যা বলার সরাসরি বলতেন তৌফিক ইমরোজ খালিদী: তারিক আনাম

10 October, 2026

প্রকাশের সময়: 07:21 pm, 10th Oct, 2026

সর্বশেষ আপডেট: 07:21 pm, 10th Oct, 2026

যা বলার সরাসরি বলতেন তৌফিক ইমরোজ খালিদী: তারিক আনাম

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রয়াত প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী সম্পর্কে স্মৃতিচারণ করে নাট্য অভিনেতা ও নির্দেশক তারিক আনাম বলেছেন,  কোনো কিছু রেখেঢেকে বা বানিয়ে বলার মানুষ ছিলেন না তৌফিক ইমরোজ খালিদী। যা বলার সরাসরি বলতেন তিনি।

তিনি বলেন, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম যখন শুরু হয়, তখন থেকেই তার নাম শুনেছি। দেশের প্রথম অনলাইন নিউজ পোর্টাল হিসেবে এটি আমাদের জন্য বড় গর্বের বিষয় ছিল। এই ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন সত্যিকারের পথিকৃৎ।

তৌফিক ইমরোজ খালিদীর সঙ্গে গড়ে ওঠা সখ্যতার কথা তুলে ধরে করে তারিক আনাম সাংবাদিকদের বলেন, গত দুই-তিন মাসে সাংবাদিক তৌফিক ইমরোজ খালিদীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা হয়েছিল। তার বাসায় গিয়েছি, তিনিও আমার বাসায় এসেছিলেন। দেখে কখনোই মনে হয়নি যে তিনি এতটা অসুস্থ ছিলেন। তিনি খুব নিয়ম মেনে চলতেন।

তৌফিক ইমরোজ খালিদীর কাজের প্রতি নিষ্ঠা ও স্পষ্টবাদিতার প্রশংসা করে তারিক আনাম খান বলেন, তিনি যা মনের মধ্যে লালন করতেন, সেটাই সরাসরি বলতেন, কোনো কিছু ঢেকে রাখা বা বানিয়ে বলার মানুষ তিনি ছিলেন না।

সংস্কৃতি ও সংবাদমাধ্যম নিয়ে তার দারুণ কিছু রুচিশীল পরিকল্পনা ছিল। নিমা রহমানের সঙ্গে কিছু কাজ ও ইউটিউব চ্যানেলকেন্দ্রিক নতুন ভাবনার কথা তিনি উল্লেখ করেছিলেন। এমন একজন কাজের মানুষ চলে যাওয়া বড় ক্ষতির! তার আরো অনেক কিছু দেওয়ার ছিল।!

অভিনেত্রী নিমা রহমান তৌফিক ইমরোজ খালিদীর আতিথেয়তা ও দিকনির্দেশনার কথা স্মরণ করে বলেন, শেষের ৮ মাস তাঁর সঙ্গে কিছু কাজ করার সুযোগ হয়েছে। কোনো কাজ বা মিটিং শেষে তিনি না খাইয়ে কখনোই আসতে দিতেন না।

অনুষ্ঠান নির্মাণের ক্ষেত্রে তৌফিক ইমরোজ খালিদীর জ্ঞানের কথা তুলে ধরে নিমা রহমান বলেন, অনুষ্ঠান কীভাবে দর্শকমনোগ্রাহী করা যায়, তার সূক্ষ্ম ভুলত্রুটিগুলো তিনি ধরিয়ে দিতেন এবং নিখুঁত পরামর্শ দিতেন। তার জ্ঞান দেখে সত্যিই মুগ্ধ হতাম। হঠাৎ করে এমন ঘটনা ঘটে যাবে, বিশ্বাসই করতে পারছি না।

‘শূন্য হাতে অনলাইন সাংবাদিকতার ভিত্তি গড়েছিলেন’ খ ম হারূন

তৌফিক ইমরোজ খালিদীর সঙ্গে সখ্যতার ২ দশকের স্মৃতিচারণ করে বিটিভির সাবেক উপমহাপরিচালক খ ম হারূন বলেন, প্রায় ২০ বছর আগে যখন ইন্টারনেট এত সহজলভ্য ছিল না, সেই সময়ে তৌফিক ইমরোজ খালিদী অনলাইন নিউজপোর্টাল শুরুর মতো সাহসী উদ্যোগ নিয়েছিলেন। দেশের শ্রেষ্ঠ সাংবাদিকদের এক ছাতার নিচে এনেছিলেন।

তিনি বলেন, একেবারে খালি হাতে শুরু করে তিনি যা সংগঠিত করেছেন, তা সংবাদমাধ্যমের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তৌফিক ইমরোজ খালিদী আজ আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু বাংলাদেশে অনলাইন সাংবাদিকতার যে শক্তিশালী ভিত্তি তিনি গড়ে দিয়ে গেছেন, তা চিরকাল থাকবে।

‘বটতলা’র নাট্য নির্দেশক মোহাম্মদ আলী হায়দার বলেন, তৌফিক ভাই আমাদের কাছে মনে হতো, তিনি যুগ থেকে অনেক সামনে দেখতে পেতেন। ভবিষ্যতে সাংবাদিকতা কী হবে, সেটা ধারণা করতে পারতেন।

তিনি অনেক উন্নত মানের মানুষ ছিলেন, তরুণদের নিয়ে কাজ করতে পছন্দ করতেন। তৌফিক ভাইয়ের মৃত্যুতে বাংলাদেশ এক সাহসী সাংবাদিকতা ও তরুণরা এক সঠিক নির্দেশকের অভাব অনুভব করবেন।

শনিবার  (১০ অক্টোবর) দুপুরে বনানীর ওল্ড ডিওএইচএসের খেলার মাঠে নেওয়া হয় তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মরদেহ। সেখানে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সাংবাদিক খালিদীকে শেষ বিদায় জানান তাঁর বন্ধু, স্বজন, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা।

ব্যক্তিগত সফরে লন্ডনে থাকা তৌফিক ইমরোজ খালিদী ১ অক্টোবর রাতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। সেইন্ট বার্থোলমিউ’স হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক জানান, তাঁর মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণ হয়েছে। পরদিন স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ২৩ মিনিটে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

এরপর ৮ অক্টোবর জোহরের নামাজের পর পূর্ব লন্ডনের ব্রিকলেন মসজিদে খালিদীর জানাজা হয়। সেখানে সাবেক সহকর্মী এবং স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতিনিধিরা তাঁর প্রতি শেষশ্রদ্ধা জানান।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে বিমান বাংলাদেশের একটি ফ্লাইটে সাংবাদিক তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মরদেহ ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দরে পৌঁছায়।

এরপর কফিন নেওয়া হয় তৌফিক ইমরোজ খালিদীর প্রিয় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের অফিস প্রাঙ্গণে। সেখানে মরদেহ রাখা হয় দুপুর ১২টা থেকে ১২টা ২০ মিনিট পর্যন্ত। এরপর সাংবাদিক খালিদীর মরদেহ নেওয়া হয় তাঁর বাসায়। সেখানে পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা শেষবার তাঁকে দেখেন।

শেয়ার করুন!