মণিপুরে নতুন করে জাতিগত সহিংসতা, নিহত ৫ কুকি সদস্য

02 November, 2026

প্রকাশের সময়: 09:04 pm, 2nd Nov, 2026

সর্বশেষ আপডেট: 09:04 pm, 2nd Nov, 2026

মণিপুরের রাজধানীতে উপজাতীয় কয়েকটি গোষ্ঠীর সমাবেশ ঘিরে নিরাপত্তা বাহিনীর সতর্ক অবস্থান। ৩১ অক্টোবর ২০২৬এএনআই

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরে নতুন করে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ঘিরে পৃথক সহিংসতায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন।

গত শনিবার রাজ্য পুলিশ এক বিবৃতিতে জানায়, ননে জেলায় অজ্ঞাতপরিচয় সশস্ত্র দুষ্কৃতকারীদের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনায় কুকি উপজাতি সম্প্রদায়ের তিনজন পুরুষ নিহত হয়েছেন।

পুলিশের আরেক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, চলতি সপ্তাহের শুরুতে নিখোঁজ একই সম্প্রদায়ের অন্য দুই ব্যক্তির মৃতদেহ গতকাল রোববার সকালে নিরাপত্তাকর্মীদের তল্লাশি অভিযানের পর কাংপোকপি জেলা থেকে উদ্ধার করা হয়।

শীর্ষস্থানীয় কুকি উপজাতি সংগঠন এই হত্যাকাণ্ডের জন্য নাগা বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করেছে। তারা এই ঘটনাকে নিজেদের মাতৃভূমিতে সরাসরি প্ররোচনাহীন আক্রমণ বলে বর্ণনা করেছে।

মণিপুরের রাজধানী ইম্ফল এবং রাজ্যের অন্যান্য এলাকায় কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে কুকি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাতিলের দাবিতে শত শত মানুষের উপস্থিতিতে বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। সেই সময়ই এই নতুন হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় এই রাজ্যে স্বজাতীয় মাতৃভূমির অধিকার আদায়ের দাবিকে কেন্দ্র করে খ্রিষ্টান সংখ্যাগরিষ্ঠ কুকি এবং নাগা উপজাতিদের মধ্যে বিরোধের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে কুকি সম্প্রদায়ের কিছু পুরুষ এক নাগা পুরুষকে মারধর করে বলে অভিযোগ ওঠে। এরপরই নতুন করে রক্তক্ষয়ী সংঘাত শুরু হয়।

গত মে মাসে নাগা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হাতে তিন কুকি যাজক নিহত হলে দুই পক্ষের মধ্যে প্রতিশোধমূলক অপহরণ ও হত্যাকাণ্ড শুরু হয়ে যায়।

সাম্প্রতিক এই কুকি-নাগা সংঘর্ষ মণিপুরে উত্তেজনা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। যেখানে ২০২৩ সালের মে মাস থেকে অর্থনৈতিক সুবিধা ও চাকরির কোটা নিয়ে কুকি সম্প্রদায় মূলত হিন্দু মেইতেই সম্প্রদায়ের সঙ্গেও এক রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মধ্যে রয়েছে।

এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে এ পর্যন্ত ৩০০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। গৃহহীন ৬০ হাজারের বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষ এখনো অস্থায়ী ত্রাণ শিবিরে বসবাস করছেন। মিয়ানমার সীমান্তঘেঁষা এই রাজ্যে রক্তপাত বন্ধে ব্যর্থতার কারণে মুখ্যমন্ত্রী বীরেন সিং পদত্যাগ করেছিলেন।

মুখ্যমন্ত্রী না থাকায় ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে এক বছরের জন্য রাজ্য সরাসরি কেন্দ্রীয় শাসনের অধীনে ছিল। চলতি বছরের শুরুতে রাষ্ট্রপতি শাসন তুলে নেওয়া হয় এবং ইউনম খেমচান্দ সিং মণিপুরের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন।

শেয়ার করুন!