অর্থনীতিতে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা ও বৈদেশিক বাণিজ্যের ধীরগতি, রফতানি শিল্পে চাপের মতো প্রতিবন্ধকতার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে দেশের অর্থনীতি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পূর্ববর্তী সময়ে শুরু হওয়া অর্থনৈতিক মন্দা এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি বাংলাদেশ। এরই মধ্যে অন্তরীণ হয়েছে স্বৈরাচার শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার ও গণঅভ্যূত্থান পরবর্তী সময়ে দায়িত্ব গ্রহণকারী ড. মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
এ বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করে সরকার গঠন করে তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এরপর দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা কিছুটা ফিরে আসা শুরু করলেও অর্থনৈতিক অবস্থা আগের মতো এখনো স্বাভাবিক হয়নি।
রাজধানীর সড়কে, হাটে-মাঠে ঘুরে দৈনিক সওদা টিম জানার চেষ্টা করেছে, সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মনোভাব; তাদের বর্তমান অবস্থা এবং দৈনন্দিন জীবনযাপন ব্যবস্থা, সঞ্চয় পরিস্থিতি ও চলমান রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিষয়ে তাদের মতামত।
জাহিদ হাসান-এর প্রতিবেদনের ১ম পর্ব-
‘ওই সময়ে সঞ্চয় হতো এখন আর হয় না’
‘ওই সময়ে সঞ্চয় হতো, এখন আর হয় না’ বলেন ঢাকার এম এম ফেব্রিক্স-এর ম্যানেজার শাহিন রানা।
তিনি ‘দৈনিক সওদা’কে বলেন, ‘বর্তমান বাজারে খুব কষ্টে আছি। এখন সঞ্চয় করা সম্ভব না। যা সঞ্চয় করেছি, আগেই হয়েছে। এখন খেয়ে-দেয়ে সমান-সমান আছি। আমি আগে সিটি ব্যাংকে আমি সঞ্চয় করতাম। সংসার ছোট ছিল, ছেলেমেয়ে কম ছিল; ওই সময়ে আমার সঞ্চয় হতো। এখন আর হয় না।’
এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করে শাহিন রানা বলেন, ‘এখন সংসার বড় হয়ে গেছে। ছেলেমেয়েদের স্কুলে ভর্তি করিয়েছি। খরচে বেড়েছে; কিন্তু আয় বাড়েনি। ফলে, আর সঞ্চয় করা সম্ভব হয় না।’
সঞ্চয়ের গুরুত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমার মতে, সঞ্চয় করা ভালো। সঞ্চয় করার পরেই বিনিয়োগ করা যায়। ছোটবেলায় মাটির পাত্রে সঞ্চয় করতাম। এখন ব্যাংকে সঞ্চয় করার টাকা আর হাতে থাকে না।’








