পাসপোর্টের মাধ্যমে প্রবাসীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার প্রস্তাব

03 November, 2026

প্রকাশের সময়: 05:20 pm, 3rd Nov, 2026

সর্বশেষ আপডেট: 05:23 pm, 3rd Nov, 2026

পাসপোর্টের মাধ্যমে প্রবাসীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার প্রস্তাব

প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য নন-রেসিডেন্ট টাকা অ্যাকাউন্টের (এনআরটিএ) নিয়মকানুন সহজ করার প্রস্তাব জানানো হয়েছে। সেইসঙ্গে ঋণ প্রদানের বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা দূর করার ওপরও জোর দিয়েছেন ব্যাংক নির্বাহীরা।  

এ বাদেও দেশে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বাড়ানোর বিষয়ে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) নিয়ে বৈঠক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। 

বৈঠকে ব্যাংকাররা প্রবাসীদের ব্যাংকিং সেবায় সহজে যুক্ত করতে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) বাধ্যবাধকতা শিথিল করে পাসপোর্টের মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন।

সোমবার (২ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এ বিষয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। বৈঠকে ডেপুটি গভর্নর কবির আহমেদ এবং মো. সারওয়ার হোসেনও উপস্থিত ছিলেন। 

বৈঠকে এ সব অ্যাকাউন্টের বিপরীতে ঋণ প্রদানের বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা দূর করার ওপরও জোর দিয়েছেন ব্যাংক নির্বাহীরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, ব্যাংকের এমডিরা এনআরটিএ সহজীকরণ এবং দেশে বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহ বাড়ানোর বিষয়ে কিছু মতামত দিয়েছেন। 

তিনি বলেন, তাদের মতামতগুলো লিখিত আকারে বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানো হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে নতুন করে নির্দেশনা দেবে।

এ বিষয়ে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সৈয়দ মাহবুবুর রহমান অর্থনীতিবিষয়ক দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড (টিবিএস)-কে জানিয়েছেন, বর্তমানে নন-রেসিডেন্ট অ্যাকাউন্ট খোলার ক্ষেত্রে এনআইডি চাওয়া হয়। তবে বিদেশে অবস্থানরত অনেক প্রবাসীর এনআইডি না থাকায় তারা ব্যাংকিং সুবিধার বাইরে থেকে যান। এ জটিলতা নিরসনে প্রবাসীদের পাসপোর্টের ভিত্তিতে অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। 

বৈঠকে পাকিস্তানের রোশন ডিজিটাল অ্যাকাউন্টের (আরডিএ) আদলে ডিজিটাল ও ঝামেলামুক্ত অনবোর্ডিং মডেল চালুর বিষয়েও আলোচনা হয়। 

আরেকটি বেসরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাম প্রকাশের শর্তে জানিয়েছেন, প্রবাসীদের জন্য বর্তমানে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়ার যে সীমাবদ্ধতা সার্কুলারে রয়েছে, তা পুনর্বিবেচনার দাবি জানানো হয়েছে। প্রবাসীদের উৎসাহিত করতে এ ঋণসীমা এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ম পরিবর্তনের তাগিদ দিয়েছেন ব্যাংকাররা। 

এছাড়া বিদেশ থেকে বৈদেশিক মুদ্রা আনা এবং ডলারের বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। বাজারে আকস্মিক চাপ এড়াতে আগাম চাহিদার পূর্বাভাসের ভিত্তিতে ডলারের মজুত গড়ে তোলা ও সঠিক ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। 

ইতিমধ্যে, কিছু ব্যাংকে প্রবাসীদের জন্য অ্যাকাউন্ট খোলার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ব্যাংকগুলোর পাঠানো প্রস্তাব ও সুপারিশের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংক শিগগিরই এ বিষয়ে নতুন সার্কুলার বা গাইডলাইন জারি করতে পারে।

এর আগে ২০২৬ সালের ২৩ জুন বাংলাদেশ ব্যাংক প্রবাসীদের জন্য নন-রেসিডেন্ট কনভার্টিবল কারেন্ট, সেভিংস অ্যান্ড ফিক্সড ডিপোজিট অ্যাকাউন্টস খোলার সুযোগ দিয়ে একটি সার্কুলার জারি করে।

প্রবাসীরা ব্যাংকিং চ্যানেলে পাঠানো অর্থ এসব অ্যাকাউন্টে জমা রাখতে পারবেন এবং মূল অর্থের পাশাপাশি এর বিপরীতে অর্জিত সুদ বা বিনিয়োগের আয়ও অবাধে বিদেশে নিয়ে যেতে পারবেন। 

কেন্দ্রীয় ব্যাংক এসব অ্যাকাউন্টে জমা থাকা অর্থ দেশের বিভিন্ন ধরনের লেনদেনেও ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- বিনিয়োগ ও দেশের বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চলে পরিচালিত নির্দিষ্ট কিছু বিদেশি মালিকানাধীন শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে ঋণ দেওয়া।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ব্যাংকিং চ্যানেলে পাঠানো অর্থ দিয়ে প্রবাসীরা অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের মাধ্যমে এসব হিসাব খুলতে পারবেন। 

ওই কর্মকর্তা জানান, অন্য কোনো নন-রেসিডেন্ট অ্যাকাউন্ট থেকে স্থানান্তরিত অর্থ, সুদ বা মুনাফা বাবদ আয়, বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত আয়, শেয়ার আবেদনের রিফান্ড ও বৈদেশিক মুদ্রা-সংক্রান্ত অন্যান্য অনুমোদিত অর্থও এসব হিসাবে জমা করা যাবে। 

সার্কুলার অনুযায়ী, ক্রমবর্ধমান রেমিট্যান্স প্রবাহকে কাজে লাগানো এবং দেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করা এই উদ্যোগের লক্ষ্য। এসব হিসাবে জমা রাখা মূল অর্থ ও অর্জিত সুদ বা মুনাফা দুটোই সম্পূর্ণ বিদেশে ফিরিয়ে নেওয়া যাবে। 

বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চলে অবস্থিত শতভাগ বিদেশি মালিকানাধীন ‘টাইপ-এ’ শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে টাকায় ঋণ দেওয়ার কাজেও এই তহবিল ব্যবহার করা যাবে। তবে এ ধরনের ঋণ কেবল বেতন, মজুরি ও ইউটিলিটি বিলের মতো অনুমোদিত পরিচালন ব্যয় মেটানোর কাজে সীমাবদ্ধ থাকবে এবং ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানের রফতানি আয় থেকে তা পরিশোধ করতে হবে। 

এ ছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশীয় ব্যাংকিং ইউনিটগুলোকে এসব হিসাবে থাকা আমানতের বিপরীতে প্রবাসী অথবা তাদের মনোনীত সুবিধাভোগীদের ঋণ দেওয়ারও অনুমতি দিয়েছে। 

কৃষি, বনায়ন ও আবাসন খাতে বিনিয়োগ ছাড়া ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক যেকোনো প্রয়োজনে এই ঋণ ব্যবহার করা যাবে।

শেয়ার করুন!