ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে এখন পর্যন্ত ৬ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন বলে জানিয়েছেন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছেড়ে দেওয়া আসনটির উপনির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন তার ছোটভাই ও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন।
এছাড়া বিএনপির পক্ষ থেকে জেলা বিএনপি’র সহসভাপতি ওবায়দুল্লাহ মাসুদও মনোনয়ন দাখিল করেছেন।
কামরুল ইসলাম জানান, রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঠাকুরগাঁও জেলা নির্বাচন কার্যালয়ে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন মির্জা ফয়সল আমিন।
এ সময় ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীসহ দলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে, দুপুর দেড়টার দিকে মনোনয়ন দাখিল করেন ওবায়দুল্লাহ মাসুদ। এ সময় তার সঙ্গে বিএনপি’র কয়েকজন কর্মী উপস্থিত ছিলেন।
পয়গাম আলী জানান, বিএনপি’র পক্ষ থেকে ২ জন মনোনয়ন দাখিল করেছেন। সব কিছু ঠিক থাকলে প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফয়সল আমিনই চূড়ান্ত হবেন।
মনোনয়ন দাখিল করা বাকি ৪ প্রার্থী হলেন- বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দেলাওয়ার হোসেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাফেজ ডা. মো. খাদেমুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আব্দুল আলীম নিজামি ও বাংলাদেশ কংগ্রেস পার্টির হোসেন মোহাম্মদ ওমর ফারুক।
কামরুল ইসলাম বলেন, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ৬ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।
মনোনয়নপত্র দাখিলের পর মির্জা ফয়সল আমিন বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে ভোটারা আমাকেই নির্বাচিত করবে।
জনগণের প্রত্যাশা পূরণে তিনি কাজ করতে চান। নির্বাচনে দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
অন্যদিকে, ওবায়দুল্লাহ মাসুদ বলেন, বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক দল। সেই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেতে ৩ জন আবেদন করেছিলেন। পরে দল থেকে ২ জনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তাদের একজন জেলা বিএনপি সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন ও অন্যজন আমি।
জামায়াতের দেলোয়ার হোসেন জানান, গ্রামে তিনি ভোটারদের ব্যাপক সমর্থন পাচ্ছেন। বর্তমানে বিএনপি’র কার্যকলাপ মানুষ ভালো চোখে দেখছে না। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের উচ্চমূল্য, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, দুর্নীতি, চুরি, ডাকাতি দেখে ভোটাররা আর বিএনপিকে ভোট দেবে না। সে কারণে জয়লাভের ব্যাপারে তিনি আশাবাদী।
জামায়াতে ইসলামের কর্মীরা আগে থেকেই কাজ শুরু করে দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ২৯ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে। বাছাইয়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত আপিল করা যাবে। আপিল নিষ্পত্তি হবে ৬ অক্টোবর। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষদিন ৭ অক্টোবর এবং প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ৮ অক্টোবর। এরপর ২৯ অক্টোবর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
আসনটি ঠাকুরগাঁও সদর, নব গঠিত রুহিয়া ও ভূল্লী উপজেলা নিয়ে গঠিত। আর এ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ১৬ হাজার ১শ ৩৮ জন।
এর আগে চলতি বছরের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও ঠাকুরগাঁও-১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন দেলোয়ার হোসেন। ওই নির্বাচনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮শ ৩৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন।
তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দী দেলোয়ার হোসেন পেয়েছিলেন ১ লাখ ৪১ হাজার ১৭ ভোট। দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান ছিল ৯৭ হাজার ৮শ ১৯।








