নিজের ছবিকে ৮০-এর দশকের মতো বানাবেন যেভাবে

09 September, 2026

প্রকাশের সময়: 06:56 pm, 9th Sep, 2026

সর্বশেষ আপডেট: 06:58 pm, 9th Sep, 2026

ফ্যাশনে পুরোনো দিনের ছোঁয়া যেন কখনোই পুরোপুরি হারিয়ে যায় না। একসময় জনপ্রিয় পোশাক, চুলের স্টাইল কিংবা মেকআপের ধরন নতুন প্রজন্মের হাত ধরে আবার ফিরে আসে নতুন রূপে। কখনো সেটি দেখা যায় পোশাকে, কখনো মেকআপে, আবার কখনো ছবির ফ্রেমেই ফিরে আসে পুরোনো দিনের আবহ।

আশির দশকের সৌন্দর্যের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল চোখে পড়ার মতো সাজ। বড় ও ভলিউমযুক্ত চুল, উজ্জ্বল মেকআপ, স্টেটমেন্ট গয়না এবং কনট্রাস্ট রঙের পোশাক মিলিয়ে সে সময়ের ফ্যাশনে ছিল আলাদা এক আত্মবিশ্বাস। বর্তমানের একটি ছবিকে এআইয়ের সাহায্যে এমনভাবে রূপ দেওয়া হচ্ছে, যেন সেটি কয়েক দশক আগে কোনো স্টুডিও ক্যামেরায় তোলা।

বিভিন্ন সময়কে কেন্দ্র করে এআই ছবি তৈরির প্রবণতা নতুন নয়। কখনো মানুষ নিজেকে ভবিষ্যতের চরিত্র হিসেবে কল্পনা করছেন, আবার কখনো ফিরে যাচ্ছেন অতীতের কোনো নির্দিষ্ট সময়ের পোশাক ও পরিবেশে। তবে আশির দশকের লুকের প্রতি আগ্রহ যেন একটু আলাদাই।

এ ধরনের ছবি তৈরি করতে প্রথমে এআই ছবি তৈরির কোনো টুলে নিজের পরিষ্কার ছবি আপলোড করুন। ছবিতে মুখ যেন স্পষ্ট থাকে এবং আলো ভালো হয়। এরপর আপনি কেমন ধরনের আশির দশকের লুক চান, সেটি নির্দেশনায় যত পরিষ্কারভাবে লিখবেন, ফলাফলও তত নির্দিষ্ট হতে পারে।

‘ছবিটিকে ১৯৮০-এর দশকের একটি বাস্তবসম্মত পোর্ট্রেটে রূপান্তর করুন। ব্যক্তির মুখের বৈশিষ্ট্য, পরিচয়, বয়স ও স্বাভাবিক অভিব্যক্তি অপরিবর্তিত রাখুন। ১৯৮০-এর দশকের উপযোগী চুলের স্টাইল, পোশাক ও মেকআপ দিন। পেছনে রাখুন পুরোনো স্টুডিওর আবহ। ছবিতে ৩৫ মিমি ফিল্মের সূক্ষ্ম দানা, উষ্ণ রং, নরম ফ্ল্যাশ, স্বাভাবিক ছায়া এবং বাস্তবসম্মত ত্বকের টেক্সচার যোগ করুন। ছবিটি যেন শুধু ভিনটেজ ফিল্টার দেওয়া আধুনিক ছবি না হয়ে সত্যিই ১৯৮০-এর দশকে তোলা একটি ছবি মনে হয়। কোনো লেখা, ওয়াটারমার্ক বা আধুনিক উপাদান রাখবেন না।’

শুধু ‘৮০-এর দশকের লুক’ লিখলে ছবিতে সাধারণ কোনো আন্তর্জাতিক রেট্রো স্টাইল চলে আসতে পারে। তাই আরও নির্দিষ্ট ফল চাইলে নির্দেশনায় নিজের পছন্দের সময়, স্থান ও পোশাকের কথা উল্লেখ করতে পারেন।

যেমন বাংলাদেশের আশির দশকের ফ্যাশন, পুরোনো ঢাকার রাস্তা, সে সময়ের স্টুডিও, কাঠের আসবাব, পুরোনো টেলিফোন, ফিল্ম ক্যামেরার আলো কিংবা সেই সময়ের জনপ্রিয় পোশাকের কথা যোগ করা যায়। এতে ছবিতে শুধু ভিনটেজ আবহ নয়, বরং স্থানীয় সময় ও সংস্কৃতির ছাপও ফুটে উঠতে পারে।

ছবিকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করতে চুলের ধরন ও পোশাকের বর্ণনা নির্দিষ্ট করে দেওয়া যেতে পারে। যেমন ভলিউমযুক্ত ওয়েভি চুল, বড় কলার, পাফড স্লিভ, কোমরে বেল্ট কিংবা উজ্জ্বল রঙের পোশাকের কথা বলা যায়। মেকআপে স্পষ্ট আইলাইনার, একটু গাঢ় লিপস্টিক বা উজ্জ্বল আইশ্যাডোর মতো উপাদানও যোগ করা যেতে পারে।

তবে সব উপাদান একসঙ্গে ব্যবহার না করে একটি নির্দিষ্ট স্টাইল বেছে নেওয়া ভালো। এতে ছবিটি অতিরিক্ত কৃত্রিম না হয়ে বরং স্বাভাবিক রেট্রো লুক পাবে।

এআইয়ের বর্তমান সক্ষমতায় শুধু ছবির রং বদলানো নয়, একটি নির্দিষ্ট সময়ের পোশাক, চুল, আলো, পরিবেশ এবং ফটোগ্রাফির ধরনও তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে কয়েকটি নির্দেশনার মাধ্যমেই বর্তমানের একটি ছবি হয়ে উঠতে পারে কয়েক দশক আগের স্মৃতির মতো।

সোশ্যাল মিডিয়ার এই ট্রেন্ড শুধু পুরোনো দিনের পোশাক ফিরিয়ে আনার বিষয় নয়। আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে নিজের ছবির মধ্যেই একটি হারিয়ে যাওয়া সময়কে কল্পনা করে নেওয়ার সুযোগ। চার দশক আগের সেই আবহ এখন ফিরে আসছে, তবে এবার স্মৃতির অ্যালবামে নয়-ডিজিটাল স্ক্রিনে।

সূত্র: লাইভমিন্ট, হিন্দুস্তান টাইমস

শেয়ার করুন!