মিসওয়াক ইসলামি শরিয়তে গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ একটি সুন্নত। এটি শুধু দাঁত ও মুখ পরিষ্কারের কোনো সাধারণ শারীরিক মাধ্যমই নয়; বরং মহানবী (সা.) নিজে সারা জীবন নিয়মিত তা পালন করেছেন এবং উম্মতকে এর প্রতি বিশেষভাবে উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করেছেন।
আলেমদের মধ্যে এ বিষয়ে ঐকমত্য (ইজমা) রয়েছে যে মিসওয়াক করা মুস্তাহাব তথা অতি উত্তম আমল। তবে ফকিহগণ এ নিয়ে মতভেদ করেছেন যে মিসওয়াক নির্দিষ্টভাবে অজুর সুন্নত, নাকি নামাজের সুন্নাহ, নাকি ইসলামের একটি সাধারণ সুন্নত, যা সর্বাবস্থায় ও সর্বসময়ে কাম্য?
অধিক গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্ত হলো, মিসওয়াক একটি সর্বজনীন সুন্নত, যা জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে পালনীয়। (মুহাম্মাদ আল-মুখতার শানকিতি, শারহু সুনানিন নাসাঈ, ১/৮৮, মাকতাবাতুল মালিক ফাহাদ আল-ওয়াতানিয়্যাহ, রিয়াদ, ১৪২৫ হিজরি)
দিন-রাতের যেকোনো সময় মিসওয়াক করার অবকাশ রয়েছে। তবে কিছু বিশেষ সময়ে মিসওয়াক করার ব্যাপারে আলাদা তাগিদ দেওয়া হয়েছে:
অজু ও নামাজের আগে: অজুর শুরুতে বা কুলি করার সময় এবং প্রতি নামাজের পূর্বে মিসওয়াক করা সুন্নাহ। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যদি আমার উম্মতের জন্য কষ্টকর না হতো, তবে আমি তাদের প্রতি প্রতিটি অজুর সঙ্গে মিসওয়াক করার আদেশ দিতাম।’ (মুসনাদে আহমদ, হাদিস: ৯৯২৮)
অন্য বর্ণনায় এসেছে, ‘আমি তাদের প্রতি প্রতিটি নামাজের পূর্বে মিসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৮৮৭)








