তৈরি পোশাকশিল্পে শ্রমিক আন্দোলনের নামে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে কঠোর হস্তে দমন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, পতিত স্বৈরাচারসমর্থিত পক্ষ নিরীহ শ্রমিকদের ব্যবহার করে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। শ্রমিক আন্দোলনের নামে অনেকেই ভিন্ন এজেন্ডা বাস্তবায়নে সীমান্তের ওপারের ইশারায় দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইছেন। তাদের এই ষড়যন্ত্র সরকার কঠোর হস্তে দমন করবে।
সোমবার (২ নভেম্বর) সকালে তৈরি পোশাকশিল্পের ব্যবসায়ীদের প্রধান দুই সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের দাবিতে সৃষ্ট অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এ বৈঠক ডাকা হয়।
সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিজিএমইএ’র সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, বিকেএমইএ’র সভাপতি মো. হাতেমসহ দুই ব্যবসায়ী সংগঠনের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর শ্রম মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব নাসিমুল গণি এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ, এসআরবি ও গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তৈরি পোশাক খাতের জন্য গঠিত মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা সোমবার অনুষ্ঠিত হতে পারে। কোনো কারণে সোমবার অনুষ্ঠিত না হলে সম্ভাব্য দ্রুততম সময়ে প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হবে।
শ্রমিকদের স্বার্থ সংরক্ষণ ও জীবনমানের উন্নয়ন নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রতি ৩ বছর অন্তর ন্যূনতম মজুরি ঘোষণার জন্য সরকার আইন করেছে। সে অনুযায়ী সরকারের পক্ষ থেকে তৈরি পোশাক খাতের জন্য মজুরি বোর্ড গঠনের প্রস্তুতি কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই চলছিল। মালিকপক্ষ আগেই তাদের প্রতিনিধির নাম দিয়েছিল। শ্রমিকপক্ষ তাদের প্রতিনিধির নাম দিতে দেরি করেছে। শনিবার শ্রমিকপক্ষ তাদের প্রতিনিধির নাম দিয়েছে। এরপর শ্রম মন্ত্রণালয় আইন অনুযায়ী রোববার বোর্ড গঠন করেছে এবং এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, যেসব সহিংস ঘটনা, অগ্নিকাণ্ড এবং অস্থিরতা বিগত কয়েক দিনে ঘটেছে, দুঃখজনকভাবে তার সঙ্গে কিছু শিল্পমালিক এবং শ্রমিক সংগঠন জড়িত। এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিকেরা আগের সরকারের সময় মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ইত্যাদি ছিলেন।
তিনি বলেন, শ্রমিক আন্দোলনের নামে যারা অস্থিরতা সৃষ্টি করছে, তাদের কঠোর হাতে দমন করা হবে। আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ সরকার শিল্প, বিনিয়োগ এবং বাণিজ্যবান্ধব সরকার। এ খাতের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে। পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও শ্রমিকের স্বার্থ সুরক্ষার পদক্ষেপও সরকার সমানভাবে নেবে।
তিনি জানান, কোনো কোনো মালিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের কারখানা বন্ধ করেছেন, সেই তালিকা মালিকপক্ষ সরকারকে দেবে বলে বৈঠকে জানিয়েছে। একইভাবে, কোন কোন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা এ পরিস্থিতি সৃষ্টির সঙ্গে জড়িত, তাদের তালিকাও দেওয়ার কথা জানিয়েছে মালিকপক্ষ।
উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে সোমবার বিকেল ৩টায় শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।








