অর্থনীতিতে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা ও বৈদেশিক বাণিজ্যের ধীরগতি, রফতানি শিল্পে চাপের মতো প্রতিবন্ধকতার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে দেশের অর্থনীতি।
গণঅভ্যুত্থান পূর্ববর্তী সময়ে শুরু হওয়া অর্থনৈতিক মন্দা এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি বাংলাদেশ। এরই মধ্যে অন্তরীণ হয়েছে স্বৈরাচার শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার ও গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে দায়িত্ব গ্রহণকারী ড. মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করে সরকার গঠন করে তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এরপর দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা কিছুটা ফিরে আসা শুরু করলেও অর্থনৈতিক অবস্থা আগের মতো এখনো স্বাভাবিক হয়নি।
রাজধানীর সড়কে, হাটে-মাঠে ঘুরে দৈনিক সওদা টিম জানার চেষ্টা করেছে, সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মনোভাব; তাদের বর্তমান অবস্থা এবং দৈনন্দিন জীবনযাপন ব্যবস্থা, সঞ্চয় পরিস্থিতি ও চলমান রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিষয়ে তাদের মতামত।
এ বিষয়ে জাহিদ হাসানের প্রতিবেদনের ৬ষ্ঠ পর্ব-
‘যে টাকা খরচ হয়, সে পরিমাণ আয় করতে পারি না’
রিকশা চালিয়ে দৈনিক সঞ্চয়ের কথা জানতে চাইলে রিকশাচালক রমজান আলী (৬৫) বলেন, ‘বর্তমানে আমার যে টাকা খরচ হয়, সে পরিমাণ আয় করতে পারি না। মাস শেষে আরো দেনা হয়ে যাই। সারাদিনে রিকশার জমা দিয়ে ৩ থেকে ৪শ টাকা থাকে। আগে আয় করতে পারতাম ৮শ থেকে ১ হাজার টাকা। তখন সংসার চালিয়ে কিছু টাকা জমাতে পারতাম। কিন্তু এখন সম্ভব হয় না, উল্টো আরো দেনা হয়ে যাই। মাঝে মাঝে রোজা থাকা লাগে। বাসায় গেলে বউ কথা শোনায়। ব্যাটারিচালিত রিকশার জন্য আমাদের প্যাডেলচালিত রিকশায় যাত্রী কম ওঠে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা ডাকলেও যাত্রী উঠতে চায় না, সময় বেশি লাগবে বলে। আজকে সকাল ৮টায় রিকশা নিয়ে বের হয়েছি, এখন সময় দুপুর ১টা। ভাড়া পেয়েছি, মাত্র ২শ টাকা। বাকি সময়ে আর কয় টাকার কাজ হবে! গাড়ির জমা দিয়ে বাসায় বাজার নিয়ে যেতেও কষ্ট হয়ে যাবে!’








