সান সিরোয় মিলান ডার্বির রোমাঞ্চকর রাতের শুরুটা হলো অন্য রকম এক আবেগে। ইন্টার মিলানের বিপক্ষে মাঠে নামার আগেই ক্লাবটির ইতিহাসে যুক্ত হলো নতুন এক মুহূর্ত। এসি মিলানের ‘হল অব ফেমে’ অন্তর্ভুক্ত করা হলো ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফুটবলার কাকাকে।
প্রিয় ক্লাবের পক্ষ থেকে দেওয়া এই সম্মাননা গ্রহণের সময় নিজের চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি তিনি।সান সিরোর চেনা আঙিনায় ম্যাচের ঠিক আগে কাকাকে যখন সংবর্ধনা জানানো হয়, তখন গ্যালারিতে দাঁড়িয়ে করতালি ও শ্রদ্ধায় ভাসিয়ে দেন মিলানের সমর্থকেরা। ক্যারিয়ারের বর্ণালী দিনগুলো যে মাঠে কাটিয়েছেন, সেখানে দাঁড়িয়ে আবেগ সংবরণ করাটা সাবেক এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারের জন্য সহজ ছিল না।
সম্মাননা গ্রহণের পর সম্প্রচারমাধ্যম ডিএজেডএএন-কে কাকা বলেন, ‘সান সিরোয় মিলান সমর্থকদের সামনে দাঁড়িয়ে অনুভূতিগুলো ভাষায় প্রকাশ করা ভীষণ কঠিন। আমার জন্য এটি অত্যন্ত বিশেষ এক দিন।’
২০০৭ সালে ব্যালন ডি’অর জেতা কাকা এসি মিলান ও ব্রাজিল ফুটবল দলের হয়ে এই খেতাব পাওয়া শেষ খেলোয়ার। মিলানের রসোনেরি জার্সিতে ৩০৭টি ম্যাচে মাঠে নেমে তিনি করেছেন ১০৪টি গোল, আর সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন ৮১টি। ২০০৩-০৪ মৌসুমে মিলানের সেরি আ জয় এবং ২০০৬-০৭ মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ জয়ের পেছনে তার ভূমিকা ছিল অনবদ্য। বিশেষ করে ২০০৬-০৭ চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সর্বোচ্চ ১০টি গোল করে দলকে শিরোপা জেতানোর পাশাপাশি জিতেছিলেন ব্যালন ডি’অর, ফিফা বর্ষসেরা ও উয়েফা বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কার।
ভবিষ্যতে এসি মিলানে আবার ব্রাজিলিয়ানদের আধিপত্য দেখা যাবে কি না, এমন প্রশ্নে তিনি জানান, শীর্ষ ক্লাবগুলোতে ব্রাজিলিয়ান ফুটবলারদের দেখতে তিনি পছন্দ করেন। তবে সঙ্গে এও যোগ করেন, ‘লুকা মদরিচকে আমার খুব পছন্দ, ও আমার ভালো বন্ধু। এছাড়া পুলিসিকও আছে। আমার মনে হয় শেভচেঙ্কোর জন্য গাওয়া সেই পুরোনো গানটি পুলিসিকের ক্ষেত্রেও খাটে—‘সে ব্রাজিলিয়ান নয়, কিন্তু…।’
নিজের বিশেষ উদযাপনের এই রাতে গ্যালারিতে বসেই ইন্টার মিলানের বিরুদ্ধে সাবেক দলের ৩-১ গোলের দারুণ জয় উপভোগ করেন এই ব্রাজিলিয়ান তারকা।








