স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এনসিপি: ঢাকা উত্তরে আসিফ, দক্ষিণে পাটওয়ারী প্রার্থী

08 September, 2026

প্রকাশের সময়: 07:47 pm, 8th Sep, 2026

সর্বশেষ আপডেট: 07:47 pm, 8th Sep, 2026

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এনসিপি: ঢাকা উত্তরে আসিফ, দক্ষিণে পাটওয়ারী প্রার্থী

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জামায়াতের সঙ্গে জোটে না গিয়ে এককভাবে অংশ নেবে বলে জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। সিটি কর্পোরেশনসহ স্থানীয় সরকারের অন্যান্য নির্বাচনে এককভাবে প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে দলটি।

ইতোমধ্যে ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণসহ ৫ সিটি কর্পোরেশনে মেয়র পদে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে এনসিপি।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে (ডিএনসিসি) এনসিপির প্রার্থী হচ্ছেন দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে (ডিএসসিসি) প্রার্থী হচ্ছেন- দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

তবে আনুষ্ঠানিকভাবে পরে তাদের প্রার্থিতা ঘোষণা করা হবে জানা গেছে।

এনসিপির দলীয় সূত্র জানায়, সম্প্রতি ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ কর্মসূচির প্রস্তুতি সভায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জোটগতভাবে না গিয়ে আলাদাভাবে অংশ নেওয়ার বিষয়ে শরিকেরা একমত হয়।

এরপর এনসিপির রাজনৈতিক পরিষদের বৈঠকে সিটি কর্পোরেশনের প্রার্থী তালিকায় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত হয়।

এর আগে চলতি বছরের ৩০ মার্চ ঢাকাসহ ৫ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করে এনসিপি।

তখন ঢাকা দক্ষিণে আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া এবং ঢাকা উত্তরে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ও মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীবকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়।

এখন আদীবকে বাদ দিয়ে উত্তরে আসিফ মাহমুদকে এবং দক্ষিণে আসিফের পরিবর্তে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রার্থিতা সামনে রেখে প্রাথমিক প্রস্তুতিও শুরু করেছেন দুজন।

এ জন্য আসিফ মাহমুদ ঢাকা দক্ষিণের ভোটার এলাকা পরিবর্তন করে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন আফতাবনগর এলাকার ভোটার হয়েছেন।

অন্যদিকে, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঢাকা উত্তর থেকে ভোটার এলাকা পরিবর্তন করে দক্ষিণের আওতাধীন ঢাকা-৮ সংসদীয় এলাকার ভোটার হয়েছেন।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে সংশ্লিষ্ট সংসদীয় এলাকার ভোটার হওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীকে সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটার হতে হয়। একইভাবে মনোনয়নপত্রের প্রস্তাবক ও সমর্থককেও ওই এলাকার ভোটার হতে হয়।

 এনসিপির নেতারা বলছেন, মেয়র পদে নির্বাচন করার প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই আসিফ ও নাসীরুদ্দীন ভোটার এলাকা পরিবর্তন করেছেন।

এ বছরের ৩০ মার্চ ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন ছাড়াও কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনে জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক তারিকুল ইসলাম, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনে মহানগর এনসিপির আহ্বায়ক মো. মোবাশ্বের আলী এবং সিলেট সিটি কর্পোরেশনে মহানগর এনসিপির আহ্বায়ক আবদুর রহমান আফজালকে মেয়র পদে প্রার্থী করার ঘোষণা দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সাংবাদিকদের জানান, ঢাকা উত্তরে আসিফ মাহমুদ মেয়র পদে নির্বাচন করবেন। দক্ষিণে তার নির্বাচন করার কথা রয়েছে। তবে দল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী ঘোষণা করার পরই বিষয়টি নিশ্চিত হবে।

এ বছরের ১২ ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-৮ আসনে নির্বাচন করেন। অল্প ব্যবধানে তাকে হারিয়ে জয়ী হন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। তবে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ এ নির্বাচনে অংশ নেননি।

প্রার্থী বদলের নেপথ্যে

এনসিপির দলীয় সূত্র বলছে, ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনে মেয়র প্রার্থী বাছাইয়ের আগে দলটি কিছু সমীক্ষা চালায়।

এতে আসিফ মাহমুদকে ঢাকা উত্তরে এবং নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে দক্ষিণে প্রার্থী করা হলে ভালো ফল পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে তথ্য উঠে আসে। আসিফ মাহমুদও মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি যাচাই করে ঢাকা উত্তরে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে সম্মতি দেন।

এনসিপি সূত্র জানায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনে প্রার্থী হওয়ার কারণে ওই এলাকায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর একটি রাজনৈতিক অবস্থান তৈরি হয়েছে। দলীয় সমীক্ষাতেও এর প্রতিফলন পাওয়া গেছে। এসব বিবেচনায় তাকে ঢাকা দক্ষিণে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

আসিফ মাহমুদ জানান, তার ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ভোটার এলাকা পরিবর্তন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতিরই অংশ।

প্রায় দুই সপ্তাহ আগে দলের সর্বোচ্চ ফোরামে আলোচনা করে তাকে ঢাকা উত্তরে ও নাসীরুদ্দীনকে ঢাকা দক্ষিণে মেয়র পদে নির্বাচন করানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে দল পরে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী ঘোষণা করবে।

আসিফ মাহমুদ জানান, সিটি কর্পোরেশনসহ সব স্থানীয় সরকার নির্বাচনেই এককভাবে অংশ নেবে এনসিপি। সেই লক্ষ্যেই প্রস্তুতি চলছে।

জামায়াতে ইসলামী এখনো সিটি নির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা করেনি। তবে ঢাকা দক্ষিণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম এবং ঢাকা উত্তরে মহানগর আমির সেলিম উদ্দিন মেয়র পদে নির্বাচন করতে পারেন বলে আলোচনা রয়েছে।

রাজনীতি জোটগত, ভোট আলাদা

জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির সূত্র বলছে, স্থানীয় নির্বাচনে জোটগতভাবে অংশ নেওয়ার বিষয়ে জামায়াতের আগ্রহ কম।

এনসিপিসহ অন্য শরিকেরাও মনে করে, স্থানীয় নির্বাচনে কার্যকরভাবে জোটগত নির্বাচন করা প্রায় অসম্ভব। অতীতেও স্থানীয় নির্বাচনে জোটগতভাবে প্রার্থী দেওয়ার নজির নেই। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা স্থানীয় নির্বাচনে আলাদাভাবে ভোট করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তবে স্থানীয় নির্বাচনে আলাদাভাবে ভোট করলেও রাজনৈতিকভাবে ১১ দলীয় ঐক্য অটুট থাকবে।

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, বিদ্যুৎ, গ্যাস সংকটসহ জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচি পালন করবে তারা। এর মধ্যে আরো ৩টি লংমার্চ এবং পরে ঢাকায় মহাসমাবেশ করার কর্মসূচি রয়েছে।

এনসিপি ও জামায়াতের সূত্র জানিয়েছে, স্থানীয় নির্বাচনে আলাদাভাবে প্রার্থী দিলেও শরিকদের প্রার্থীরা যাতে পরস্পরের সঙ্গে সংঘাতে না জড়ান, সে বিষয়ে সমন্বয় থাকবে।

নির্বাচন কমিশন বা সরকারের পক্ষ থেকে অসহযোগিতা কিংবা ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর পক্ষে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা হলে ১১ দলীয় ঐক্যের শরিকেরা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিবাদ করবে। কেন্দ্রীয়ভাবেও এসব প্রতিবাদ কর্মসূচিতে একসঙ্গে অংশ নেবেন তারা।

জামায়াতে ইসলামী ছাড়া ১১ দলীয় ঐক্যের অন্যতম শরিক দল হলো- এনসিপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)।

শেয়ার করুন!