বেড়েছে গ্যাস সরবরাহ

15 August, 2026

প্রকাশের সময়: 12:16 pm, 15th Aug, 2026

সর্বশেষ আপডেট: 12:19 pm, 15th Aug, 2026

শনিবার ভোর থেকে গ্যাস সরবরাহ বেড়েছে

শনিবার (১৫আগস্ট) ভোর থেকে গ্যাস সরবরাহ বেড়েছে। তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের টার্মিনাল সামিট পুরোদমে ও এক্সিলারেট এনার্জি আংশিক চালু হওয়ায় গ্যাসের সরবরাহ বেড়েছে।

ফলে টানা ২৫ দিন তীব্র গ্যাস সংকটের পর মানুষ কিছুটা স্বস্তি পেতে শুরু করেছেন। জানা যায়, গ্যাসের সরবরাহ পুরোপুরি ঠিক হতে আরো কয়েকদিন লাগতে পারে।

জ্বালানি বিভাগের অনুমোদনে এলএনজি আমদানি তদারকি করে বাংলাদেশ তেল, গ্যাস, খনিজসম্পদ কর্পোরেশন (পেট্রোবাংলা)।

আমদানির কাজটি করে পেট্রোবাংলার কোম্পানি রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল)।

এলএনজি সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শনিবার ভোর ৪টায় সামিটের টার্মিনাল থেকে ৪৬ কোটি ঘনফুট ও এক্সিলারেট থেকে ৩০ কোটি ঘনফুট করে এলএনজি সরবরাহ শুরু হয়েছে।

এ বিষয়ে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. আবদুল মান্নান বলেন, দুটি টার্মিনাল থেকেই গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে। সামিটের টার্মিনাল পূর্ণ সক্ষমতায় আর এক্সিলারেটের টার্মিনাল আংশিক সরবরাহ করছে।

আমদানি করা এলএনজি সরবরাহের জন্য কক্সবাজারের মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। এর মধ্যে মার্কিন কোম্পানি ‘এক্সিলারেট এনার্জি’র টার্মিনালের সক্ষমতা ৬০ কোটি ঘনফুট ও দেশীয় কোম্পানি ‘সামিট’ টার্মিনালের সক্ষমতা ৫০ কোটি ঘনফুট।

২১ জুলাই অগ্নিদুর্ঘটনায় এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যায়। এতে গ্যাসের সরবরাহ কমে যায়, বেড়ে যায় সংকট। রান্নার চুলা থেকে শুরু করে শিল্পকারখানা ও বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যাহত হয়। বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে গেল বেড়ে যায় লোডশেডিংও।

পেট্রোবাংলা সূত্র বলছে, এক্সিলারেটের টার্মিনালে দুটি বয়লার রয়েছে। প্রতিটি বয়লারের সক্ষমতা ৩০ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে একটি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অক্ষত বয়লারটি থেকে ৬ আগস্ট গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়।

শুক্রবার বিকেল ৪টায় হঠাৎ করে কারিগরি কারণে এক্সিলারেট থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ত্রুটি মেরামতের পর ওই বয়লার থেকে ফের গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়।

তবে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত বয়লারটি এখনো চালু করা যায়নি। এটি চালু করতে কাজ চলছে। এটি চালু করার আগে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে।

এতে ৭২ ঘণ্টা পুরোপুরি সরবরাহ বন্ধ থাকবে এক্সিলারেটের। এটি কবে করা হবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। এখনো নির্দিষ্ট করে কোনো সময় ঠিক করা হয়নি। আরো কিছুদিন সময় লাগতে পারে।

এদিকে, এলএনজি না পেয়ে সোমবার সামিটের টার্মিনাল থেকে সরবরাহ কমানো হয়।

মঙ্গলবার এটি ২০ কোটি ঘনফুটে নেমে আসে। বুধবার থেকে গত বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত ১০ কোটি ঘনফুট করে সরবরাহ করা হচ্ছিল।

বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।

শুক্রবার বিকেলে ভিটলের একটি জাহাজ আসে বঙ্গোপসাগরে। এটি থেকে সন্ধ্যা ৭টায় সামিটের টার্মিনালে এলএনজি খালাস শুরু হয়।

খালাসে ৮ ঘণ্টার মতো সময় লাগে। অবশ্য তার আগে সন্ধ্যা ৬টা থেকে টার্মিনালের জমানো মজুত থেকে গ্যাস সরবরাহ শুরু করে সামিট।

শুরুতে সাড়ে ৯ কোটি ঘনফুট করে সরবরাহ করা হয়। ভোররাতে এটি ৪৬ কোটি ঘনফুটে পৌঁছায়। আরো ৭-৮ কোটি ঘনফুট সরবরাহ বাড়াতে পারে তারা।

এর আগে বঙ্গোপসাগরে আসা সৌদি আরামকোর এলএনজি জাহাজটি ফেরত পাঠানো হয়েছে।

নিয়মিত এলএনজি নিয়ে যেসব জাহাজ আসে, সৌদি আরামকোর পাঠানো আগের জাহাজটি তেমন ছিল না। জাহাজ থেকে জাহাজে এলএনজি স্থানান্তরের সামঞ্জস্য থাকতে হয়, যেটি সৌদি আরামকোর পাঠানো এলএনজি জাহাজের ছিল না। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে।

সে কারণে এটি নিয়ে টার্মিনাল থেকে আগেই আপত্তি দেওয়া হলেও আরামকো সেটি পাঠিয়েছে। কয়েক দিন এটি সাগরে অপেক্ষা করলেও ওই জাহাজ থেকে এলএনজি নেওয়া যায়নি।

পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা জানান, সমুদ্রে কিছুটা বৈরী আবহাওয়ার কারণে আরামকোর জাহাজটি থেকে এলএনজি নেওয়া যায়নি। সমুদ্র শান্ত থাকলে হয়ত ওই জাহাজ থেকে এলএনজি নেওয়া যেতো। জাহাজটি ফেরত পাঠানো হয়েছে। আরামকোর বদলে আরেকটি এলএনজি জাহাজ পাঠাবে।

ভিটল এশিয়ার নতুন জাহাজটি থেকে এলএনজি নিতে কোনো অসুবিধা হয়নি। এসব জাহাজ থেকে নিয়মিত এলএনজি নিতে অভ্যস্ত মহেশখালীর দুই টার্মিনাল।

দেশে দিনে গ্যাসের চাহিদা ৩শ ৮০ কোটি ঘনফুট। ৩শ কোটি ঘনফুট হলেও মোটামুটি সব খাতে সরবরাহ ধরে রাখা যায়।

যদিও স্বাভাবিক সময়ে ২শ ৭০ কোটি ঘনফুট পর্যন্ত সরবরাহ করে রেশনিংয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়। এর মধ্যে এলএনজি থেকে সরবরাহ করা হয় ১শ ৫ কোটি ঘনফুট।

এক্সিলারেট বন্ধের আগে এ হারে সরবরাহ করা হচ্ছিল।

শুক্রবার বিকেলে দেশের মোট গ্যাস সরবরাহ ১শ ৭৩ কোটি ঘনফুটে নেমে আসে। এখন এটি বেড়ে প্রায় ২শ ৪০ কোটি ঘনফুট হয়েছে।

স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে এখনো দিনে ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের সরবরাহ ঘাটতি রয়েছে। এক্সিলারেট টার্মিনাল থেকে পুরোদমে গ্যাস সরবরাহ শুরু হলে সেই ঘাটতি পূরণ হতে পারে।

শেয়ার করুন!