চিকিৎসাবিজ্ঞান ও শারীরতত্ত্বে নোবেল পেলেন ৩ বিজ্ঞানী

05 October, 2026

প্রকাশের সময়: 04:13 pm, 5th Oct, 2026

সর্বশেষ আপডেট: 04:13 pm, 5th Oct, 2026

চিকিৎসাবিজ্ঞান ও শারীরতত্ত্বে নোবেল পেলেন ৩ বিজ্ঞানী

২০২৬ সালের চিকিৎসাবিজ্ঞান ও শারীরতত্ত্বে যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার লাভ করেছেন ৩ বিজ্ঞানী- কার্ল ডাইসেরোথ, পিটার হেগেম্যান ও জর্জ নাজেল।

সুইডেনের কারোলিনস্কা ইনস্টিটিউটের নোবেল অ্যাসেম্বলি সোমবার (৫ অক্টোবর) এ পুরস্কার ঘোষণা করে।

উন্মোচিত হলো অপটোজেনেটিকস

লাইভ বা জীবন্ত মস্তিষ্কে স্নায়ুকোষ কীভাবে স্মৃতি, অনুভূতি ও আচরণ গঠন করে, তা উন্মোচনের প্রযুক্তি ‘অপটোজেনেটিকস’ উদ্ভাবনের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৬ সালের চিকিৎসাবিজ্ঞান (ফিজিওলজি ও মেডিসিন) বিভাগে নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে।

এ পদ্ধতির মাধ্যমে কোনো জীবন্ত প্রাণীর মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষগুলোর কার্যকলাপ সরাসরি পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়।

স্নায়ুবিজ্ঞানে নতুন যুগের সূচনা: এককোষী শৈবালের প্রোটিন থেকে আলোর সাহায্যে স্নায়ুকোষ নিয়ন্ত্রণের কৌশল আবিষ্কার

এককোষী শৈবালে ‘চ্যানেলরোডোপসি’ন নামে এক বিস্ময়কর প্রোটিনের সন্ধান পেয়েছেন পিটার হেগেম্যান এবং জর্জ নাজেল।

পরবর্তীতে স্নায়ুবিজ্ঞানী কার্ল ডাইসেরোথ এই প্রোটিনকে স্নায়ুকোষের জন্য আলো দিয়ে পরিচালিত একটি সুইচে রূপান্তরিত করেন। এই আবিষ্কারের মাধ্যমে বিজয়ী বিজ্ঞানীরা মস্তিষ্ক ও স্নায়ুবিজ্ঞানে এক নতুন যুগের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন।

অপটোজেনেটিকস প্রযুক্তির সাহায্যে স্মৃতি ও মানসিক রোগের রহস্য উন্মোচন, দৃষ্টিশক্তি ফেরানোর চেষ্টা গবেষকদের

চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক যুগান্তকারী প্রযুক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে ‘অপটোজেনেটিকস’।

এই আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে গবেষকরা স্মৃতি, অনুভূতি এবং আচরণের মতো বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণকারী নির্দিষ্ট স্নায়ু নেটওয়ার্ক বা ‘নিউরাল সার্কিট’ উন্মোচন করতে সক্ষম হয়েছেন। স্নায়বিক (নিউরোলজিক্যাল) ও মানসিক (সাইকিয়াট্রিক) ব্যাধি বোঝার ক্ষেত্রে এই আবিষ্কার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

এদিকে, পরীক্ষাগারের গণ্ডি পেরিয়ে এবার চিকিৎসাবিজ্ঞানেও এর প্রযোগ শুরু হয়েছে। অন্ধত্ব বা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতায় ভোগা ব্যক্তিদের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে গবেষকরা এখন ‘অপটোজেনেটিকস’ পদ্ধতির ব্যবহারিক প্রয়োগ করছেন, যা দৃষ্টিহীনদের জীবনে নতুন আশা জাগাচ্ছে।

‘অপ্টোজেনেটিকস’ আমাদের মস্তিষ্ক সম্পর্কে ধারণায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে।

শেয়ার করুন!