন ও নির্দেশে অন্য আসামিরা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে প্রকল্প এলাকায় প্রবেশ করেন। তাদের হাতে শটগান, রিভলবার, চাপাতি, রামদা, ছোরা, রড ও লাঠিসোঁটা ছিল।
এজাহারে বলা হয়, হামলাকারীরা প্রায় ৫০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন। এ সময় প্রকল্পের শ্রমিক ও নিরাপত্তাকর্মীরা প্রাণভয়ে ছোটাছুটি শুরু করেন। বাদীও নির্মাণাধীন ভবনের ভেতরে আশ্রয় নেন।
বাদীর অভিযোগ, হামলাকারীরা প্রকল্পের সাইট ইঞ্জিনিয়ার মো. পারভেজকে মারধর করে জখম করেন।
২ নম্বর আসামি আবুল কাশেম রিভলবারের মাথা দিয়ে পারভেজের মাথায় আঘাত করেন। পারভেজকে রক্ষায় এগিয়ে এলে প্রকল্পের নিরাপত্তাকর্মী সৈয়দ নজরুল ইসলামকেও মারধর করা হয়।
অন্য আসামিরা প্রকল্পের মূল ফটকে ১০ রাউন্ড গুলি করেন। এ সময় লোহার গেট, থাই গ্লাস ও কাচের গেট ভাঙচুর করা হয়। এরপর হামলাকারীরা প্রকল্পের অফিসকক্ষে ঢুকে ভাঙচুর চালায়।
বাদীর অভিযোগ, অফিসকক্ষের লকার ভেঙে নির্মাণসামগ্রী কেনার জন্য রাখা ২৫ লাখ টাকা লুট করা হয়।
মামলার এজাহারে নাম থাকা বাকি আসামিরা হলেন- বাবুল হোসেন, মোহাম্মদ শাহিনুজ্জামান, মতিউর রহমান, মজিবুর রহমান, নুরুল ইসলাম, মিজানুর রহমান, এমকে আজাদ, মামুন, আসলাম ও মুন্না।








