ঢাকায় ৩টি মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। এসব প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে, ২৫ লাখ কোটি টাকা।
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক যখন নতুন করে গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে, তখন এই প্রকল্প দুই দেশের মধ্যে এই বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরো জোরদার করারই ঈঙ্গিত দিচ্ছে। এরই মধ্যে ভারতের প্রতিষ্ঠান লারসেন অ্যান্ড টুব্রো বাংলাদেশে ঢাকা মেট্রোরেলের জন্য একটি বড় প্রকল্পের কাজ পেয়েছে।
মেট্রোরেলের ৩টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে সরকার
ঢাকায় মোট ২ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ৩টি মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ সরকার।
দেশের রাজধানী ঢাকায় পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে ৩টি মেট্রোরেল প্রকল্পসহ মোট ১২টি প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।
এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮০ কোটি টাকা।
বাংলাদেশের ঢাকা মেট্রোরেল প্রকল্পের (লাইন-১) দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্যাকেজের কাজের জন্য বড় অর্থের প্রকল্প পেয়েছে ভারতের নির্মাণ ও প্রকৌশল সংস্থা এলঅ্যান্ডটি। প্রতিষ্ঠানটির পরিবহন অবকাঠামো বিভাগ এই কাজগুলোর নকশা তৈরি থেকে শুরু করে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করবে।
এই প্রকল্প বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে দুটি চুক্তি হয়েছে। প্রথমটি হলো- সিপি০৯। এর মাধ্যম্যে রেললাইন নির্মাণ ও বৈদ্যুতিক ব্যবস্থার কাজ করা হবে। দ্বিতীয়টি হলো- সিপি১০। এ প্রকল্পে সিগন্যালিং, টেলিযোগাযোগ ও প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন ডোর স্থাপনের কাজ করা হবে।
লারসেন অ্যান্ড টুব্রো’র বক্তব্য
ভারতের নির্মাণ ও প্রযুক্তি সংস্থা লারসেন অ্যান্ড টুব্রো জানিয়েছে, এই চুক্তিগুলো বাংলাদেশের প্রথম ভূগর্ভস্থ মেট্রোরেল প্রকল্পের সঙ্গে সম্পর্কিত।
এর আগে, বাংলাদেশের প্রথম মেট্রোরেল লাইন ঢাকা মেট্রোরেল লাইন-৬-এর সমন্বিত রেলওয়ে সিস্টেম স্থাপনের কাজও পেয়েছিল এলঅ্যান্ডটি। প্রতিষ্ঠানটি সেই কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। বর্তমানে ঢাকা মেট্রোরেল লাইন-৬ বাণিজ্যিকভাবে যাত্রী পরিবহন করছে।
এ বিষয়ে এলঅ্যান্ডটি’র পরিবহন অবকাঠামো বিভাগের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধান রামকুমার এস বলেন, ‘ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) কাছ থেকে বারবার নতুন কাজের অর্ডার পাওয়া প্রমাণ করে যে, বড় পরিসরে সমন্বিত নগর পরিবহন প্রকল্প বাস্তবায়নে এলঅ্যান্ডটি’র যথেষ্ট দক্ষতা ও সক্ষমতা রয়েছে।
ঢাকা মেট্রোরেল লাইন-৬-এর বৈদ্যুতিক ও যান্ত্রিক (ইঅ্যান্ডএম) ব্যবস্থা সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে এবং নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এলঅ্যান্ডটি’র ভালো অভিজ্ঞতা রয়েছে। এ ছাড়া, বর্তমানে বাস্তবায়নাধীন জাকার্তা মেট্রো প্রকল্পেও প্রতিষ্ঠানটি কাজ করছে।
বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় রেখে এবং মূল যন্ত্রপাতি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান (ওইএম) ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সহযোগিতায় একাধিক ব্যবস্থা সুষ্ঠুভাবে একসঙ্গে যুক্ত করার ক্ষেত্রে আমাদের অভিজ্ঞতা রয়েছে। এই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আমরা নতুন প্রকল্পগুলো সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে প্রস্তুত।’
জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) অর্থায়নে ঢাকা মেট্রোরেল লাইন-১ প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে। প্রায় ৩১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রকল্পের মাধ্যমে আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।
এই প্রকল্পে দুটি রুট থাকবে। প্রথমটি হলো বিমানবন্দর রুট, যা কমলাপুর থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত যাবে। দ্বিতীয়টি হলো- পূর্বাচল রুট, যা নতুন বাজার থেকে পূর্বাচল টার্মিনাল পর্যন্ত চলবে। প্রকল্পের আওতায় মোট ১৯টি স্টেশন নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া পিতলগঞ্জে একটি মেট্রোরেল ডিপো তৈরি করা হবে।
এদিকে, টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে বৈঠকের পর এক যৌথ বক্তব্যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানি বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ও আর্থিক সংস্থাগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি জাপানের বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পরবর্তী ধাপে অংশীদার হওয়ারও আহ্বান জানান।
লারসেন অ্যান্ড টুব্রো (এলঅ্যান্ডটি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ‘এই দুটি প্যাকেজের মাধ্যমে ঢাকা মেট্রোরেল লাইন-১-এর মূল পরিচালন ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। এর ফলে ঢাকাবাসীর জন্য নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বমানের নগর পরিবহনব্যবস্থা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।’
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, সিপি০৯ প্যাকেজের আওতায় এলঅ্যান্ডটি তাদের জাপানি অংশীদার সুমিতোমো করপোরেশনের সঙ্গে মিলে পুরো রেলপথের নকশা তৈরি, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহ, স্থাপন, পরীক্ষা এবং চালুর কাজ করবে। এ ছাড়া পুরো রুটজুড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ ও বিতরণ ব্যবস্থা, ট্রেন চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র, ট্রেনের ওপরে বিদ্যুৎ সরবরাহের তার এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বৈদ্যুতিক স্থাপনা নির্মাণ ও চালুর কাজও করবে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সিপি১০ প্রকল্পের আওতায় পুরো নেটওয়ার্কের সিগন্যালিং ব্যবস্থা, টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা এবং প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন ডোর স্থাপনের কাজ করবে এলঅ্যান্ডটি।
এলঅ্যান্ডটি’র পরিবহন অবকাঠামো বিভাগ প্রকৌশল, সরঞ্জাম সংগ্রহ ও নির্মাণ (ইপিসি) খাতে একটি শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান। ভারতে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রেল অবকাঠামোর বেশ কিছু জটিল প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে নিরাপত্তা, কাজের মান এবং নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে চলেছে।








