বাংলাদেশ টেস্ট দল/ ফাইল ছবিহোক তা টেস্ট, ওয়ানডে কিংবা টি-টোয়েন্টি; ক্রিকেটে কন্ডিশন, উইকেট, পারিপার্শ্বিকতা খুব গুরুত্বপূর্ণ। টেস্ট জয়ে কন্ডিশনের ভূমিকা তাই অনেক বেশি। আর সে জন্যই স্বাগতিকরা সব সময়ই উইকেটের অ্যাডভান্টেজ নেওয়ার চেষ্টা করে।উইকেটের চরিত্র, গতিপ্রকৃতি বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই স্বাগতিকদের শক্তি ও সামর্থ্য অনুযায়ী হয়।দেখার বিষয় হলো, আগামী ২৮ অক্টোবর থেকে মিরপুরের শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে যে টেস্ট শুরু হতে যাচ্ছে, তার উইকেটটা কেমন হয়? বাংলাদেশ কি নিজেদের মতো করে উইকেট তৈরি করে খেলতে নামবে? কন্ডিশন কি হবে শান্ত বাহিনীর অনুকূলে?
টেস্ট শুরুর সময় যত এগিয়ে আসছে, এ প্রশ্ন ততই জোরালো হচ্ছে। সামনে হাতছানি দিচ্ছে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল। সেই স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে কি শেরেবাংলায় স্পিন-সহায়ক পিচ বানাবে বাংলাদেশ? নাকি উইকেট হবে পেসারদের উপযোগী? শক্ত ও সবুজ টার্ফে হবে ঢাকা টেস্ট?শেষ পর্যন্ত উইকেটের চেহারা কেমন হবে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে আজ ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত উইকেটের ওপরের স্তরটা ঘন সবুজ ঘাসে ঢাকা। দূর থেকে দেখে মনে হয় সবুজ গালিচা। অবশ্য ওপরের এই সবুজ ঘাস শেষ পর্যন্ত থাকবে কি না, তা আগামীকাল পড়ন্ত বিকেলে বোঝা যাবে।
যদি শেষ পর্যন্ত সবুজ ঘাসের উইকেটে খেলা হয়, তাহলে অনিবার্যভাবেই উইকেটে গতি ও বাউন্স থাকবে। ‘টিপিক্যাল’ শেরেবাংলা পিচের মতো স্লো ও লো থাকবে না। আর উইকেটে ঘাস থাকার অর্থ অন্তত তিন পেসার নিয়ে মাঠে নামা।যেহেতু বাংলাদেশ দলে কোনো পেস বোলিং অলরাউন্ডার অপশন নেই, তাই তিন পেসারের সঙ্গে দুই স্পেশালিস্ট স্পিনার তাইজুল-মিরাজকেই হয়তো খেলতে দেখা যাবে। এখন দেখার বিষয় হলো, একাদশটা কেমন হয়।আজ টেস্ট শুরুর ৪৮ ঘণ্টা আগের প্র্যাকটিস দেখে ঠিক বোঝা যায়নি একাদশের ধরনটা কী হবে। তবে ধারণা করা হচ্ছে, ছয়জন স্পেশালিস্ট ব্যাটসম্যান, তিন পেসার ও দুই স্পিনারে সাজানো হবে টাইগার একাদশ।আজ সোমবার অনুশীলনে লিটন দাস কিপিং প্র্যাকটিস করেছেন বেশ কিছুক্ষণ। কিন্তু তারপরও তার খেলা নিশ্চিত নয়।
কোমরের ব্যথা পুরোপুরি সারেনি লিটনের। তাই তিনি খেলবেন, এমন ঘোষণা আসেনি টিম ম্যানেজমেন্ট থেকে।লিটন দাস খেললে তো কথাই নেই। তবে না খেললে জাকের আলী অনিককেই উইকেটের পেছনে গ্লাভস হাতে দেখা যাবে। ছয় নম্বর ব্যাটিং পজিশনটাতেও হয়তো জাকের আলীই থাকবেন।ওপেনিং জুটিটা তানজিদ তামিম আর সাদমান ইসলামকে দিয়েই সাজানো হবে। সঙ্গে মুমিনুল হক আর নাজমুল হোসেন শান্ত যথাক্রমে তিন ও চার নম্বরে। এরপর পাঁচ নম্বরে মুশফিকুর রহিম। ব্যথা না থাকলে ছয় নম্বর পজিশনটা লিটন দাসেরই থাকবে। সাত নম্বরে মেহেদী হাসান মিরাজ, আটে তাইজুল।
সঙ্গে তিন পেসার হাসান মাহমুদ, তাসকিন আহমেদ আর শরিফুল ইসলাম? নাকি তাসকিনকে বিশ্রামে রেখে হাসান মাহমুদ, শরিফুল আর এবাদতকে খেলানো হবে? তা চূড়ান্ত হয়নি।যেহেতু আরও একটি টেস্ট আছে এবং পরের টেস্ট সিলেটে, সেখানে পেস বোলিং-সহায়ক পিচে তাসকিনের কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি, সেই চিন্তায় তাকে ঢাকায় বিশ্রামেও রাখা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে হাসান মাহমুদ, বাঁহাতি শরিফুলের সঙ্গে এবাদত হোসেনকে খেলানোর সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে হচ্ছে।








