পার্বত্য চট্টগ্রামে বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক আধুনিকায়নে সাড়ে ১৭ কোটি ডলার দিচ্ছে এডিবি

01 September, 2026

প্রকাশের সময়: 03:42 pm, 1st Sep, 2026

সর্বশেষ আপডেট: 03:42 pm, 1st Sep, 2026

এ অর্থ দিয়ে দুর্গম তিন পার্বত্য জেলার বিদ্যুৎ বিতরণ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন করা হবে। এতে কর্মসংস্থান ও জীবিকার সুযোগ বাড়ার পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন জরুরি সেবা উন্নত হবে বলে জানিয়েছে এডিবি।

পার্বত্য চট্টগ্রামে নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়াতে সাড়ে ১৭ কোটি ডলারের ঋণ অনুমোদন করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। বাংলাদেশী মুদ্রায় এ অর্থের পরিমাণ প্রায় ২১ হাজার ৪৮৯ কোটি টাকা (১২২ টাকা ৭৯ পয়সা প্রতি ডলার হিসাবে)। এ অর্থ দিয়ে দুর্গম তিন পার্বত্য জেলার বিদ্যুৎ বিতরণ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন করা হবে। এতে কর্মসংস্থান ও জীবিকার সুযোগ বাড়ার পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন জরুরি সেবা উন্নত হবে বলে জানিয়েছে এডিবি।

আজ মঙ্গলবার প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এডিবি জানায়, ‘সাসটেইনেবল এনার্জি ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কমিউনিটি এমপাওয়ারমেন্ট ইন দ্য চট্টগ্রাম হিল ট্র্যাক্টস’ প্রকল্পের আওতায় খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানের ২৬টি দুর্গম উপজেলায় বিদ্যুৎ বিতরণ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন করা হবে। এর মাধ্যমে অন্তত ৮৮ হাজার পরিবার বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আসবে। এর মধ্যে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ৩৫ হাজার পরিবার রয়েছে।

এ প্রকল্পের আওতায় ৩৩/১১ কিলোভোল্টের ছয়টি উপকেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। এতে বিদ্যুৎ সঞ্চালন সক্ষমতা ৮০ মেগাভোল্ট-অ্যাম্পিয়ার বাড়বে। পাশাপাশি কম বিদ্যুৎ ক্ষয় হয় এমন পরিবাহক ব্যবহার করে ৫ হাজার ৩২ কিলোমিটার বিতরণ লাইন নির্মাণ এবং পুরনো ১ হাজার ৮৭৪ কিলোমিটার বিতরণ লাইন আধুনিকায়ন করা হবে। চারটি উপকেন্দ্র, একটি সুইচিং স্টেশন ও একটি জোনাল মেরামত কর্মশালাও উন্নত করা হবে।

এডিবি বলছে, এসব উদ্যোগের ফলে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার সিস্টেম লস ও পরিচালন ব্যয় কমবে, গ্রিডের দক্ষতা বাড়বে এবং দুর্যোগ মোকাবেলায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থার সক্ষমতা শক্তিশালী হবে। পাশাপাশি বছরে অন্তত ১৯ হাজার ৩০০ টন কার্বন ডাই-অক্সাইড সমতুল্য নিঃসরণ কমবে।

বাংলাদেশে এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর চিংফেং ঝাং বলেন, নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ কর্মসংস্থান, ব্যবসা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও কমিউনিটির সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রকল্পটির মাধ্যমে চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলের দুর্গম জনগোষ্ঠী নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সুবিধা পাবে। পাশাপাশি জীবিকার সুযোগ বাড়বে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নারীদের অংশগ্রহণও বাড়বে।

এডিবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রায় ১৮ লাখ ৪০ হাজার মানুষের বসবাস। এদের অর্ধেকের বেশি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য। সারা দেশে বিদ্যুতায়নের হার ৯৯ শতাংশে পৌঁছালেও পার্বত্য তিন জেলায় গ্রিড সংযোগের হার অনেক কম। খাগড়াছড়িতে এ হার ৪৯ শতাংশ, রাঙ্গামাটিতে ৪৩ শতাংশ এবং বান্দরবানে ৪১ শতাংশ।

এডিবির প্রকল্পের মাধ্যমে ২০৩২ সালের মধ্যে এ অঞ্চলে গ্রিড সংযোগের হার ৬৮ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে সৌরবিদ্যুৎ ও পিকো-হাইড্রোপাওয়ারসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের উপযোগী করে গ্রিড ব্যবস্থাও প্রস্তুত করা হবে।

সামাজিক উন্নয়নের অংশ হিসেবে কমিউনিটি সংগঠনের ব্যবস্থাপনায় অন্তত ৩০টি সৌরবিদ্যুৎচালিত নিরাপদ পানির ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে। এসব সংগঠনের নেতৃত্বে অন্তত ৩০ শতাংশ নারী থাকার শর্ত থাকবে। এছাড়া বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় পরিষেবা সচল রাখতে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী অধ্যুষিত এলাকায় অন্তত ২০টি স্কুল, হাসপাতাল, মন্দির ও ক্লিনিকে সৌরবিদ্যুৎভিত্তিক ব্যাকআপ ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে।

এডিবি জানিয়েছে, এ প্রকল্পের আওতায় অন্তত ১ হাজার মানুষকে জীবিকাভিত্তিক প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। দুই শতাধিক উদ্যোক্তাকে ব্যবসা বিকাশে সহায়তা দেয়া হবে। এছাড়া ৩০০ শিক্ষার্থীকে জ্বালানি খাতে ক্যারিয়ার এবং দুর্যোগসহনশীল জ্বালানি ব্যবস্থা বিষয়ে ধারণা দেয়া হবে।

পাশাপাশি গ্রাহকসেবা উন্নত করতে তিনটি অভিযোগ কেন্দ্র এবং ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা-সমৃদ্ধ তিনটি শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) কর্মকর্তাদের গ্রাহকসেবা, বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ, সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং দুর্যোগসহনশীল প্রযুক্তি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।

এডিবির ঋণের পাশাপাশি জাপান সরকারের অর্থায়নে ‘জাপান ফান্ড ফর প্রসপারাস অ্যান্ড রেজিলিয়েন্ট এশিয়া অ্যান্ড দ্য প্যাসিফিক’ থেকে প্রকল্পটিতে ২৭ লাখ ২০ হাজার ডলার অনুদান দেয়া হবে। বাংলাদেশ সরকার দেবে ৩ কোটি ৬৫ লাখ ৪০ হাজার ডলার এবং প্রকল্পের বাস্তবায়নকারী সংস্থা বিপিডিবি দেবে ৪ কোটি ৫৬ লাখ ৫০ হাজার ডলার।

শেয়ার করুন!