দূষণযুক্ত যান নিষিদ্ধ করার ফলে দিল্লিতে মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা

01 November, 2026

প্রকাশের সময়: 05:32 pm, 1st Nov, 2026

সর্বশেষ আপডেট: 05:32 pm, 1st Nov, 2026

দিল্লির দূষণ ঠেকাতে একগুচ্ছ বিধিনিষেধের ফলে কাজের কাজ কতটা হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, এর ফলে মূল্যবৃদ্ধি অবশ্যম্ভাবী। যানবাহনের ভাড়া যেমন ১৫ থেকে ২০ শতাংশ বাড়বে, তেমনই বেড়ে যাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রী; বিশেষ করে মাছ-মাংস-ডিম থেকে শুরু করে আলু-পেঁয়াজ-শাকসবজির দাম।

পাশাপাশি এ-ও ঠিক, দিল্লিতে দূষণযুক্ত যান প্রবেশের বিষয়ে কঠোর হুকুম দেওয়া হলেও এ সময়ে দীপাবলিসহ বিভিন্ন উৎসব ও বিয়েশাদিতে যে বিপুল পরিমাণ আতশবাজি পোড়ানো হয়, তা দূষণের মাত্রা মারাত্মকভাবে বাড়িয়ে দেয়। এটি বন্ধে কোনো নির্দেশ দেওয়া তো দূরের কথা, কোনো উদ্যোগই কোনো মহলে নেই। এমনকি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত হতাশ হয়ে প্রশ্ন করেছেন, যে নির্দেশ কার্যকর করা যায় না, তা বলবৎ করার অর্থ কী?

এর ফলে সরকারি উদ্যোগ ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে। সেই সঙ্গে দেখা দিচ্ছে সংশয়ও, দূষণযুক্ত যান বন্ধের নির্দেশ ঘিরে। রাজনৈতিক মহলে এমন চর্চাও হচ্ছে, ১ নভেম্বর থেকে তিন মাসের জন্য এভাবে দূষণযুক্ত যানবাহনের দিল্লি প্রবেশ বন্ধ করে দিল্লির বিজেপি সরকার কি ১ নভেম্বর (রোববার) রামলীলা ময়দানের বিরোধী সমাবেশের ভিড় কমাতে পারবে?দিল্লি সরকার জানিয়েছে, দিল্লির বাইরে নিবন্ধিত ‘বিএস ৬’ মানদণ্ডের কম যেকোনো পেট্রল ও ডিজেলচালিত বাহন ১ নভেম্বর থেকে আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত দিল্লিতে ঢুকতে পারবে না।

এ নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পড়ছে বাস, ট্রাক, ট্রাক্টর, ট্রাক্টর-বাহিত ট্রেলার, মোটরগাড়ি বা তিন ও দুই চাকার অটো বা বাইক সবকিছু। দিল্লিতে প্রবেশের অনুমতি থাকছে শুধু ‘বিএস ৬’ মানদণ্ডের গাড়ি এবং সেসব যান যেগুলো বিদ্যুৎ, সিএনজি অথবা ব্যাটারিতে চলে।এ পদক্ষেপের ফলে কী হতে চলেছে—পরিবহন মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যানই তা স্পষ্ট বুঝিয়ে দিচ্ছে। ‘বিএস ১’ থেকে ‘বিএস ৪’ মানদণ্ডের ৪৮ লাখ বাস, ট্রাক, ট্রাক্টর ও অন্যান্য গাড়ি দিল্লির লাগোয়া ন্যাশনাল ক্যাপিটাল রিজিয়নে (এনসিআর) নথিভুক্ত। এলাকাগুলো দিল্লির লাগোয়া উত্তর প্রদেশ, হরিয়ানা ও রাজস্থানে।

প্রায় প্রতিদিনই এসব গাড়ি রাজধানী দিল্লিতে আসা-যাওয়া করে। আগামী তিন মাস এনসিআর থেকে এগুলো দিল্লি ঢুকতে পারবে না। এটাই হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রধান সমস্যা।দিল্লির নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহের প্রায় পুরোটাই আসে এনসিআর হয়ে। মাছ-মাংস-ডিম থেকে শুরু করে আলু-পেঁয়াজ-আনাজপাতির প্রধান পাইকারি বাজারগুলোর (মান্ডি) অবস্থান উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদ বা হরিয়ানার ফরিদাবাদে; যা এনসিআরের মধ্যে পড়ছে। ব্যাপারীদের আশঙ্কা, মান্ডিতে মালপত্র আসা ব্যাহত হলে এবং তা দিল্লি ঢুকতে না পারলে নিত্যপ্রয়োজনীয় সব জিনিসের দাম ১৫ থেকে ২০ শতাংশ বাড়তে বাধ্য। তেমনই বাড়বে যাত্রী পরিবহনের ভাড়াও।

শেয়ার করুন!