জামায়াতে ইসলামীর ৮৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী বুধবার

26 August, 2026

প্রকাশের সময়: 12:43 pm, 26th Aug, 2026

সর্বশেষ আপডেট: 12:43 pm, 26th Aug, 2026

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রতিষ্ঠার ৮৬ বছর পূর্ণ করেছে। ১৯৪১ সালের ২৬ আগস্ট অবিভক্ত ভারতে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘জামায়াতে ইসলামী হিন্দ’।

১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি দেশ সৃষ্টি হওয়ার পর পরবর্তীতে পাকিস্তান ও বাংলাদেশে দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রম বিস্তৃত হয়। দীর্ঘ এই রাজনৈতিক পথচলায় দলটি কয়েক দফা নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছে।

পাশাপাশি দলটির শীর্ষ কয়েকজন নেতা যুদ্ধাপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হয়ে ফাঁসির কাষ্ঠে গেছেন। তবে নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে বাংলাদেশে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান ধরে রাখার পাশাপাশি ভবিষ্যতে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করছে দলটি।

এ বিষয়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, জামায়াতে ইসলামী হিন্দ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৪১ সালে।

১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্তির পর পূর্ব পাকিস্তানে পৃথকভাবে সংগঠনটির কার্যক্রম শুরু হয়।

স্বাধীন বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় ১৯৭৯ সালে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ হিসেবে দলটি পুনরায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু করে। পরবর্তীতে ২০০৮ সালে দলের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়- ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’।

দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসে দলটির পথচলা ছিল নানা উত্থান-পতনে পরিপূর্ণ।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে দলটিকে ৪ বার নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর দলটির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মধ্য দিয়ে আবারও রাজনীতিতে সক্রিয় হয় দলটি।

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে।

স্বাধীনতার পর দলটির কয়েকজন শীর্ষ নেতা যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি হন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারে দলটির শীর্ষ কয়েকজন নেতা মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হন এবং তাদের কয়েকজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

জামায়াতের পক্ষ থেকে এসব বিচারকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও ‘জুডিশিয়াল কিলিং’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

দলের নায়েবে আমীর আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, ফ্যাসিবাদী আমলে জামায়াতকে নিশ্চিহ্ন করার সব ধরনের চেষ্টা করা হয়েছে। অসংখ্য নেতাকর্মী গুম ও হত্যার শিকার হয়েছেন। দলের শীর্ষ নেতাদের ‘জুডিশিয়াল কিলিং’-এর মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে।

আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরের দাবি, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও জামায়াতকে জঙ্গি সংগঠন হিসেবে পরিচিত করানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে আওয়ামী লীগ সেই প্রচেষ্টায় সফল হয়নি। বরং তার ভাষ্য, আন্তর্জাতিক পরিসরে জামায়াতের গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে।

তিনি বলেন, ‘জামায়াত একটি গণতান্ত্রিক দল হিসেবে রাজনীতি করছে। জনগণের ভোট ও ম্যান্ডেট নিয়েই ভবিষ্যতে রাষ্ট্রক্ষমতায় যেতে চায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।’

দলের নেতারা বলছেন, অতীতের রাজনৈতিক প্রতিকূলতা পেরিয়ে বর্তমানে সংগঠনকে আরো বিস্তৃত ও শক্তিশালী করার কাজ চলছে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জনগণের সমর্থন নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় ভূমিকা রাখাই এখন তাদের অন্যতম লক্ষ্য।

শেয়ার করুন!