হরমুজ প্রণালি দিয়ে ইরাকের জ্বালানি তেল রফতানির প্রস্তাব ইউএইর

23 August, 2026

প্রকাশের সময়: 04:06 pm, 23rd Aug, 2026

সর্বশেষ আপডেট: 04:29 pm, 23rd Aug, 2026

হরমুজ প্রণালি দিয়ে ইরাকের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিবহনের প্রস্তাব দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)।

চলমান সংঘাত ও পারস্য উপসাগরে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় এ প্রস্তাব দিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানি (অ্যাডনক)। খবর দ্য বিজনেসলাইন।

নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও নিজেদের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি বিশেষ ‘শাটলিং’ পদ্ধতিতে সচল রেখেছে ইউএই। সেই পন্থা অবলম্বন করেই ইরাকের জ্বালানি তেল রফতানি করতে চায় অ্যাডনক। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, সম্প্রতি অ্যাডনক এশিয়ার ক্রেতাদের কাছে সরাসরি জ্বালানি তেল বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছে। ইরাকসহ পশ্চিম এশিয়ার অন্যান্য দেশের অপরিশোধিত জ্বালানি তেলও একই পদ্ধতিতে পরিবহনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

এ পদ্ধতিতে তেলবাহী জাহাজগুলো উপসাগরের ভেতরে অল্প দূরত্বের পথ পাড়ি দেয়। অনেক সময় নজরদারি এড়াতে জাহাজের অবস্থান শনাক্ত করার যন্ত্র বা ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রাখা হয়। এরপর উপসাগরের বাইরে অন্য জাহাজে জ্বালানি তেল স্থানান্তর করা হয়। পরে ওই জাহাজগুলো তেল এশিয়ার বিভিন্ন গন্তব্যস্থলে পৌঁছে দেয়।

চলমান সংকটের মধ্যে পারস্য উপসাগর থেকে তেল রফতানির ক্ষেত্রে অ্যাডনক সবচেয়ে সফল কোম্পানিগুলোর একটি হয়ে উঠেছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় এ পদ্ধতি অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি চালু রাখতে সহায়তা করছে।

ইরাককে জ্বালানি তেল পরিবহনে সহায়তার এ প্রস্তাবকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলো সাধারণত নিজেদের জ্বালানি রফতানি কার্যক্রম নিজেরাই পরিচালনা করে।

এখন পর্যন্ত ভিটল গ্রুপ ও ফরাসি তেল কোম্পানি টোটালএনার্জিস ইরাকের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিবহনের প্রধান প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ছিল। অ্যাডনকের নতুন প্রস্তাব এরই মধ্যে ইরাকের জ্বালানি তেল রফতানিতে প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইরাকের রাষ্ট্রীয় তেল বিপণন কোম্পানি সোমোর প্রধান আলি নিজার গত মঙ্গলবার জানান, চলতি মাসে দেশটির অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি বেড়ে প্রতিদিন প্রায় ২০ লাখ ব্যারেলে পৌঁছেছে। গত সপ্তাহে দেশটির তেলমন্ত্রী ১৫-১৭ লাখ ব্যারেল রফতানির হিসাব দিয়েছিলেন।

এদিকে হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনা এখনো অনিশ্চিত। প্রণালিটি পুনরায় স্বাভাবিকভাবে চালুর বিষয়ে দুই দেশ নিজেদের অবস্থান আরো কঠোর করেছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী অবশ্য মঙ্গলবার বলেন, কোনো একটি সমঝোতায় পৌঁছার কাছাকাছি রয়েছে দুই পক্ষ।

এ অবস্থায় ইরাক জ্বালানি তেল পরিবহনে আগ্রহী কোম্পানিগুলোকে বড় ধরনের মূল্যছাড়ও দিচ্ছে। চলতি মাসে সরবরাহের জন্য কিছু জ্বালানি তেলের দাম আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের চেয়ে ব্যারেলপ্রতি ৩০ ডলার পর্যন্ত কমানো হয়েছে। বাসরাহ মিডিয়াম অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের ক্ষেত্রে ছাড় দেয়া হয়েছে ২৫-২৭ ডলার পর্যন্ত।

শেয়ার করুন!