প্রায় ২ মাস সংকটে থাকার পর গ্যাস সরবরাহ প্রায় স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরেছে বলে জানা গেছে।
মহেশখালীর দুটি ভাসমান টার্মিনাল (এফএসআরইউ) থেকে এলএনজি সরবরাহ প্রায় স্বাভাবিক মাত্রায় আসার পর এ সংকট কাটতে শুরু করে।
এ বিষয়ে পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর নাগাদ দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ দাঁড়িয়েছে দৈনিক ২শ ৬১ কোটি ঘনফুট (এমএমসিএফডি)। এর মধ্যে দুটি ভাসমান টার্মিনাল থেকে এসেছে ৯৯ কোটি ঘনফুট এবং দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে সরবরাহ করা হয়েছে ১শ ৬২ কোটি ঘনফুট গ্যাস।
চলতি বছরের ২১ জুলাই একটি ভাসমান টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ার আগে বাংলাদেশ দৈনিক প্রায় ১শ কোটি ঘনফুট এলএনজি পাচ্ছিল। দেশে তখন মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল ২শ ৬০ থেকে ২শ ৬৫ কোটি ঘনফুটের মধ্যে।
এলএনজি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় গ্যাস সংকটে বিভিন্ন শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হয়। কমে যায় বিদ্যুৎ উৎপাদন। গ্যাসের চাপ নিয়ে ভোগান্তি পোহাতে হয় আবাসিক গ্রাহকদের।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, গেল কয়েক সপ্তাহে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো দৈনিক ৮শ ৭০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পেলেও এখন তা বেড়ে প্রায় ৯শ ৫০ মিলিয়ন ঘনফুট হয়েছে।
বরাদ্দ বৃদ্ধি পাওয়ায় গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রায় ৫ হাজার ৫শ মেগাওয়াটে পৌঁছাতে পারে।
পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) হিসাব থেকেও বিদ্যুতের উৎপাদন বৃদ্ধির তথ্য পাওয়া গেছে।
সংকটের সময় গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রায়ই ৫ হাজার মেগাওয়াটের নিচে বা এর কাছাকাছি ছিল। সোমবার এই কেন্দ্রগুলো থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন ৫ হাজার মেগাওয়াটের নিচে নেমে যায়। তবে মঙ্গলবার তা বেড়ে ৫ হাজার ৪শ ৭৪ মেগাওয়াটে পৌঁছায়।
এর ঠিক এক দিন আগেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ব্যবসায়ী নেতাদের আশ্বস্ত করেছিলেন যে, এলএনজি সরবরাহ বৃদ্ধির ফলে মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে বিদ্যুৎ ও গ্যাস পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
গ্যাসের চাপ নিয়ে টানা কয়েক সপ্তাহের ভোগান্তির পর শিল্পের জন্য সরবরাহ বৃদ্ধি কিছুটা স্বস্তি আনবে। তবে কারখানার মালিকেরা বাস্তবে কতটা স্বস্তি পাবেন, তা নির্ভর করছে সঞ্চালন ও বিতরণ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বাড়তি গ্যাস কীভাবে বণ্টিত হচ্ছে তার ওপর।








