কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেকে টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০ পর্যটকের প্রাণহানির পর সেটি এখন ধ্বংসস্তূপ। অথচ কিছুদিন আগেও এখানে মুখর ছিল নানা পেশা ও শ্রেণীর পর্যটকদের আনাগোনায় রিসোর্টটির পুরো অংশজুড়েই রয়েছে মর্মান্তিক দুর্ঘটনার ছাপ। তবে পরিত্যক্ত রিসোর্টটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে।
শনিবার সকালে ইনানীর পাটুয়ারটেকে অবস্থিত টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০ পর্যটকের মৃত্যুর ঘটনায় নিহতদের স্বজনদের পাশাপাশি শোকাহত হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও।
রিসোর্টটির পুড়ে যাওয়া ধ্বংসস্তূপ ও মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর তাদেরও গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। হৃদয়বিদারক এ ঘটনা শুধু স্থানীয় মানুষের মধ্যেই শোকের ছায়া ফেলেনি, দেশি-বিদেশি বিভিন্ন গণমাধ্যমেও ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছে।
ওই এলাকায় ঘুরতে আসা পর্যটকদের কেউ কেউ পুড়ে যাওয়া রিসোর্টটি দেখতে ঘটনাস্থলে এক মুহূর্ত দাঁড়ান। আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের অবশিষ্টাংশ দেখে তারা দুঃখ প্রকাশ করেন। পর্যটনকেন্দ্রে বেড়াতে এসে এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনা তাদেরও ব্যথিত করে। আবার অনেকেই পুড়ে যাওয়া রিসোর্টটির ধ্বংসাবশেষের ভিডিও ও ছবি ধারণ করেন।
রিসোর্টটির পুড়ে যাওয়া কাঠামো এখন ওই মর্মান্তিক ঘটনার স্মৃতি বহন করছে। পর্যটকদের কাছে আনন্দ আর অবকাশযাপনের জায়গা হিসেবে পরিচিত একটি স্থাপনা মুহূর্তের আগুনে পরিণত হয়েছে ধ্বংসস্তূপে। এখন সেখানে পড়ে আছে পোড়া ভবনের অবশিষ্টাংশ। যা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে ১০ পযর্টকের করুণ মৃত্যুর ঘটনা। রিসোর্টের প্রতিটি কক্ষ আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
ইনানীর পাটুয়ারটেকের স্থানীয় বাসিন্দা ও দোকানদার মোহাম্মদ খালেক বলেন, টুপটুপ রিসোর্টের পাশেই তার দোকান এবং রিসোর্টের পেছনে তার বাড়ি। রিসোর্টে আগুন লাগার পর তারা বাইরে বের হয়ে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলতে দেখেন। স্থানীয় বাসিন্দারা আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও আগুনের তীব্রতা বেশি হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেননি। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় ১০ জনের প্রাণহানিতে তাদের স্বজনদের মতো স্থানীয় বাসিন্দারাও হতবাক ও গভীরভাবে ব্যথিত হয়েছেন। মর্মান্তিক এ ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
খালেক বলেন, অগ্নিকাণ্ডের পর পাটুয়ারটেকে ঘুরতে আসা পর্যটকদের অনেকেই পুড়ে যাওয়া টুপটুপ রিসোর্টটি দেখতে ভিড় করছেন। তাদের কেউ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া রিসোর্টটির করুণ দৃশ্য দেখছেন, আবার কেউ ছবি তুলছেন। তবে বর্তমানে রিসোর্টটির পুড়ে যাওয়া অবশিষ্ট কাঠামো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। যেকোনো সময় এটি ভেঙে পড়তে পারে।
পর্যটকের জীবনের চেয়ে মালিকের কুকুরের মূল্য বেশি ছিল টুপটুপের কর্মীদের!
আরেক বাসিন্দা নাজিম উদ্দীন বলেন, টুপটুপ রিসোর্টটি এখন পুড়ে যাওয়া ধ্বংসস্তূপ। অথচ কয়েকদিন আগেও পর্যটকদের আনাগোনায় মুখর ছিল রিসোর্টটি। এখন যেন পোড়া গন্ধ আর শোকের ভারে ভারী হয়ে উঠেছে ইনানীর বাতাস।
তিনি বলেন, আগুন লাগার পরপরই রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ বা সেখানে কর্মরত ব্যক্তিরা যদি পর্যটকদের দ্রুত নিরাপদে বের করে আনার চেষ্টা করতেন, তাহলে হয়তো এভাবে ১০টি তাজা প্রাণ ঝরে যেত না। এ ঘটনায় রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের অবহেলা রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত ১৭ অক্টোবর ইনানীর পাটুয়ারটেক এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে পুলিশ, বিজিবি ও এসআরবির সদস্যরা। এছাড়া জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, ফায়ার সার্ভিসের সদস্য, স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।








