নাইজেরিয়ায় আটক অবস্থায় ৩৭ খনি শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় দ্রুত বিচার ও জব্দ করা সম্পদ ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন নিহতদের স্বজন ও বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরা তাদের অভিযোগ, অবৈধ খনির সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে আটক করার পর তাঁদের স্বজনদের এমন পরিস্থিতিতে রাখা হয়েছিল, যেখানে প্রাণ বাঁচানোর ন্যূনতম সুযোগও ছিল না। সরকারি তদন্তেও আটককেন্দ্রে অতিরিক্ত ভিড়, প্রচণ্ড গরম, পানিশূন্যতা ও অবহেলাকে মৃত্যুর কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
শুক্রবার প্রকাশিত রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মাসে নাইজেরিয়ার নাইজার রাজ্যে দেশটির নিরাপত্তা সংস্থা নাইজেরিয়া সিকিউরিটি অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স কর্পসের (এনএসসিডিসি) হেফাজতে ওই শ্রমিকদের মৃত্যু হয়। তাঁদের মধ্যে কিশোরও ছিল। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর দেশটিতে বিক্ষোভ শুরু হয় এবং আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে আচরণ ও হেফাজতের পরিবেশ নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়।
মঙ্গলবার প্রকাশিত এক সরকারি তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, আটক ব্যক্তিদের গাদাগাদি করে রাখার পাশাপাশি প্রচণ্ড গরম, পানিশূন্যতা ও দায়িত্ব পালনে অবহেলা তাঁদের মৃত্যুর পেছনে ভূমিকা রেখেছে। তদন্তের ফলাফল স্বাগত জানিয়েছে নাইজেরিয়ার সরকার। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ওলুবুনমি তুনজি-ওজো জানিয়েছেন, বিচারিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তদন্ত প্রতিবেদন অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে পাঠানো হয়েছে। তবে নিহতদের পরিবার ও বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরা কবে ক্ষতিপূরণ বা সরকারি সহায়তা পাবেন, সে বিষয়ে স্পষ্ট সময়সীমা জানানো হয়নি।
নিহতদের একজনের মা জয়নাব সালিহু বলেন, তাঁরা চেয়েছিলেন তাঁদের সন্তানরা বেঁচে ঘরে ফিরে আসুক। অর্থ দিয়ে এই ক্ষতি পূরণ করা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর ছেলে আটক অবস্থায় মারা যাওয়ার পর তাঁর স্বামীর স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটে এবং পরে তাঁর মৃত্যু হয় বলে দাবি করেন সালিহু। তবে স্বামীর মৃত্যুর সঙ্গে ওই ঘটনার সম্পর্ক রয়টার্স স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।
আটক অবস্থায় মারা যাওয়া ২৫ বছর বয়সী সুলেইমানের বাবা দান্তালা টানকোও ছেলেকে হারানোর শোক কাটিয়ে উঠতে পারছেন না। ছেলের কবরের পাশে প্রার্থনা করার পর তিনি বলেন, তাঁর ছেলে আর কখনো ফিরে আসবে না- এই বাস্তবতা মেনে নেওয়া তাঁর জন্য অত্যন্ত কষ্টের।
বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরাও তদন্তের ফলাফলকে স্বাগত জানালেও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। ২৫ বছর বয়সী দাউদা শেহুর ভাষ্য, যেসব কর্মকর্তা মানুষের জীবনের প্রতি এমন অবহেলা দেখিয়েছেন, তাঁদের দায়িত্বশীল পদে বহাল রাখা উচিত নয়। তাঁদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে এবং উপযুক্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।
২৩ বছর বয়সী আবদুস সালাম ইয়াকুব বলেন, সরকারি পদক্ষেপে দেরি হচ্ছে। আটকের সময় তাঁদের মোটরসাইকেল, মুঠোফোন, খনির সরঞ্জাম ও সোনা জব্দ করা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। এসব সম্পদ ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি প্রতিশ্রুত সহায়তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান ইয়াকুব।
ঘটনাটি নাইজেরিয়ার আটককেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা, হেফাজতে থাকা ব্যক্তিদের অধিকার এবং সন্দেহভাজনদের সঙ্গে আইনসম্মত আচরণ নিশ্চিত করার প্রশ্ন সামনে এনেছে। তদন্ত প্রতিবেদন অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে পাঠানো হলেও দায়ীদের বিরুদ্ধে বিচারিক পদক্ষেপ, ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং জব্দ করা সম্পদ ফেরত দেওয়ার বিষয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
তথ্য সূত্র- রয়টার্স।








