ঐক্যজোটের লংমার্চ: সকালে মানিক মিয়া এভিনিউতে উদ্বোধনী সমাবেশ

17 September, 2026

প্রকাশের সময়: 05:56 pm, 17th Sep, 2026

সর্বশেষ আপডেট: 05:57 pm, 17th Sep, 2026

ঐক্যজোটের লংমার্চ: সকালে মানিক মিয়া এভিনিউতে উদ্বোধনী সমাবেশ

১১ দলীয় ঐক্যজোটের লংমার্চ রংপুরের উদ্দেশে রওয়ানা হওয়ার আগে রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউতে সকালে উদ্বোধনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টায় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার পর ৮টার দিকে রংপুরের উদ্দেশে রওয়ানা হবে লংমার্চ।

যাত্রা পথে বিভিন্ন স্থানে পথসভাও অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে।

এদিকে, শনিবারের লংমার্চ সফল করতে বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় রাজধানীর ২৯ মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

এতে সভাপতিত্ব করেন- জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

লংমার্চের প্রস্তুতি পর্যালোচনা করে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন দাবিতে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয় বৈঠকে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ; এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি, মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী; এলডিপির সভাপতি ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীরবিক্রম ও ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাহ হোসেন মিয়াজী; বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক ও মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ।

এছাড়া বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির আমির মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম সুবহানী ও মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইযহার; জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সহসভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান ও মহাসচিব অধ্যাপক ইকবাল হোসেন; এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু; বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান; বিডিপির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান এবং বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে দুপুর ১২টায় সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন- বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার।

ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, বৈঠকে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখী লংমার্চের সার্বিক প্রস্তুতি ও অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়েছে। একইসঙ্গে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জনগণের দুর্ভোগ এবং ঘোষিত দাবিগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ১৯ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টায় ঢাকার মানিক মিয়া এভিনিউতে উদ্বোধনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে ঢাকা-রংপুর লংমার্চ শুরু হবে।

সকাল ৮টায় মূল যাত্রা শুরু হয়ে গাজীপুরের ভোগরা বাইপাসে পথসভা, টাঙ্গাইলের নগর জালপাইয়ে পথসভা, সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুলে পথসভা, বগুড়ার মাটিডালিস্থ বিমান মোড়ে পথসভা ও গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পথসভা করা হবে।

এছাড়া বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় সংগঠনের নেতাকর্মীরা লংমার্চের বহরকে অভিবাদন জানাবেন। সবশেষে, রংপুর জিলা স্কুল মাঠে সমাপনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শেষ হবে।

তিনি বলেন, এই লংমার্চের মধ্য দিয়ে আমরা জনগণের ন্যায্য দাবিগুলো আরও সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরতে চাই। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা, চাঁদাবাজি-দখলদারিত্ব-দুর্নীতি বন্ধ, দ্রব্যমূল্য ও জনদুর্ভোগ কমানো এবং উত্তরবঙ্গের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো আমাদের আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আমরা বিশেষভাবে বলতে চাই, এই লংমার্চ সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ, নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচি।

আমরা সরকার, প্রশাসন, পুলিশ, ট্রাফিক বিভাগ, জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সব সংস্থার সহযোগিতা কামনা করছি, যাতে জনগণের দুর্ভোগ কমিয়ে একটি সুশৃঙ্খল কর্মসূচি সম্পন্ন করা যায়।

তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, কেউ যেন শান্তিপূর্ণ এই কর্মসূচিতে বাধা সৃষ্টি করে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা না করেন। কোনো ধরনের উস্কানি বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি না করে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির প্রতি সম্মান দেখানো উচিত।

তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, জনগণের ঐক্যবদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মধ্য দিয়েই জনগণের ন্যায্য দাবি প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হবে।

সবশেষে তিনি বলেন, ১১ দলের এই কর্মসূচি হবে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক। আমরা কোনো বিশৃঙ্খলা চাই না, কাউকে বিশৃঙ্খলা করতে দেবো না।

সরকারের কাছে আমাদের আহ্বান- জনগণের কণ্ঠস্বরকে সম্মান করুন, গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করুন এবং জনগণের ন্যায্য দাবিগুলো বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নিন।

৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চে সহযোগিতা করায় দেশবাসী ও সংবাদমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ তাদের নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনকে আররো শক্তিশালী করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

শেয়ার করুন!