আটক শ্রমিকদের মুক্তি দাবি করেছেন মজুরি বোর্ডের প্রতিনিধিরা

02 November, 2026

প্রকাশের সময়: 02:06 pm, 2nd Nov, 2026

সর্বশেষ আপডেট: 02:06 pm, 2nd Nov, 2026

আটক শ্রমিকদের মুক্তি দাবি করেছেন মজুরি বোর্ডের প্রতিনিধিরা

তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করতে সব শ্রমিক ফেডারেশন ও সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা করে ঐকমত্যের ভিত্তিতে মজুরি প্রস্তাব তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ন্যূনতম মজুরি বোর্ডের শ্রমিক প্রতিনিধিরা।

একইসঙ্গে চলমান মজুরি আন্দোলনের কারণে আটক শ্রমিক ও শ্রমিক নেতাদের অবিলম্বে মুক্তি, হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার এবং আন্দোলনকে কেন্দ্র করে শ্রমিকদের চাকরিচ্যুত বা হয়রানি না করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

সোমবার (২ নভেম্বর) সকালে শ্রম ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান শ্রমিক প্রতিনিধিরা।

সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন- ন্যূনতম মজুরি বোর্ডের শ্রমিক পক্ষের স্থায়ী প্রতিনিধি ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের আনোয়ার হোসাইন।

এতে উপস্থিত ছিলেন ন্যূনতম মজুরি বোর্ডের শ্রমিক প্রতিনিধি ও শ্রমিক নেতা বাবুল আখতার, নাজমা আক্তার, মোছা. সুলতানা বেগম, লাভলী ইয়াসমিন, খালিকুজ্জামান লিপু, সোহেল রানাসহ অন্য শ্রমিক নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনরত শ্রমিকদের ধৈর্য ধারণ করে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা এবং নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরে উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার আহ্বান জানানো হয়।

লিখিত বক্তব্যে শ্রমিক প্রতিনিধিরা বলেন, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেড়েছে। বাসাভাড়া, খাদ্য, চিকিৎসা, শিক্ষা ও পরিবারের অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে তাদের প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি ন্যায্য ও বাস্তবসম্মত মজুরি কাঠামো প্রণয়ন জরুরি।

তারা বলেন, মজুরি বোর্ডের প্রথম উদ্যোগগুলোর একটি হবে গার্মেন্টস খাতের সব শ্রমিক ফেডারেশন ও শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের নিয়ে যৌথ মতবিনিময় সভা করা। সেখানে সবার মতামত, অভিজ্ঞতা, প্রস্তাব ও শ্রমিকদের বাস্তব চাহিদার ভিত্তিতে একটি ঐকমত্যভিত্তিক মজুরি প্রস্তাব তৈরি করে বোর্ডে উপস্থাপন করা হবে।

শ্রমিক প্রতিনিধিরা বলেন, শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ অবস্থানই একটি ভালো মজুরি কাঠামো অর্জনের সবচেয়ে বড় শক্তি। সে কারণে সব মতপার্থক্য ভুলে শ্রমিকদের জন্য ন্যায্য, গ্রহণযোগ্য ও বাস্তবায়নযোগ্য মজুরি নিশ্চিত করতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

আন্দোলনরত শ্রমিকদের উদ্দেশে তারা বলেন, শ্রমিকদের দাবি ও কষ্টের বিষয়টি তারা বোঝেন এবং সম্মান করেন। মজুরি বোর্ডে শ্রমিকদের দাবিগুলো যথাযথভাবে তুলে ধরা হবে। তবে শিল্পের স্বার্থে সবাইকে ধৈর্য ধরে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা এবং কাজে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান তারা।

লিখিত বক্তব্যে আরো বলা হয়, গার্মেন্টস কারখানাগুলোতে কার্যকর ট্রেড ইউনিয়নের অভাব এবং মালিক-শ্রমিক দ্বিপক্ষীয় বা ত্রিপক্ষীয় সামাজিক সংলাপ প্রতিষ্ঠিত না হওয়ায় অনেক সময় শ্রমিক আন্দোলন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

এ সুযোগে তৃতীয় পক্ষ পরিস্থিতির সুযোগ নেয়। এর দায় শ্রমিক সংগঠন বা শ্রমিক শ্রেণির ওপর চাপানো উচিত নয়। এ ধরনের পরিস্থিতির পেছনে কারা জড়িত, তা খুঁজে বের করে ব্যবস্থা নেওয়া সরকারের দায়িত্ব।

আন্দোলনের অজুহাতে সাধারণ শ্রমিক ও কারখানার পর্যায়ের শ্রমিক নেতাদের হয়রানি না করতে পুলিশ ও সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

শ্রমিক প্রতিনিধিরা বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি উপেক্ষা করে শিল্পে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। সে কারণে শ্রমিকদের দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত মজুরি বোর্ডের সভা আহ্বান করতে হবে।

চলমান মজুরি আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে আটক শ্রমিক ও শ্রমিক নেতাদের মুক্তি দাবি করে তারা বলেন, যারা শুধু ন্যায্য মজুরির দাবি উত্থাপন বা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণে আটক হয়েছেন, তাদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে। পাশাপাশি হয়রানিমূলক মামলা ও ব্যবস্থা প্রত্যাহার করতে হবে।

তারা আরো বলেন, আন্দোলনকে কেন্দ্র করে কোনো শ্রমিক যেন চাকরিচ্যুতি, হয়রানি, কালো তালিকাভুক্তি বা প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থার শিকার না হন, তা সরকার ও মালিকপক্ষকে নিশ্চিত করতে হবে।

গ্রহণযোগ্য মজুরি কাঠামো নির্ধারণে শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয়, মূল্যস্ফীতি, পরিবারের মৌলিক চাহিদা এবং শিল্পের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানান শ্রমিক প্রতিনিধিরা।

তারা বলেন, শ্রমিকদের প্রতিনিধি হিসেবে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা, সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করবেন তারা। কোনো একক সিদ্ধান্তের পরিবর্তে সব শ্রমিক ফেডারেশন, কারখানাভিত্তিক ইউনিয়ন ও সাধারণ শ্রমিকদের মতামতের ভিত্তিতে সম্মিলিত অবস্থান তৈরি করতে চান।

শেয়ার করুন!