আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, আমরা দেশের নাগরিকদের আদালতের দ্বারে দ্বারে ঘুরে আর হয়রানির শিকার হতে দেখতে চাই না। জনগণের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ অবসান ঘটিয়ে ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন নিশ্চিত করাই আমাদের সরকারের মূল অঙ্গীকার।
সেইসঙ্গ দেশে আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করাই বিএনপি নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন তিনি।
আইন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত চতুর্থ ধাপে দেশের আরো ১২টি জেলায় ডিজিটাল ‘ই-বেইলবন্ড’ (ইলেকট্রনিক জামিননামা) ব্যবস্থার ভার্চুয়াল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বৃহস্পতিবার প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, আগে একটি জামিননামা আদালত থেকে কারাগার পর্যন্ত পৌঁছাতে এবং আসামি মুক্ত হতে ১২টি জটিল ধাপ অতিক্রম করতে হতো। এখন আইনজীবীরা তাদের চেম্বার বা যেকোনো স্থানে বসেই স্মার্টফোনের মাধ্যমে এক ক্লিকেই জামিননামা দাখিল করতে পারছেন।
প্রযুক্তিবান্ধব বিচার ব্যবস্থার সুফল তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নারায়ণগঞ্জে এ কার্যক্রমের প্রথম পাইলটিং চালুর পর এবং পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বগুড়াসহ ৭টি জেলায় উদ্বোধনের পর দেশের বিভিন্ন জেলায় সফলভাবে এটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।
তিনি আরো জানান, ৩ ধাপে ১৬টি জেলায় চালু হওয়ার পর ইতোমধ্যে ১ লাখ ২০ হাজার ই-বেইলবন্ডের মাধ্যমে ডিজিটাল জামিননামা সফলভাবে নিষ্পত্তি হয়েছে। নতুন ১২টি জেলা যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে বিচারিক প্রক্রিয়া আরো সহজ ও দ্রুত হবে।
এ নিয়ে দেশের ২৮টি জেলায় ই-বেইলবন্ড চালু করা হয়েছে। অবশিষ্ট জেলাগুলোতেও পর্যায়ক্রমে ই-বেইলবন্ড চালুর প্রস্তুতি চলছে বলেও উল্লেখ করেন আইনমন্ত্রী।
তিনি আরো বলেন, এ কার্যক্রম চালুর ফলে বিচারপ্রার্থী জনগণের ভোগান্তি অনেক লাঘব হবে, বিশেষ করে যারা আসামি আছেন। আমরা আশা করছি, এই কর্মসূচিকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সক্ষম হবো।
মামলাজট নিরসনে বিচারক ও বারের নেতাদের উদ্যোগ নেওয়ার তাগিদ দিয়ে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, কারাগারে থাকা আপসযোগ্য মামলাগুলো লিগ্যাল এইডে মধ্যস্থতার মাধ্যমে দ্রুত নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন। বছরের পর বছর একটি ছোট মামলা ঝুলে থাকলে একদিকে সরকারের বিপুল অর্থ খরচ হয়, অন্যদিকে বড় অপরাধের আসামিরাও অনেক সময় পার পেয়ে যায়।
মামলা কমানোর বিষয়ে সরকারের নতুন পরিকল্পনার কথা জানিয়ে আইনমন্ত্রী ঘোষণা দেন, আগামী এক বছরের মধ্যে যেসব জেলা বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ও কার্যকর পদক্ষেপে সবচেয়ে বেশি মামলার সংখ্যা কমাতে পারবে, আইন মন্ত্রণালয় থেকে তাদের বিশেষ পুরস্কৃত করা হবে।
অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা সভাপতির বক্তব্য রাখেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন- মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব খাদেমুল কায়েস।
এছাড়া অনুষ্ঠানে পটুয়াখালীর সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. শহিদুল্লাহ্, কক্সবাজারের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শফিউল আযম, চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মো. শামসুল ইসলাম এবং ঠাকুরগাঁও কারাগারের জেল সুপার মো. মাসুদুর রহমান ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে ই-বেইলবন্ড কার্যক্রমের বিষয়ে বক্তব্য রাখেন।








