হাটে-মাঠে-ঘাটে
অর্থনীতিতে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা ও বৈদেশিক বাণিজ্যের ধীরগতি, রফতানি শিল্পে চাপের মতো প্রতিবন্ধকতার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে দেশের অর্থনীতি।
গণঅভ্যুত্থান পূর্ববর্তী সময়ে শুরু হওয়া অর্থনৈতিক মন্দা এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি বাংলাদেশ। এরই মধ্যে অন্তরীণ হয়েছে স্বৈরাচার শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার ও গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে দায়িত্ব গ্রহণকারী ড. মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
এ বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করে সরকার গঠন করে তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এরপর দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা কিছুটা ফিরে আসা শুরু করলেও অর্থনৈতিক অবস্থা আগের মতো এখনো স্বাভাবিক হয়নি।
রাজধানীর সড়কে, হাটে-মাঠে ঘুরে দৈনিক সওদা টিম জানার চেষ্টা করেছে, সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মনোভাব; তাদের বর্তমান অবস্থা এবং দৈনন্দিন জীবনযাপন ব্যবস্থা, সঞ্চয় পরিস্থিতি ও চলমান রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিষয়ে তাদের মতামত।
এ বিষয়ে জাহিদ হাসানের প্রতিবেদনের ৪র্থ পর্ব-
‘দোকান সামলানোটাই কঠিন, সঞ্চয় তো দূরের কথা’
‘সঞ্চয় করার অবশ্যই প্রয়োজন আছে। কিন্তু ব্যবসায়ের বর্তমান যে পরিস্থিতি, এ পরিস্থিতিতে আমাদের দোকান চালানোটাই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা যে নিজেরা চলবো, নিজের পরিবার নিয়ে থাকবো, সেটাই তো এখন কষ্টকর হয়ে গেছে’- এভাবেই নিজের ব্যক্তিজীবনের দু্ঃখের কথা বলছিলেন মালিহা গার্মেন্টসের স্বত্বাধিকারী মহিউদ্দিন বাবু।
তিনি বলেন, ‘মার্কেটের যে পরিস্থিতি বর্তমানে, এ পরিস্থিতিতে দোকান সামলানোটাই কঠিন, সঞ্চয় তো দূরের কথা! দ্বিতীয়ত, আমাদের দোকান খরচ দিয়ে আমরা লোকসানে আছি বর্তমানে। সব কিছুরই খরচ বাড়তি। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম থেকে শুরু করে এমন কোনো জিনিস নেই, যেটার দাম বাড়েনি।’
‘বর্তমানে বেচাবিক্রির অবস্থা ভালো না’ উল্লেখ করে মহিউদ্দিন বাবু বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের মার্কেটের অবস্থা খুব খারাপ। বিগত সময়ে আমাদের ব্যবসা ভালো ছিল। কিন্তু বর্তমানে নতুন সরকার এলে আমরা ভেবেছিলাম, হয়ত-বা ভালো কিছু পাবো। বেচাকেনা বাড়বে, অর্থনীতির উন্নয়ন হবে। কিন্তু না, তেমন কিছুই তো দেখছি না।’
সঞ্চয় করা প্রসঙ্গে নিজের হতাশার কথা উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, ‘আমরা হতাশায় ভুগছি। ব্যবসা ছেড়েও দিতে পারছি না, আবার টিকে থাকাটাও কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। মার্কেটের অনেক দোকান খালি কিন্তু ভাড়া হচ্ছে না। ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিস্থিতি খুবই খারাপ! মানুষ কীভাবে সঞ্চয় করবে, বলেন!’
সেইসঙ্গে এটাও যোগ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের বেচাকেনা ঠিক থাকলে, ব্যবসা ঠিক থাকলে তবেই না, সঞ্চয় করা যাবে। এখন তো নিজেরাই চলতে পারি না। সঞ্চয় তো সবারই দরকার। বর্তমানে কাপড়ের ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি খারাপ অবস্থায় আছে।’
অতীতের সঙ্গে তুলনা করে এই ব্যবসায়ী বলেন, ‘২৪-এর আগেই ভালো ছিল। আশেপাশের দোকানদার জিজ্ঞাসা করে দেখেন, তখন তারা বলবে- আমরা আগেই ভালো ছিলাম। নতুন সরকারের ওপরও আমরা আশাবাদী ছিলাম; হয়ত-বা সামনে ভালো কিছু হবে। কিন্তু এই ভালোটা যে, কবে হবে, তা আমরা আদৌ বুঝতে পারছি না।’








