ব্রাজিলের সিনেটর ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী ফ্লাভিও বলসোনারোর ব্রাজিল ছাড়ার ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সাবেক এক কর্মকর্তার সঙ্গে তিনি দেশ ছাড়েন বলে এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে সিএনএন ব্রাজিল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুটি ভ্যান, একটি ব্যক্তিগত উড়োজাহাজ এবং সাবেক ওই গোয়েন্দা কর্মকর্তাকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে ব্রাজিল ছাড়েন ফ্লাভিও বলসোনারো। সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ফার্নান্দা ও দুই মেয়ে।
ব্রাজিলের নির্বাচনে পরাজয়ের পর গত মঙ্গলবার স্থলপথে আর্জেন্টিনায় প্রবেশ করেন তারা। পরে সেখান থেকে ব্যক্তিগত উড়োজাহাজে যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিতে পৌঁছান।
সিএনএন ব্রাজিলের অনুসন্ধান অনুযায়ী, পুরো অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছিল ‘অপারেশন আলবা’। নির্বাচনি প্রচার শেষ হওয়ার আগেই এ পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুই ভ্যানে আর্জেন্টিনায় প্রবেশ
সিএনএন ব্রাজিলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার ফ্লাভিও বলসোনারো তার স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে ব্রাজিলের দক্ষিণাঞ্চল দিয়ে আর্জেন্টিনায় প্রবেশ করেন।
তারা তানক্রেদো নেভেস আন্তর্জাতিক সেতু পার হন। সেতুটি ব্রাজিলের ফোজ দো ইগুয়াসু শহরের সঙ্গে আর্জেন্টিনার পুয়ের্তো ইগুয়াসুকে যুক্ত করেছে।
নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দুটি ভ্যান ও চালকদের শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।
একজন চালক ছিলেন ফোজ দো ইগুয়াসু শহরের সাবেক কাউন্সিলর। অন্যজন তার ছেলে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বলসোনারো যে ভ্যানে ছিলেন, সেটিতে মোসাদের সাবেক ওই কর্মকর্তাও ছিলেন।
সঙ্গে ছিলেন মোসাদের সাবেক কর্মকর্তা
সিএনএন ব্রাজিলের অনুসন্ধানে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদে কাজ করা এক সাবেক কর্মকর্তা বলসোনারোর সঙ্গে ব্রাসিলিয়া থেকে আর্জেন্টিনা পর্যন্ত যাত্রা করেন।
ওই কর্মকর্তা গত ১৯ অক্টোবর ব্রাজিলে যান। পরে তিনি বলসোনারোর সঙ্গে একই ভ্যানে করে সীমান্ত পার হন।
তবে বলসোনারোকে ব্রাজিল ছাড়তে সাহায্য করার পরিকল্পনায় ওই সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তার ঠিক কী ভূমিকা ছিল, তা নিশ্চিত করতে পারেনি সংবাদমাধ্যমটি।
ব্যক্তিগত উড়োজাহাজে মায়ামি
আর্জেন্টিনার পুয়ের্তো ইগুয়াসু থেকে বলসোনারো ও তার পরিবারের সদস্যরা একটি গালফস্ট্রিম জি৪০০ ব্যক্তিগত উড়োজাহাজে ওঠেন। আর্জেন্টিনার চার্টার বিমান সংস্থা বায়রেস ফ্লাই উড়োজাহাজটি পরিচালনা করছিল।
উড়োজাহাজটি জ্বালানি নেওয়ার জন্য ইকুয়েডরের গুয়ায়াকিলে বিরতি দেয়। পরে বুধবার ভোরে যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামির ওপা-লক্কা এক্সিকিউটিভ বিমানবন্দরে পৌঁছায়।
আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখছে ব্রাজিল
বলসোনারোর দেশত্যাগে আর্জেন্টিনার ইসরায়েল-ঘনিষ্ঠ প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্ভাব্য সহায়তার বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন ব্রাজিলের তদন্তকারীরা।
তবে এ অভিযানে আর্জেন্টিনা বা যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সরাসরি সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ এখনো নিশ্চিত হয়নি।
এদিকে ব্রাজিলের ফেডারেল পুলিশ জানিয়েছে, বলসোনারো দেশ ছাড়ার সময় দেশটির অভিবাসন নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রগুলোতে তার বহির্গমনের কোনো রেকর্ড পাওয়া যায়নি।
এর আগে ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি আলেকজান্দ্রে দে মোরায়েস বলসোনারোকে ব্যক্তিগত ও কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। একই সঙ্গে তার দেশত্যাগের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল।
সেই নির্দেশের পরও কীভাবে তিনি দেশ ছাড়লেন, তা নিয়ে তদন্ত চলছে।
সিএনএন ব্রাজিল জানিয়েছে, তদন্তের অংশ হিসেবে বলসোনারোর ব্যাংক হিসাবসহ অন্যান্য সম্পদ জব্দ করার আবেদন সুপ্রিম কোর্টে জানানোর কথা বিবেচনা করছে ফেডারেল পুলিশ।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি








