এক রানওয়ের কারণে দিনে ২০ লাখ টাকা ক্ষতি

13 September, 2026

প্রকাশের সময়: 01:11 pm, 13th Sep, 2026

সর্বশেষ আপডেট: 01:11 pm, 13th Sep, 2026

শাহজালালের থার্ড টার্মিনাল নির্মাণে এয়ার অপারেটরদের মতামত নেয়া হয়নি। থার্ড টার্মিনালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত এয়ার অপারেটরদের কখনো জিজ্ঞেস করা হয়নি কী করতে চাই বা কী প্রয়োজন। অথচ থার্ড টার্মিনাল সবার আগে অপারেটরদের জন্য। অপারেটরই যাত্রীদের সুবিধা করে দেবে।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি রানওয়ের কারণে প্রতিদিন প্রায় ২০ লাখ টাকা ক্ষতির মুখে পড়ছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস। ট্যাক্সিওয়েতে উড়োজাহাজকে ১০-২০ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে অতিরিক্ত জ্বালানি পুড়ছে এবং সময়মতো ফ্লাইট পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না।

ইউএস-বাংলার একটি বোয়িংয়ের ক্ষেত্রে শুধু একটি রানওয়ের জন্য প্রায় ৩০০ লিটার বেশি জ্বালানি পোড়ে। একটি এয়ারবাসের ক্ষেত্রে প্রায় ৯০০ লিটার এবং ছোট একটি এটিআরের ক্ষেত্রে ২৫ মিনিটের ফ্লাইটে প্রায় ৭৫ লিটার জ্বালানি পোড়ে। আমরা অন-টাইম মেইনটেইন করতে পারি না। যাত্রী আমাদের বলে, ফ্লাইট ১৫ মিনিট ডিলে। কিন্তু আমাদের কিছু করার নেই।

শাহজালালের থার্ড টার্মিনাল নির্মাণে এয়ার অপারেটরদের মতামত নেয়া হয়নি। থার্ড টার্মিনালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত এয়ার অপারেটরদের কখনো জিজ্ঞেস করা হয়নি কী করতে চাই বা কী প্রয়োজন। অথচ থার্ড টার্মিনাল সবার আগে অপারেটরদের জন্য। অপারেটরই যাত্রীদের সুবিধা করে দেবে।

এভিয়েশন হাব করতে হলে দেশীয় এয়ারলাইনসের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বিদেশী এয়ারলাইনসের কোনো ভূমিকা নেই। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড না হলে বাংলাদেশে এভিয়েশন দাঁড়াবে না।

ঢাকা থেকে কুয়ালালামপুর গেলে একজন যাত্রীকে ট্যাক্স ও ভ্যাট মিলিয়ে প্রায় ৯ হাজার ৮৯০ টাকা দিতে হয়। আবার কুয়ালালামপুর থেকে ঢাকায় আসার সময় তারা নেয় মাত্র ২০০ টাকা। সিঙ্গাপুরের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ থেকে গেলে প্রায় ৯ হাজার ৮৯০ টাকা দিতে হয়।

ডমেস্টিকে কিছুদিন আগেও ১৫০ বা ২০০ টাকা ছিল। পরে ৪০০ টাকা হয়েছে, এখন ৫০০ টাকা। ঢাকা থেকে যশোর গেলে ৫০০ টাকা ট্যাক্স ও ২০০ টাকা মিলে ৭০০ টাকা দিতে হয়। লিটারপ্রতি জ্বালানির দাম বাংলাদেশে বেশি। আমাদের টিকিট বিক্রি হলে ৭ শতাংশ কমিশন দিতে হয়।

ইউএস বাংলা ২০২৩ সালে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের সনদ পেয়েছে। বিধিবিধান অনুযায়ী আমরা গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং করতে সক্ষম। বিধিবিধান আছে, গ্লোবাল সার্টিফিকেশন আছে, কিন্তু লাইসেন্স নেই।

সিভিল এভিয়েশন অথরিটির কাছে অপারেটরদের পাওনা প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে বেসরকারি ক্যারিয়ারগুলোর প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা। বিমান বাংলাদেশের কাছেও বড় অংকের পাওনা রয়েছে।

হাব হলে যাত্রীকে ২ থেকে ৬ ঘণ্টা পর্যন্ত ঘোরার ও সময় কাটানোর মতো পর্যাপ্ত জিনিসপত্র দিতে হবে। কিন্তু বাংলাদেশে ম্যাকডোনাল্ডস নেই, ডানকিন ডোনাটস নেই, কোনো বড় ব্র্যান্ড নেই।

থার্ড টার্মিনালের নির্মাণ এলাকা প্রায় ১০০ বিঘা। এতেই আমরা কল্পনা করছি যে দক্ষিণ এশিয়ার হাব হব। সিঙ্গাপুরে শুধু এয়ারপোর্টের পাশে শপিং ও বিনোদনের জন্য ৩০ বিঘার বেশি জায়গাজুড়ে একটি এন্টারটেইনমেন্ট জোন তৈরি করা হয়েছে।

সিভিল এভিয়েশনের বিধিমালা ১৯৮৪ সালের। আজ ২০২৬ সালে নতুন বিধি হচ্ছে। মন্ত্রীর উদ্যোগ ছাড়া এটা হতো না। আমরা আশা করি, অচিরেই এটাকে আইনে পরিণত করা হবে। নতুন নীতির ফলে এয়ারলাইনসের ব্যয় সাশ্রয় হবে। ইউএস বাংলা প্রতি বছর ১৫ মিলিয়ন ডলার সেভ করবে। বিমান সেভ করবে প্রায় ১৫ মিলিয়ন ডলার।

শেয়ার করুন!