১শ ৮০ দিনের প্রতিশ্রুতি: অধিকাংশই রক্ষা করতে পারেনি সরকার

24 August, 2026

প্রকাশের সময়: 03:50 pm, 24th Aug, 2026

সর্বশেষ আপডেট: 03:53 pm, 24th Aug, 2026

বিএনপির ১শ ৮০ দিনের প্রতিশ্রুতি: অধিকাংশই রক্ষা করতে পারেনি: নাহিদ ইসলাম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম ক্ষমতাসীন দল বিএনপি’র সমালোচনা করে বলেছেন, তারা প্রতিশ্রুতির অধিকাংশই রক্ষা করতে পারেনি।

তিনি বলেন, সরকার (বিএনপি) ১শ ৮০ দিন অতিবাহিত করেছে। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি কী রকম ছিল, সরকারের ব্যবস্থাপনা কী রকম ছিল, ১শ ৮০ দিন উপলক্ষে সরকার নিজেরাই প্রেসব্রিফিং করেছে।

তারা একটা ই-বুক প্রকাশ করেছে। দেখেছি, তারা যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সরকার গঠনের ১শ ৮০ দিনে এর অধিকাংশই রক্ষা করতে পারেনি।

সোমবার (২৪ আগস্ট) রাজধানীর বাংলামোটরের দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সরকারের ১শ ৮০ দিনের ব্যর্থতার খতিয়ান নিয়ে এনসিপি’র জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম।

নাহিদ ইসলাম বলেন, দেশে যে সংকট তৈরি হয়েছে, সে বিষয়েও তাদের (সরকারের) জবাবদিহিতা নেই। তিনি বলেন, ব্যর্থতার পরেও তারা নিজেদের সফলতা দাবি করছে।

বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে ১শ ৮০ দিনের পরিকল্পনায় অগ্রাধিকার দেওয়া ৩টি বিষয়েই ব্যর্থ হয়েছে মন্তব্য করে নাহিদ ইসলাম বলেন, চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত বিএনপি সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে তারা ১শ ৮০ দিনের জন্য একটা পরিকল্পনা নির্ধারণ করেছিল।

সেখানে তারা ৩টি বিষয়ে অগ্রাধিকার দিয়েছিল- দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন এবং বিদ্যুৎ-জ্বলানি সরবরাহ। এই ৬ মাসে ৩টি বিষয়েই তারা নিদারুণভাবে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।

নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রতিটি পণ্যের দাম ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয় ঊর্ধ্বমুখী। নিত্যপণ্যের বাজারে সিন্ডিকেট পুরোদমে সক্রিয় রয়েছে। সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের তুলনায় বিগত ৬ মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। বিদ্যুৎসরবরাহ ভয়াবহ বাজে পরিস্থিতিতে আছে।

অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনার কথা তুলে ধরে এনসিপি’র আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- জ্বালানি সংকট ও দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি।

এই সরকার আসার পর পাম্পগুলোতে ভয়াবহ পেট্রোল এবং ডিজেল সংকট শুরু হয়েছিল। দীর্ঘ লাইনও ছিল।

সেসময় সংসদে জ্বালানিমন্ত্রী দাবি করেছিলেন জ্বালানি সংকট নেই। এগুলো পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে। পরে সংসদে কমিটি দিয়ে প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়। সেখানে বিরোধীদল অংশ নিয়েছিল। আমরা প্রস্তাবনা দিলেও সে অনুযায়ী কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সেসময় জ্বালানি তেলের দাম রেকর্ড পরিমাণে বাড়ানো হয়েছিল।

জ্বালানি ও অন্যান্য সংকটে স্থানীয় নেতাদের প্রশ্রয়ে সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছিল বলে মন্তব্য করে নাহিদ ইসলাম বলেন, তখন পাম্পের ভূগর্ভস্থ ট্যাংকে তেল মজুত করে রাখা হয়েছিল। অভিজ্ঞতাহীন প্রভাবশালী গোষ্ঠীর সরবরাহ ব্যবসায় প্রবেশ করেছিল। উচ্চ কমিশনে বিপিসি এবং পেট্রোবাংলার পাইকারি বিক্রি শুরু হয়েছিল।

জ্বালানি ক্রয়ে স্বচ্ছতার প্রশ্ন অনুপস্থিত ছিল এবং গড়ে ওঠা সিন্ডিকেট সরকার ভাঙতে পারেনি।

শেয়ার করুন!