অপার সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ পর্যটনশিল্পে সম্ভাবনাময় খাত: রাষ্ট্রপতি

27 September, 2026

প্রকাশের সময়: 12:21 pm, 27th Sep, 2026

সর্বশেষ আপডেট: 12:21 pm, 27th Sep, 2026

অপার সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ পর্যটনশিল্পে সম্ভাবনাময় খাত: রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ বাংলাদেশে পর্যটনশিল্পে একটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় খাত।

কক্সবাজারের দীর্ঘ সমুদ্রসৈকত, সুন্দরবনের বৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন, সিলেটের চা-বাগান, সেন্টমার্টিন দ্বীপ, বান্দরবানের সাজেক ভ্যালি, নীলগিরি, নীলাচল, রাঙামাটির কাপ্তাই লেক, জাফলংয়ের পাহাড়ি ঝর্ণা, বাগেরহাটের ষাট গম্বুজ মসজিদ, হাওরের বিস্তীর্ণ জলরাশি, সবুজ পাহাড়, বৌদ্ধবিহার, অজস্র নদ-নদী, সবুজ ফসলের মাঠ, ষড়ঋতুর সৌন্দর্য, মানুষের উষ্ণ আতিথেয়তা এবং সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য মিলিয়ে বাংলাদেশ পর্যটকদের জন্য এক অনন্য গন্তব্য।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ‘বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে (শনিবার) দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বিশ্বব্যাপী নতুন নতুন উদ্ভাবন ও প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে পর্যটন খাতও প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। ডিজিটাল প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিশ্বব্যাপী পর্যটনের কাঠামো, ব্যবস্থাপনা ও সেবাদানের ধরন বদলে দিচ্ছে।

ভ্রমণ পরিকল্পনা, তথ্যপ্রাপ্তি, যাতায়াত ও আবাসনসহ সবখানে এর প্রভাব বিস্তৃত হচ্ছে।

এ প্রেক্ষাপটে এ বছরের বিশ্ব পর্যটন দিবসের প্রতিপাদ্য ‘ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় আগামীর পর্যটন’-কে সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ।

রাষ্ট্রপতি বলেন, পর্যটন খাত দেশের অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দারিদ্র্য বিমোচনে শক্তিশালী নিয়ামক হিসেবে কাজ করে।

প্রযুক্তি–কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সমন্বয়ে পর্যটন শিল্প

প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সমন্বয়ে পর্যটন শিল্পকে প্রযুক্তিনির্ভর করে বাংলাদেশকে বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারি-বেসরকারি সব অংশীজনকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রাষ্ট্রপতি বলেন, সরকার পর্যটন খাতকে দীর্ঘমেয়াদী, টেকসই ও পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে দেশের ১ হাজার ৪শ ৯৮টি পর্যটন আকর্ষণকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি সমন্বিত ‘জাতীয় পর্যটন মহাপরিকল্পনা’ প্রণয়নের কাজ চলছে।

প্রত্যেক জেলার পর্যটন উপযোগিতা বিবেচনায় স্থানীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিভিত্তিক পর্যটন সুবিধা সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাতীয় পর্যটন নীতিমালা হালনাগাদ ও আধুনিক পর্যটন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট নির্মাণের পাশাপাশি ইকো ট্যুরিজম ও কমিউনিটি ট্যুরিজমের বিকাশে পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

তথ্যপ্রযুক্তিখাতের গুরুত্ব উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে সরকারের চলমান উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে পর্যটনের ডিজিটাল রূপান্তরও ত্বরান্বিত হবে।

অনলাইন বুকিং, ডিজিটাল পেমেন্ট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক তথ্যসেবা বাংলাদেশের পর্যটন গন্তব্যগুলোকে আরও সহজলভ্য, নিরাপদ ও আকর্ষণীয় করে তুলবে।

পরিবেশের ভারসাম্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রেখে পর্যটন শিল্পের ডিজিটাল ও টেকসই রূপান্তরকে সম্মিলিত অঙ্গীকার হিসেবে নেওয়ার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।

শেয়ার করুন!