পাবনা জেলার ঈশ্বরদীর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সফলভাবে প্রথম ইউনিটে নিয়ন্ত্রিত পরমাণু বিক্রিয়া শুরু করা সম্ভব হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে আরো এক ধাপ এগিয়ে গেল।
রোববার (১১ অক্টোবর) এই ইউনিটে প্রথমবারের মতো নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক চেইন বিক্রিয়া শুরু হয়। এ পর্যায়কে বলা হচ্ছে- ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’।
ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি হলো এমন একটি অবস্থা, যখন চুল্লির ভেতরে পারমাণবিক বিক্রিয়া নিজে থেকেই নিয়ন্ত্রিতভাবে চলতে থাকে। তবে এর অর্থ এখনই বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়েছে এমন নয়। এরপর আরো পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ধীরে ধীরে চুল্লির শক্তি বাড়ানো হবে।
৮ অক্টোবর বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ প্রথম ইউনিটে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়।
এর আগে ইউনিটটির স্বয়ংক্রিয় চাপ নিয়ন্ত্রণকারী নিরাপত্তা ভাল্বে কারিগরি সমস্যা দেখা দেওয়ায় এ ধাপের কাজ পিছিয়ে যায়। পরে রাশিয়ার বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় সমস্যার সমাধান হয় এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা পরীক্ষাগুলো সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়।
জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ দেওয়ার আগে আরো দুটি নিয়ন্ত্রক অনুমোদন লাগবে। ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটির পর চুল্লির কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, নিরাপত্তা পরীক্ষা এবং ধাপে ধাপে শক্তি বাড়ানোর কাজ চলবে।
প্রকল্প কর্মকর্তাদের হিসাবে, সব পরীক্ষা পরিকল্পনামতো আগালে প্রথম ইউনিট থেকে প্রাথমিকভাবে প্রায় ৩শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে দেওয়া হতে পারে।
রূপপুরের প্রথম ইউনিটে চলতি বছরের ২৮ এপ্রিল পারমাণবিক জ্বালানি লোডিং শুরু হয়। পরে ১শ ৬৩টি জ্বালানি অ্যাসেম্বলি রিঅ্যাক্টর কোরে বসানো হয়।
রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় নির্মিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে দুটি ইউনিট রয়েছে। প্রতিটির উৎপাদনক্ষমতা ১ হাজার ২শ মেগাওয়াট। দুটি ইউনিট পুরোপুরি চালু হলে মোট ২ হাজার ৪শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে।








