ব্যাটারিচালিত রিকশার নিবন্ধন শুরু সোমবার

01 November, 2026

প্রকাশের সময়: 04:04 pm, 1st Nov, 2026

সর্বশেষ আপডেট: 04:09 pm, 1st Nov, 2026

ব্যাটারিচালিত রিকশা, ছবি- সংগৃহীত

দেশের ১৩টি সিটি কর্পোরেশনে সোমবার থেকে ব্যাটারিচালিত রিকশার নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়সরকার, পল্লীউন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

তিনি বলেন, ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনকে ৮টি জোনে ভাগ করে এসব রিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে। জোনভেদে রিকশার ৮টি রং থাকবে, যাতে এক জোনের রিকশা অন্য জোনে চলতে না পারে। জোনভিত্তিক রিকশার সংখ্যা কত হবে, তা ট্রাফিক বিভাগ ও সিটি কর্পোরেশন আলোচনা করে ঠিক করবে।

রোববার (১ নভেম্বর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলন কক্ষে ‘সিটি কর্পোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা (ই-রিকশা) চলাচল বিধিমালা, ২০২৬’ নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ সব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, ২ জন যাত্রী ক্ষমতা সম্পন্ন ই-রিকশার এককালীন নিবন্ধন ফি ৮ হাজার এবং নবায়ন ফি বাৎসরিক ৪ হাজার টাকা। ৪ জন যাত্রী ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন রিকশার এককালীন নিবন্ধন ফি ১০ হাজার টাকা এবং বাৎসরিক নবায়ন ফি ৫ হাজার টাকা। জাতীয় পরিচয়পত্রধারী একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ৬টি ই-রিকশা নিবন্ধন করতে পারবেন।

ই-রিকশা নিবন্ধন কত দিনের মধ্যে শেষ হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা জানাননি প্রতিমন্ত্রী।

তবে তিনি বলেন, নিবন্ধন কার্যক্রম শুরুর এক মাস পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আবার বসে অগ্রগতি জানানো হবে। সে সময় কতগুলো রিকশার নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে এবং অবৈধ রিকশা নিয়ন্ত্রণে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা তুলে ধরা হবে।

প্রতিটি ই-রিকশায় স্পিডোমিটার স্থাপন করতে হবে জানিয়ে মীর শাহে আলম বলেন, প্রতিটি ই-রিকশার অনুমোদিত গতিসীমা ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটারের বেশি হবে না। স্কুল, হাসপাতাল, ধর্মীয় উপাসনালয়, জনবহুল স্থানে সর্বোচ্চ গতিসীমা হবে ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটার।

তিনি জানান, প্রতিটি ই-রিকশার ইকোনমিক লাইফ টাইম হবে নিবন্ধনের সময় থেকে ১২ বছর পর্যন্ত। বর্তমানে চলাচলরত ই-রিকশা এখনই বন্ধ করা হবে না। মালিকদের আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। বৈধ কিংবা অবৈধ এসব রিকশা আপাতত চলাচল করবে। পর্যায়ক্রমে নিবন্ধন দেওয়া হবে এবং অবৈধ ই-রিকশা অপসারণ করা হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আপাতত চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে না। নিবন্ধন কার্যক্রম কিছুটা এগিয়ে গেলে এ বিষয়ে আলাদা প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। পর্যায়ক্রমে চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্সের আওতায় আনা হবে।

অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে চার্জ দেওয়া হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানিয়ে মীর শাহে আলম বলেন, ই-রিকশার ব্যাটারি চার্জিং স্টেশন থেকেই করতে হবে। নির্দিষ্ট স্থানে চার্জিং স্টেশন স্থাপনের অনুমোদন দেওয়া হবে। সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে রিকশা চার্জ করার ব্যবস্থা করতে পারলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। সিটি কর্পোরেশনের ম্যাজিস্ট্রেটরা এসব কার্যক্রম নিয়মিত তদারকি করবেন।

ই-রিকশা নিবন্ধনের আগে বিদ্যমান যানবাহনগুলোকে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী সংশোধন করতে হবে। এরপরই নিবন্ধন দেওয়া হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বর্তমানে চলাচলকারী ই-রিকশাগুলোকে অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী পরিবর্তন করতে হবে। উৎপাদনকারীরাও অনুমোদিত নকশা অনুসরণ করে যানবাহন তৈরি করবেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, অনেকদিন ধরে দেশের বিভিন্ন শহরে ব্যাটারিচালিত রিকশা আইনগত নিবন্ধন ছাড়াই চলাচল করছে। সিটি কর্পোরেশন আইন, ২০০৯ সংশোধনের মাধ্যমে ই-রিকশা নিবন্ধনের আইনি ভিত্তি তৈরি করা হয়েছে। এ আইনের ১২০ ধারার আলোকে নতুন বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে।

শেয়ার করুন!