মিরপুর টেস্টের তৃতীয় দিনে প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে গুটিয়ে দেওয়ার কৃতিত্ব স্পিনার নাঈম হাসানের। এমনকি দিন শেষে ভয়ংকর বাজে ব্যাটিং প্রদর্শনীর পরও বাংলাদেশ যে ক্ষীণ আশার আলো দেখছে। সেটাও মূলত সেই নাঈমের কারণেই।
দিনের প্রথম ভাগে বল হাতে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল বাংলাদেশ। নাঈম হাসানের স্পিন ঘূর্ণিতে ২৭ রানের লিড পায় স্বাগতিকেরা। কিন্তু সেই স্বস্তি বেশিক্ষণ থাকেনি। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে একের পর এক উইকেট হারিয়ে এখন নিজেরাই চাপে বাংলাদেশ। তৃতীয় দিনের খেলা আলোকস্বল্পতায় বন্ধ হওয়ার সময় স্বাগতিকদের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ৭৯ রান। সব মিলিয়ে লিড ১০৬ রানের।
দিনের শুরুতে তেজনারায়ণ চন্দরপল ও জাস্টিন গ্রিভসের ব্যাটে ভালো অবস্থানে ছিল সফরকারীরা। চন্দরপল ১৮৪ বলে ৫৬ রান করে শরীফুল ইসলামের বলে স্লিপে ক্যাচ দেন। এরপর গ্রিভসও দলকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন। তবে লাঞ্চের ঠিক আগে নাঈমের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ৪৬ রানে ফেরেন তিনি।
দ্বিতীয় সেশনে জশুয়া বিশপকে ফিরিয়ে উইকেটের খাতা খোলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। এরপর নাঈমের ঘূর্ণিতে ভেঙে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের লেজের সারি। এক ওভারেই শামার জোসেফ ও জোমেল ওয়ারিক্যানকে ফিরিয়ে দেন তিনি। পরে জেইডন সিলসকে আউট করে নিজের চতুর্থ উইকেট পূর্ণ করেন নাঈম। জোসেফকে ফিরিয়ে টেস্টে ৫০ উইকেটের মাইলফলকও ছুঁয়েছেন তিনি। বাংলাদেশের স্পিনারদের মধ্যে বলের হিসাবে দ্রুততম এই কীর্তি গড়েন নাঈম। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস থামে ২৪৫ রানে। রোস্টন চেজ অপরাজিত থাকেন ৪৩ রানে।
বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের সংগ্রহ ছিল ২৭২। ফলে ২৭ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামে স্বাগতিকেরা। কিন্তু শুরু থেকেই ব্যাটিংয়ে ছন্দ খুঁজে পায়নি দল। শামার জোসেফের বলে গালিতে ক্যাচ দিয়ে কোনো রান না করেই ফেরেন তানজিদ হাসান। এরপর সাদমান ইসলাম ১৩ রান করে চেজের বলে বোল্ড হন।
চেজের সেই ওভারে বড় শট খেলতে গিয়ে আউট হন তাওহিদ হৃদয়ও। ম্যাচ পরিস্থিতি অনুযায়ী ওই শট খেলাটা ক্রিকেটিয় অপরাধের শামিল। মূলত হৃদয়ের সেই বালখিল্য আউটের পরেই এলোমেলো হয়ে যায় সব। বাংলাদেশের ব্যাটিং ভেঙে পড়ে তাসের ঘরের মতো।
ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক চেজ টাইগার কাপ্তান নাজমুল হোসেন শান্তকে এলবিডব্লিউ করে ফেরান। রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি শান্ত। পরে তৃতীয় সেশনের শুরুতে জোমেল ওয়ারিক্যানের বলে এলবিডব্লিউ হন ৪ রান করা লিটন দাস। একই বোলারের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন মিরাজ, তাঁর ব্যাট থেকে আসে ৯ রান।
মাত্র ৬০ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে তখন বড় বিপদে বাংলাদেশ। সেখান থেকে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন নাঈম হাসান ও মুমিনুল হকের পরিবর্তে কনকাশন সাব হিসেবে খেলতে নামা জাকের আলী। দুজনের জুটিতে আসে ২৬ রান। একপর্যায়ে আম্পায়ার নাঈমকে এলবিডব্লিউ ঘোষণা করলেও রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান তিনি।
বৃষ্টি ও আলোকস্বল্পতায় দিনের খেলা বারবার বিঘ্নিত হয়েছে। শেষ পর্যন্ত আলো কমে আসায় খেলা বন্ধ হয়ে যায় ২৯ ওভারে বাংলাদেশের ৭৯/৬ সংগ্রহ নিয়ে। হাতে আছে মাত্র ৪ উইকেট। প্রথম ইনিংসের লিড যোগ করে ব্যবধান ১০৬ রান হলেও ম্যাচে নিয়ন্ত্রণ নিতে হলে চতুর্থ দিনে নাঈম-জাকেরদের জুটিকে আরও বড় করতে হবে বাংলাদেশকে।








