আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা। এরপরই জানা যাবে ফুটবলের ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট উঠছে কার মাথায়। ব্যালন ডি’অরের এবারের আসর ঘিরে উত্তেজনার পারদ চড়ছে শেষ মুহূর্তে। আলোচনার কেন্দ্রে থাকা লামিনে ইয়ামালকে পেছনে ফেলে পুরস্কার জয়ের দৌড়ে এগিয়ে এসেছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইন।
এবারের আয়োজনেও থাকছে নতুনত্ব। প্যারিসের পরিচিত গণ্ডি পেরিয়ে প্রথমবারের মতো লন্ডনের ঐতিহ্যবাহী প্যালাডিয়াম থিয়েটারে বসতে যাচ্ছে ব্যালন ডি’অরের জমকালো আসর। বিশ্ব ফুটবলের তারকাদের উপস্থিতিতে এই অনুষ্ঠানে কার হাতে উঠবে সোনালি ট্রফি, তা নিয়ে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ।
গত মৌসুমে জার্মান ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখের জার্সিতে দুর্দান্ত সময় কাটিয়েছেন কেইন। ৬৫ ম্যাচে তার গোলসংখ্যা ৭৩। এমন পরিসংখ্যানের সুবাদে বুকমেকারদের হিসাবেও শীর্ষে উঠে এসেছেন ইংলিশ এই স্ট্রাইকার। সাম্প্রতিক বাজির দর অনুযায়ী, তার জয়ের সম্ভাবনার পক্ষে দর নেমে এসেছে ১.৩৫-এ।
অন্যদিকে, কিছুদিন আগেও ব্যালন ডি’অরের অন্যতম আলোচিত নাম ছিলেন বার্সেলোনার স্প্যানিশ তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল। গত মৌসুমে লা লিগায় ১৬ গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে ১১টি গোল করিয়েছেন তিনি। বার্সেলোনার শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় পুরস্কারের দৌড়ে তার নাম ছিল জোরালোভাবেই।
তবে শেষ মুহূর্তের হিসাব-নিকাশে বদল এসেছে। একসময় ৩.২৫ থাকা ইয়ামালের পক্ষে বাজির দর বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬.০০-তে। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘মার্কা’র সাম্প্রতিক একটি পুরস্কারে কেইনের এগিয়ে থাকা এই পরিবর্তনের অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। যদিও বুকমেকারদের বাজির দর পুরস্কারের চূড়ান্ত ফল নির্ধারণ করে না, তবু তা প্রতিদ্বন্দ্বিতার আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
ইংল্যান্ডের ফুটবল ইতিহাসেও কেইনের সম্ভাব্য জয় ঘিরে রয়েছে বাড়তি আগ্রহ। দেশটির হয়ে সর্বশেষ ২০০১ সালে ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন মাইকেল ওয়েন। দীর্ঘ ২৫ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে এবার কোনো ইংলিশ ফুটবলারের হাতে পুরস্কারটি উঠবে কি না, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে চূড়ান্ত ঘোষণার জন্য।
ব্যালন ডি’অরের পুরুষ বিভাগে বিজয়ী নির্ধারণে ভোট দেন ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ১০০ দেশের নির্বাচিত ক্রীড়া সাংবাদিকেরা। ৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকা থেকে তাঁরা নিজেদের পছন্দের সেরা ১০ খেলোয়াড়কে ক্রমানুসারে বেছে নেন। প্রথম স্থান পাওয়া খেলোয়াড় পান ১৫ পয়েন্ট, দ্বিতীয় স্থানে ১২ এবং তৃতীয় স্থানে ১০ পয়েন্ট। এভাবে ভোট শেষে সর্বোচ্চ পয়েন্ট অর্জনকারী খেলোয়াড়ের হাতেই ওঠে মর্যাদাপূর্ণ ব্যালন ডি’অর।








