শেখ হাসিনার সমর্থনকে ‘অপরাধ’ হিসেবে গণ্য করতে আইন করতে হবে

01 September, 2026

প্রকাশের সময়: 08:39 pm, 1st Sep, 2026

সর্বশেষ আপডেট: 08:39 pm, 1st Sep, 2026

শেখ হাসিনার সমর্থনকে ‘অপরাধ’ হিসেবে গণ্য করতে আইন করতে হবে

শেখ হাসিনার পক্ষে কথা বলা বা তাকে সমর্থন করাকে ‘অপরাধ’ হিসেবে গণ্য করতে হলে এ বিষয়ে আইন করতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

বাংলাদেশ সচিবালয়ে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতির বিষয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ডা. জাহেদ বলেন, কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেই তাকে অপরাধী বানানো যাবে না। আইনের ভিত্তিতেই ব্যবস্থা নিতে হবে।

সাংবাদিকদের একাংশ শেখ হাসিনার মানবতাবিরোধী অপরাধের সহযোগী হিসেবে ভূমিকা রেখেছেন, এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, যাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে এবং সেই অপরাধের আওতায় নেওয়ার মতো তথ্য-প্রমাণ রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার হচ্ছে। কয়েকজন সাংবাদিক এরই মধ্যে এ ধরনের মামলায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, কোনো কিছুকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার আগ পর্যন্ত কারো বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ আনা যায় না। আইন করে অপরাধ হিসেবে গণ্য করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগই ছিল, সেখানে ন্যায়বিচার ছিল না এবং আইনের ভিত্তিতে কাজ করা হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে আইন থাকলেও তা পরিকল্পিতভাবে খারাপ আইন হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। সে কারণে বর্তমান সরকার বা ভবিষ্যতের কোনো গণতান্ত্রিক সরকারের অধীনে কেউ যেন অন্যায়ের শিকার না হন, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।

এছাড়া সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে গোপনে বৈঠক বা ষড়যন্ত্রের অভিযোগের বিষয়ে ডা. জাহেদ বলেন, কোনো গোপন বৈঠক হয়েছে কি না, সেটি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দেখার বিষয়। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ব্যাহত হতে পারে, এমন কোনো তৎপরতা হলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় আলাদা ‘সাংবাদিক সুরক্ষা আইন’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, হামলা বা নির্যাতনের ঘটনায় প্রচলিত আইনেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। নতুন আইন করা যেতে পারে, তবে শুধু নতুন আইন করলেই সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, এমনটা নয়।

তার মতে, সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনাগুলোর বিচার বিদ্যমান আইনেই অব্যাহত রাখা উচিত।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাংস্কৃতিক কর্মীদের নাম অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, তদন্ত চলাকালে কারো নাম নিয়ে অনুমাননির্ভর আলোচনা করা উচিত নয়।

প্রধান প্রসিকিউটর কোনো সাংস্কৃতিক কর্মীর সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য পাওয়ার কথা জানালেও আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ না হওয়া পর্যন্ত কারো নাম প্রকাশ করা ঠিক হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেন্সেশনালিজমের (চাঞ্চল্য সৃষ্টি) জন্য যে কারো একটা নাম বলে ফেলা উচিত নয়। কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তদন্তের মাধ্যমে তা যাচাই করে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করা হলে সংবাদমাধ্যম তখন বিষয়টি জানতে পারবে।

শেয়ার করুন!