নিরাপত্তা ঝুঁকির কারনে এনপিএসবি থেকে বিচ্ছিন্ন ডিজিপে

04 November, 2026

প্রকাশের সময়: 06:18 pm, 4th Nov, 2026

সর্বশেষ আপডেট: 07:41 pm, 4th Nov, 2026

ভারত থেকে সার্ভারে প্রবেশসহ বেশকিছু নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে ‘ডিজিপে’কে ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশ (এনপিএসবি) থেকে বিচ্ছিন্ন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

তবে প্রতিষ্ঠানটির দাবি, কোনো আলোচনা ছাড়াই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে এনপিএসবির মাধ্যমে তাদের লেনদেন বন্ধ হয়ে গেছে। তাদের অন্যান্য সেবা চালু আছে।

গত ২৯ অক্টোবর এই ব্যবস্থা নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, যাচাই প্রক্রিয়ায় বেশকিছু নিরাপত্তা ত্রুটি পাওয়ার পর এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘সাইবার নিরাপত্তা ও নাগরিকের তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা আমাদের অগ্রাধিকার। কোনো প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের বাইরে থেকে পরিচালিত হওয়ার অভিযোগ উঠলে বাংলাদেশ ব্যাংক সেটিকে তথ্যের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে।’

তিনি জানান, প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তদন্তে সময় লাগে বলে প্রাথমিক ব্যবস্থা হিসেবে ডিজিপেকে এনপিএসবি থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।

ডিজিপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রাশেদ মাহমুদ জানান, গত ১ নভেম্বর তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার বিষয়টি জানতে পারেন।

তিনি জানান, তাদের জনবল ও ভারতে থাকা ডেভেলপার নিয়ে মূলত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে তাদের দ্বন্দ্ব। তাদের ডেটাবেজ অ্যাডমিনিস্ট্রেটর পদে আলাদা কোনো কর্মী নেই। অন্য দায়িত্ব পালন করা এক কর্মীই এটি সামলান। এতে বাংলাদেশ ব্যাংকের আপত্তি রয়েছে। প্রতিটি পদের জন্য আলাদা কর্মী চায় তারা।

বিষয়টিকে অবাস্তব উল্লেখ করে রাশেদ বলেন, ‘বর্তমানে এক কর্মী তিন-চারজনের কাজ করেন।’

কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরও ফায়ারওয়াল ও মাইক্রোসফটের একটি নিরাপত্তাপণ্যসহ কঠোর নিরাপত্তার কথা বলেছিল। রাশেদ জানান, প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে লাইসেন্স কিনে তা বাস্তবায়ন করেছে।

ভারত থেকে সার্ভারে প্রবেশের বিষয়ে তিনি বলেন, ডিজিপের সিস্টেম ভারতের একটি গবেষণা ও উন্নয়ন (আরঅ্যান্ডডি) দল তৈরি করেছে। ভারতীয় ডেভেলপারদের শুধু নির্ধারিত উন্নয়ন কাজের জন্যই সিস্টেমে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক “ভারতীয়” শুনেই আপত্তি জানিয়েছে। তারা প্রশ্ন করেছে, কেন প্রযুক্তি উন্নয়নের কাজ বাংলাদেশে আনা হচ্ছে না।’

রাশেদ দাবি করেন, বাংলাদেশে কাজ করা অনেক কোম্পানির সিস্টেম বা ডেটা ভারতসহ অন্যান্য দেশে রয়েছে।

এনপিএসবি হলো বাংলাদেশ ব্যাংক পরিচালিত দেশের আন্তব্যাংক ডিজিটাল পেমেন্ট নেটওয়ার্ক। এটি রিয়েল-টাইম বা তাৎক্ষণিক ইলেকট্রনিক লেনদেনের জন্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে যুক্ত করে।

ডিজিপে সার্ভিসেস লিমিটেড ২০২৩ সালের আগস্টে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটর (পিএসও) লাইসেন্স পায়। ‘ডিজিপে’ ব্র্যান্ড নামে এটি পেমেন্ট প্রসেসিং সেবাদাতা হিসেবে কাজ করে। এই ব্যাংকবহির্ভূত প্রতিষ্ঠানটি পয়েন্ট অব সেল (পিওএস), কিউআর কোড ও ই-কমার্স পেমেন্ট সেবা দেয়।

ডিজিপে দীপন গ্রুপের একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান। ১৯৭০ সালে তেল ও গ্যাসের পাইপলাইন নির্মাণের কাজ দিয়ে দীপন গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের যাত্রা শুরু হয়। প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্যমতে, বাংলাদেশ, ভারত, মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও আফ্রিকার কয়েকটি দেশে তাদের কার্যালয় রয়েছে।

শেয়ার করুন!